Elephant Attack

ঝাড়খণ্ডে হাতির হামলায় এক পরিবারের চার সহ মৃত ৭

জাতীয়

হাতির হামলায় ঝাড়খণ্ডে একই পরিবারের ৪ জন-সহ মোট পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। পশ্চিম সিংভূম জেলার নোয়ামুন্ডি ব্লকের বাবারিয়া গ্রামে একটি বন্য হাতি তাণ্ডবে  এক রাতে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। হাতির হমালায় গত ছয় দিনে মোট ১৭ জন নিহত হয়েছেন। শেষ হামলাটি নোয়ামুন্ডি ব্লকের বাবারিয়া গ্রামে একটি পরিবারকে লক্ষ্য করে। মঙ্গলবার রাতে ওই  হাতিটি পরিবারের উপর আক্রমণ করে পাঁচ সদস্যকে মেরে ফেল। বড় পাসিয়া এবং লাম্পাইসাই গ্রামেও হাতির আক্রমণে দুজনের মৃত্যু  হয়েছে।
জানা গেছে হাতিটি গত ছয় দিন ধরে মানুষের উপর আক্রমণ চালিয়ে আসছে। শুধু মঙ্গলবার রাত নয় ১ জানুয়ারি থেকে ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৭ জনকে পিষে মেরেছে।  হাতির আতঙ্ক এখন এলাকার মানুষ দিন কাটাচ্ছেন।হাতির আতঙ্ক কেবল একটি গ্রামে সীমাবদ্ধ নেই কাছাকাছি আরও তিনটি গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে। নিহতদের পরিবার বন দপ্তর এবং প্রশাসনের কাছে ক্ষতিপূরণ এবং তাদের সুরক্ষা দাবি করেছেন। বন দপ্তর ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিয়েছে।
বাবরিয়া গ্রামে বন্য হাতির আক্রমণে নিহত পাঁচজনের মধ্যে রয়েছেন স্বামী, স্ত্রী এবং তাদের দুই শিশু। মঙ্গলবার রাত ১০টা নাগাদ পরিবারটি যখন ঘুমিয়ে ছিলেন তখন এই হাতিটি হামলা চালায়। সেই সময়ে একটি শিশু পালিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। হাতির আক্রমণে প্রতিবেশী একটি পরিবারের একজন সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে নিহতদের নাম সনাতন মেরাল,  তাঁর স্ত্রী জোনকন কুই, তাদের দুই সন্তান এবং মোগদা লাগুরি। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় ও প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, ঝাড়খন্ডর একাধিক গ্রামে হাতির হমালায় গত ছয় দিনে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রথম হামলার ঘটনায় তিন জনের মৃত্যু হয়। আহত হন দুইজন। হামালার ঘটনাগুলি ঘটেছে ১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার। সেদিন হাতির হামলায় টন্টো ব্লকের বান্দিঝারি গ্রামের বাসিন্দা ৩৫ বছর বয়সী মঙ্গল সিং হেমব্রম’র মৃত্যু হয়। ওইদিন  রাতেই  বীরসিংহাতু গ্রামের কুচুবাসা টোলির বাসিন্দা ৫৫ বছর বয়সী উর্দুপা বাহান্দাও হাতির আক্রমণে প্রাণ হারান। রোরো গ্রামের বাসিন্দা ৫৭ বছর বয়সী বিষ্ণু সুন্দিকে একটি হাতি আক্রমণ করে মেরে ফেলে। ওইদিন রাতে বীরসিংহাতু গ্রামের বাসিন্দা মণি কুন্তিয়া এবং সুখমতি বাহান্দা হাতির আক্রমণে গুরুতর আহত হন কিন্তু প্রাঁণে বেঁচে যান। 
পরের দিন ২ জানুয়ারি শুক্রবার গোয়েলকেরা থানা এলাকার সায়াতওয়া গ্রামের বাসিন্দা মান্দ্রু কায়োমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে রেঙ্গা কায়োমের উপর একটি হাতি হামলা চালিয়ে পা দিয়ে পিষে মারে। চক্রধরপুর থানা এলাকার বাইপি গ্রামের বাসিন্দা নন্দু গাগরাইয়ের ১০ বছর বয়সী মেয়ে ধিংগি গাগরাইও হাতির হামলায় প্রাণ হারায়।
গত শনিবার গোয়েলকেরা ব্লকের সাঁতরা বনাঞ্চলের কুইদা পঞ্চায়েতের অমরাই কিতাপি গ্রামের তোপনোসাই টোলায় বসবাসকারী এক মহিলাকে একটি হাতি পিষে মারে।  তার স্বামী রঞ্জন তোপনো এবং ১০ বছর বয়সী ছেলে কাহিরা তোপনো হাতির আক্রমণে গুরুতর আহত হন।
গত সোমবার গোয়েলকেরার সাঁতরা বনাঞ্চলের অন্তর্গত বিলা পঞ্চায়েতের মিস্ত্রিবেদা বনাঞ্চলের বাসিন্দা ৫০ বছর বয়সী জোঙ্গা লাগুরিকে একটি হাতির পিষে মারে। তাঁর স্বামী চন্দ্র মোহন লাগুরি গুরুতর আহত হন। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মঙ্গলবার গোয়েলকেরার সোয়া গ্রামের বাসিন্দা কুন্দ্রা বাহদা  তাঁর ৬ বছরের ছেলে কোডমা বাহদা এবং ৮ মাসের মেয়ে সামু বাহদা হাতির হামলায় প্রাণ হারায়। তিন বছরের জিঙ্গি বাহদা গুরুতর আহত হয়। সোয়া এবং পাতুং গ্রামের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় হাতিটি সাঁতরা বনাঞ্চলের টোন্টো ব্লকের কুইলসুতা গ্রামে  জগমোহন সাওয়ায়া নামে এক যুবককের উপর হামলা চালিয়ে পা দিয়ে পিষে মারে। 

Comments :0

Login to leave a comment