Iran

ইরানে বাড়ছে বিক্ষোভ, রয়েছে মার্কিন মদত

আন্তর্জাতিক

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শাসনের বিরুদ্ধে চলা গণবিক্ষোভ ১৩ দিনে পদার্পণ করলো। বিক্ষোভ ঠেকাতে খামেনি সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিলেও কোন কাজ হয়নি। ইরান জুড়ে চলেছে একটাই স্লোগান ‘না গাজা, না লেবানন, জানম ফদায়ে ইরান’ (গাজা নয়, লেবানন নয়, আমার জীবন উৎসর্গ হোক ইরানের জন্য)।
ইরান ইন্টারন্যাশনাল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসফাহান প্রদেশের আসগরাবাদ শহরে বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে এই স্লোগান দিতে থাকেন। গত কয়েক দশক ধরে ইরান সরকার নিজের দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত না করে গাজার হামাস, প্যালেস্টাইন ইসলামিক জিহাদ এবং লেবাননের হিজবুল্লাহর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে বিপুল অর্থ সাহায্য দিয়ে আসছে বলে বিক্ষোভকারিদের অভিযোগ। 
সেই দেশের সংবাদমাধ্য সূত্রে খবর ইরানের ২৬টি প্রদেশের ২২২টিরও বেশি স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ।
বহু জায়গায় ১৯৭৯ সালের বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত পাহলভি রাজবংশ ফিরিয়ে আনার দাবি তোলা হয়েছে। রাজভি খোরাসান প্রদেশের মাশহাদ শহরে বিক্ষোভকারীরা জাতীয় পতাকা ছিঁড়ে ফেলে রাজতন্ত্রের পক্ষে স্লোগান দেন।
সূত্রের খবর সরকারি বাহিনীর গুলিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৫ জন নিহত হয়েছেন এবং ২০,০০০-এর বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পশ্চিমের মালেকশাহি শহরটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে, সেখানে শনিবার রাতে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ৫ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছেন।
ইরানের বিচারবিভাগীয় প্রধান গোলাম হোসেন মোহসেনি এজি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, ‘বিক্ষোভকারীদের প্রতি কোন দয়া দেখানো হবে না।’ অন্যদিকে, ইরান সরকার এই অশান্তির জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেছেন যে, ইরানি সরকার যদি বিক্ষোভের মোকাবিলা বন্ধ না করে, তবে ওয়াশিংটন এর কঠোর জবাব দেবে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনীর গ্রেপ্তার করার পর থেকেই ইরান নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। ওই দেশের প্রাকৃতিক সম্পদে মার্কিন নজর অনেক দিনের। 
গত বছর মার্কিন মদতে ইরান এবং ইজরায়েলের সংঘাতকে কেন্দ্র করে ইরানে জমানা বদলের কথা শোনা গিয়েছিল ট্রাম্পের মুখে। ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় খামেনিকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছে। গত ১৩ জুন প্রথমে ইজরায়েল বিনা প্ররোচনায় ইরানের ওপর হামলা চালায় পরমাণু বোমা তৈরির অভিযোগ তুলে। ইজরায়েলের সঙ্গে যোগ দেয় আমেরিকা। তারপরই কাতারে, পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা সবচেয়ে বড় বিমানঘাঁটিতে জবাবী হামলা চালায় ইরান। গভীর রাতে ইজরায়েল-ইরান সংঘর্ষ বিরতি চুক্তির ঘোষণা করেন ট্রাম্প। ইরান ধারাবাহিক ঘোষণায় বলেছে পরমাণু বোমা তৈরি নয়, শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে পারমাণবিক কর্মসূচি চলছে।

Comments :0

Login to leave a comment