অমিত কুমার দেব
কোচবিহার জেলাকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে যেতে একমাত্র ভরসা বামপন্থাই। শিল্প চাই, কাজ চাই, বাম পথে বাংলা চাই এই স্লোগানকে সামনে রেখে ২৮ জানুয়ারি নিউ কোচবিহার এলাকার স্পোর্টস হাবের জন্য প্রস্তাবিত জমির সামনে থেকে চকচকা শিল্প বিকাশ কেন্দ্র পর্যন্ত মিছিল এবং মিছিল শেষে সভা করবে ভারতের গণতান্ত্রিক যুব ফেডারেশন। মঙ্গলবার কোচবিহারে সংগঠনের সাংগঠনিক সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একথা জানালেন ডিওয়াইএফআই রাজ্য সম্পাদক ধ্রুবজ্যোতি সাহা।
কোচবিহার জেলার বেকার যুবক যুবতীদের কর্মসংস্থান সুনিশ্চিত করতে জেলার চকচকা শিল্প বিকাশ কেন্দ্রে অবিলম্বে কৃষিভিত্তিক ভারি শিল্প স্থাপন, নিউ কোচবিহার এলাকায় স্পোর্টস হাবের জন্য অধিগৃহীত জমিতে অবিলম্বে স্পোর্টস হাবের কাজ শুরু করার দাবি সহ একাধিক দাবি উত্থাপিত হবে এই কর্মসূচিতে বলে এদিন জানলেন তিনি। এদিনের এই সাংবাদিক বৈঠকে ধ্রুবজ্যোতি সাহা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ডিওয়াইএফআই কোচবিহার জেলা সম্পাদক ইউসুফ আলি, সভাপতি মানস বর্মন, যুবনেত্রী সুমনা আহমেদ, যুব নেতা শুভ্রালোক দাস প্রমুখ।
কোচবিহার জেলার সর্বাধিক উৎপাদিত উৎকৃষ্ট ফসল হলো পাট। এই উৎপাদিত পাট বিক্রি করবার ক্ষেত্রে পাট চাষিদের যাতে কোনও সমস্যায় পড়তে না হয় এবং তারা যাতে ন্যায্যমূল্যে এই পাট বিক্রি করতে পারেন এই উদ্দেশ্যে এবং এর পাশাপাশি এই পাটকে ঘিরে যাতে কোচবিহারের মত জেলায় শিল্প সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হতে পারে, এদিকে লক্ষ্য রেখেই ২০০৭সাল নাগাদ এই চকচকা শিল্প বিকাশ কেন্দ্র সংলগ্ন প্রায় ২৩একর জমি অধিগ্রহণ করেছিল সরকার। এই অধিগৃহীত জমিতে জুট পার্ক স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল রাজ্যের বিগত বামফ্রন্ট সরকার। কিন্তু ২০১১সালে রাজ্যের ক্ষমতা পরিবর্তন হওয়ার পর এই শিল্প সম্ভাবনা বর্তমানে বিশবাঁও জলে।
অন্যদিকে, ২০২২সালের ২১মে নিউ কোচবিহার রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় শিলান্যাস হয় অ্যাডভান্সড ইন্টিগ্রেটেড "স্পোর্টস হাব"এর। ২৫একর জমিতে গড়ে উঠবে এই স্পোর্টস হাবটি বলে ঘোষণা হয়৷ এর জন্য প্রায় ২৫০কোটি টাকা ব্যয় করা হবে এবং ২০২৪সালের মধ্যে এই স্পোর্টস হাব নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবার কথা ঘোষণা করা হলেও এই মুহূর্তে স্পোর্টস হাব নির্মাণের কাজ রয়েছে একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে। ২০১৯সালের লোকসভা নির্বাচনে কোচবিহার লোকসভা আসন থেকে জয়ী হওয়া সাংসদ তথা ভারত সরকারের তৎকালীন ক্রীড়া, যুব কল্যাণ ও স্বরাষ্ট্র দপ্তরের মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। গত লোকসভা নির্বাচনে এই কোচবিহার লোকসভা আসনে হার স্বীকার করতে হয়েছে নিশীথ প্রামাণিককে। আর এই মুহূর্তে তাই এই প্রকল্প পড়েছে মুখ থুবড়ে।
দ্রুত এই শিল্প বিকাশ কেন্দ্রের পুনরুদ্ধার, জুট পার্ক স্থাপন, স্পোর্টস হাব নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করার দাবিত একাধিক দাবিতে সোচ্চার হবে ডিওয়াইএফআই বলে জানান ধ্রুবজ্যোতি সাহা। তিনি বলেন, "মন্দির হতে পারে, মসজিদ হতে পারে। কিন্তু মন্দিরের বাইরে মসজিদের বাইরে বাংলার বেকার যুবক-যুবতীদেরকে যাতে ভিক্ষার ঝুলি হাতে নিয়ে বসে থাকতে না হয়! তাই শিল্পের জমিতে শিল্প স্থাপনের দাবি তুলেছে ডিওয়াইএফআই। ১৭জানুয়ারি 'শিল্প চাই- কাজ চাই- বাম পথে বাংলা চাই' এই স্লোগানকে সামনে রেখে বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের সামনে রক্তদান শিবির, মিছিল ও সমাবেশের মধ্য দিয়ে আন্দোলন কর্মসূচি শুরু করবে ডিওয়াইএফআই। রাজ্যের প্রতিটি জেলায় বন্ধ কারখানার গেট, জমি অধিগ্রহণ হয়েছে কিন্তু কারখানা হয়নি, এই সমস্ত এলাকায় হবে এই কর্মসূচি। প্রথম পর্যায়ে ৩১জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই কর্মসূচি। পরবর্তীতে মাধ্যমিক,উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শেষে দ্বিতীয় ধাপে আবারও এই কর্মসূচি শুরু করবে ডিওয়াইএফআই বলে জানান ধ্রুবজ্যোতি সাহা।
Comments :0