ED I-PAC

নির্দিষ্ট প্রমানের ভিত্তিতে তল্লাসি, বিবৃতি দিয়ে জানালো ইডি

জাতীয় রাজ্য

কয়লা পাচার কাণ্ডে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পশ্চিমবঙ্গ ও দিল্লির মোট ১০টি স্থানে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) একযোগে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। প্রেস বিবৃতিতে ইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ২০২০ সালের ২৭ নভেম্বর অনুপ মাজি ওরফে লালার বিরুদ্ধে সিবিআই যে এফআইআর (RC0102020A0022) দায়ের করেছিল, সেই সূত্র ধরেই এই আর্থিক তছরুপের মামলার তদন্ত এগোচ্ছে।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, অনুপ মাজি ও তার সিন্ডিকেট ইসিএলের লিজ নেওয়া এলাকা থেকে অবৈধভাবে কয়লা খনন ও পাচার করত। এই পাচার হওয়া কয়লা বাঁকুড়া, বর্ধমান ও পুরুলিয়ার বিভিন্ন কারখানায় বিক্রি করা হতো। ইডি-র দাবি পাচার হওয়া কয়লার একটি বড় অংশ শাকম্ভরী গ্রুপ অফ কোম্পানিজ কিনেছে। এই ঘটনায় কয়েক দশ কোটি টাকার একটি বিশাল হাওলা চক্রের সন্ধান মিলেছে। তদন্তে উঠে এসেছে যে, জনৈক হাওলা অপারেটর এই কয়লা পাচারের টাকা পাচার বা 'লেয়ারিং' করার মাধ্যমে ইন্ডিয়ান প্যাক কনসাল্টিং প্রাইভেট লিমিটেড (I-PAC)-এ পাঠিয়েছেন।
ইডি এদিন যখন আই-প্যাকের দপ্তর এবং প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাসি চালাচ্ছে তখন সেখানে পুলিশ নিয়ে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তদন্তকারি সংস্থার অভিযোগ সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে মুখ্যমন্ত্রী তাদের থেকে ফাইল ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছেন।
বিবৃতিতে ইডি বলেছে, এদিন প্রতীক জৈনের বাড়ি তল্লাসি চলাকালিন কলকাতার ডেপুটি-পুলিশ কমিশনার এবং স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকরা ইডি আধিকারিকদের পরিচয় যাচাইয়ের নামে সেখানে প্রবেশ করেন। এর কিছুক্ষণ পরেই কলকাতা পুলিশ কমিশনার এবং বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়। ইডি আধিকারিকরা তাদের পরিচয়পত্র দেখালেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ইডি বলেছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রতীক জৈনের বাসভবনে প্রবেশ করেন এবং সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস সরিয়ে নিয়ে যান। এরপর তার কনভয় আই-প্যাকের অফিসে যায়, সেখান থেকেও মুখ্যমন্ত্রী ও তার সহযোগীরা বলপূর্বক বিভিন্ন নথি সংগ্রহ করেন।
তদন্তকারী সংস্থা স্পষ্ট জানিয়েছে যে, এই তল্লাশি সম্পূর্ণ তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এবং অর্থপাচারের বিরুদ্ধে একটি নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। এর সঙ্গে কোন রাজনৈতিক দল বা নির্বাচনের সম্পর্ক নেই। কেন্দ্রীয় সংস্থার পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ তদন্তে সরাসরি বাধা সৃষ্টি করেছে।

Comments :0

Login to leave a comment