I-PAC ED Congress

মমতার এত উদ্বেগ কেন? প্রশ্ন অধীরের, ছোটাছুটিতে প্রশ্ন কংগ্রেসেরও

রাজ্য

বেসরকারি বাণিজ্যিক সংস্থা আইপ্যাকে ইডি তল্লাশি হলে মমতা ব্যানার্জি এত উদ্বিগ্ন হবেন কেন? বৃহস্পতিবার তৃণমূলের ‘ভোট ম্যানেজার’ সংস্থা আইপ্যাকে তল্লাশি প্রসঙ্গে এই মন্তব্য করেছেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। 
প্রদেশ কংগ্রেসও মুখ্যমন্ত্রীর তৎপরতায় প্রশ্ন তুলে বলেছে যে সাংবিধানিক পদের অপব্যবহার করে তল্লাশির মাঝে নথিপত্র বের করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন ভোর থেকে থেকে আইপ্যাকের প্রধান প্রতীক জৈনের বাসভবন, সল্টলেকে সংস্থার দপ্তর সহ একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি। দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রী লাউডন স্ট্রিটে জৈনের বাসভবন বা সল্টলেকে সেক্টর ফাইভে আইপঙাকের দপ্তরে ছুটে ঢুকছেন। ফাইল নিয়ে বেরতে দেখা যায় তল্লাশির মাঝেই। এমনকি সল্টলেকে পুলিশের গাড়িতে আইপ্যাকের দপ্তর থেকে বের করে তৃণমূলের ‘দলীয় ফাইল‘ তোলা হয় মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে। 
এর আগে চিট ফান্ড তদন্তে কলকাতা পুলিশের তৎকালীন কমিশনার রাজীব কুমারের বাড়িতে কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তের সময় মুখ্যমন্ত্রীকে ছুটে যেতে দেখা গিয়েছিল। এদিনও এখন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারকে দেখা গিয়েছে সল্টলেকে। কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মাকে দেখা গিয়েছে লাউডন স্ট্রিটে।
এদিন প্রদেশ কংগ্রেস দপ্তরে সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয় প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে আইপ্যাক- র দপ্তর থেকে ফাইল, হার্ডডিস্ক, ল্যাপটপ বের করে নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। স্থানীয় দুর্বৃত্তরা এমন কাজ করে থাকে। 
এদিকে অধীর বলেছেন, ‘‘আইপ্যাককে তৃণমূল দায়িত্ব দিয়েছে যে কোনও ভাবে ভোট জেতানোর জন্য। তারা যে কোনও স্তরে যেতে পারে। বিভিন্ন স্তরে নির্দেশ দিয়ে পাঠায়।’’ তিনি বলেন, ‘‘আইপ্যাক নিজে ভোট না লড়লেও তারাই তৃণমূল দলটিকে চালায়। কে  নেতা হবে, কে প্রার্থী হবে এরা ঠিক করে। তার বিনিময়ে টাকা তোলে। নিজেদের ভাগ রেখে বাকিটা তৃণমূল দপ্তরে পাঠায় এই সংস্থা।’’ 
এদিন প্রদেশ কংগ্রেস দপ্তর বিধান ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করেন কংগ্রেস নেতা সুমন রায় চৌধুরী মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মিতা রায় চৌধুরী ও রোহন মিত্র। তাঁরা বলেছেন যে নির্বাচন সামনে বলেই এমন তৎপরতা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার। কেননা ২০১৪’র পর থেকে অর্থ তছরুপের বহু মামলায় তদন্ত করেছে ইডি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত মাত্র কয়েকটিতেই ইডি তদন্ত শেষ করতে পেরেছে। রাজ্যেও প্রতিটি ভোটের আগে কেন্দ্রীয় সংস্থা তল্লাশির মতো তৎপরতা চালায়। কিন্তু তৃণমূলের একের পর এক দুর্নীতির কিনারা হয় না।
প্রদেশ নেতৃত্ব মুখ্যমন্ত্রীর ছোটাছুটিতে প্রশ্ন তুলে বলেন, আইপ্যাক-র মতো একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ইডি যখন তল্লাশি চালাচ্ছিল তখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে সঙ্গে নিয়ে কোন কারণে সেখানে ছুটে গেলেন? কিভাবেই বা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তল্লাশি চলাকালীন আইপ্যাকের দপ্তর থেকে ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসেন মুখ্যমন্ত্রী? 
এদিন পরে ইডি-র বিবৃতিতে বলা হয় যে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। 
কংগ্রেস নেতা সুমন রায় চৌধুরীর অভিযোগ ভোটের আগে তৃণমূল-বিজেপি’র বাইনারি তৈরিতে এই তল্লাশি পরিকল্পিত চিত্রনাট্য।

Comments :0

Login to leave a comment