Adivasi Rally Dharmatala

দরকারে ‘নো ভোট টু তৃণমূল’ স্লোগান, হুঁশিয়ারি ধর্মতলার আদিবাসী সমাবেশে

রাজ্য কলকাতা

ইউনাইটেড ফোরাম অব অল আদিবাসী অর্গানাইজেশনসের ডাকে মঙ্গলবার ধর্মতলায় সমাবেশ। ছবি: মনোজ আচার্য

এরাজ্যের মমতা ব্যানার্জির সরকার আদিবাসীদের সঙ্গে যে ভাঁওতা ও প্রবঞ্চনা করছেন তার বিরুদ্ধে আগামী বিধানসভা ভোটে দরকারে ‘নো ভোট টু তৃণমূল’ স্লোগান নিয়ে পথে নামবেন রাজ্যের আদিবাসী মানুষ। 
মঙ্গলবার ধর্মতলায় রানি রাসমণি রোডে আদিবাসী সংগঠনসমূহের সংযুক্ত মঞ্চের তরফে ডাকা  সমাবেশে এই হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের একগুচ্ছ আদিবাসী সংগঠন। আদিবাসীদের সংরক্ষণের জন্য যে শংসাপত্র দেওয়া হয় রাজ্যে তৃণমূলের মদতে সেখানে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগে সরব হয়েছে সব সংগঠন। সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, আদিবাসী নন এমন বিভিন্ন অংশকে দেওয়া হচ্ছে এই ‘এসটি সার্টিফিকেট’। সংরক্ষণের যেটুকু সুবিধা আছে আদিবাসীদের থেকে তা-ও কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। 
ইউনাইটেড ফোরাম অব অল আদিবাসী অর্গানাইজেশনস বলেছে, মুখ্যমন্ত্রী বলছেন জঙ্গল মহল হাসছে। আদিবাসী মানুষ নাকি তৃণমূলের জমানায় খুব ভালো আছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো তৃণমূলের সরকার আসার পর আদিবাসীদের জীবন জীবিকা চরম বিপন্ন। এই সরকার আদিবাসীদের নিজ ভূমে পরবাসী করে তুলছে। জল জঙ্গল জমির অধিকার থাকছে না। আদিবাসী নারীদের ইজ্জত সম্ভ্রম লুট হচ্ছে। শিক্ষা স্বাস্থ্য, জাতিগত শংসাপত্র থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এদিন আদিবাসী সম্প্রদায়ের ৫০ টি সংগঠনের ইউনাইটেড ফোরাম অব অল আদিবাসী অর্গানাইজেশন এর আহ্বানে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে আদিবাসী সংগঠন সমূহের নেতৃবৃন্দ রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া চলতে থাকলে এবারের বিধানসভা ভোটে সমস্ত অংশের আদিবাসী সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষজন ‘নো ভোট টু তৃণমূল‘  স্লোগান নিয়ে পথে নামবেন। 
নেতৃবৃন্দ বলেছেন যে আদিবাসীদের অধিকার, দাবি দ্রুত মেনে না নিলে দীর্ঘ অনশন আন্দোলন শুরু হবে। 
রাজনৈতিক মদতে আদিবাসী নন এমন মানুষকে এসটি সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে। তদন্ত কমিশন গড়ে এমন সার্টিফিকেট বাতিল করার দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন আদিবাসী সংগঠন।
কেন্দ্রের এবং রাজ্যের কাছে দাবি করা হয়েছে যে ২০০৬ সালের বনাঞ্চলে জমির অধিকার আইন কার্যকর করতে হবে। ২০২৩’র বন সংরক্ষণ আইন বাতিল করতে হবে। এই আইন আদিবাসীদের উচ্ছেদের রাস্তা করেছে কর্পোরেটের স্বার্থে।  দাবি করা হয়েছে, আদিবাসী নারীদের উপর ধর্ষণ নির্যাতন বন্ধ করতে হবে, নারী নির্যাতনে যুক্তদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে। 
দাবি উঠেছে, আদিবাসী রায়ত ও পাট্টা জমি জোর করে দখল বন্ধ করতে হবে। আদিবাসীদের শিক্ষা স্বাস্থ্য জীবিকার সুনিশ্চিত গ্যারান্টি দিতে হবে। দাবি সংবলিত স্মারকলিপিও এদিন রাজ্যপাল ও রাজ্য সরকারের কাছে পেশ করা হয়। 
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রামদাস কিস্কু, তপন সর্দার, পারশাল মুর্মু, রবীন সোরেন, দুলাল মুদি, সদানন্দ মু্ড়া, বুবুন মু্ড়া, অসীম সিং, মদন মুর্মু প্রমুখ। 
বক্তারা এদিন কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে বলেন, ভারতের সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা বিআর আম্বেদকর পিছিয়ে পড়া, আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য অধিকার লিপিবদ্ধ করেছিলেন। এখন সেসব পাল্টে দেওয়া হচ্ছে। কাদের এসটি বা আদিবাসী বলা হবে সেটাও অনৈতিক ভাবে গুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। জাতিগত শংসা প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যাপক জালিয়াতি চলছে। যারা প্রকৃত অর্থে আদিবাসী নন তাদের আদিবাসী স্বীকৃতি দিয়ে প্রকৃত আদিবাসীদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। 
নেতৃবৃন্দ বলেন, কেন্দ্রের সরকারের মত এরাজ্যের সরকারও কর্পোরেট স্বার্থে আদিবাসীদের জমি, জঙ্গলের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। কয়লা খনির নামে জমি দখল হচ্ছে। আদিবাসী প্রধান এলাকায় স্কুল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। হস্টেল ব্যবস্থা কার্যত তুলে দেওয়া হচ্ছে। আদিবাসী ছেলেমেয়েদের চাকরির সুযোগ কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। আদিবাসীদের সঙ্গে এই প্রবঞ্চনা বন্ধ না করলে আগামীতে আরও লড়াই সংগ্রামের পথে যাবেন বলেও এদিন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নেতৃবৃন্দ।

Comments :0

Login to leave a comment