migrant worker

পরিযায়ীরা আক্রান্ত, কোথায় রাজ্যের সরকার, বহরমপুরে ডেপুটেশন সিআইটিইউ’র

রাজ্য জেলা

ভিনরাজ্যে পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিকদের উপর আক্রমণ রুখতে প্রশাসনিক স্তরে কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না রাজ্যের সরকার। কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে পরিযায়ী শ্রমিকদের কাজের অধিকারের ওপর হামলা হচ্ছে। দেশের সর্বত্র বন্ধ করতে হবে। ভূমিকা নিতে হবে রাজ্যের সরকারকে। 
ওডিশায় নিহত পরিযায়ী শ্রমিক জুয়েল রানার খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ডেপুটেশনে এই দাবি তুলল ওয়েস্ট বেঙ্গল মাইগ্রান্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন। শুক্রবার বহরমপুরে মুর্শিদাবাদের জেলা শাসকের দপ্তরে ডেপুটেশন দেওয়া হয়। 
দেশের বিভিন্ন জায়গায় বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলাদেশী বলে নিগ্রহ হচ্ছে। তাঁদের মারধরের ঘটনা সমানে সামনে আসছে। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সিপিআই(এম)। বামফ্রন্টের বিক্ষোভ হয়েছে কলকাতার উৎকল ভবনের সামনেও।  
বিজেপি পরিচালিত রাজ্যগুলিতে এই আক্রমণ বেশি হচ্ছে। 
সম্প্রতি ওড়িশায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই ধরণের ঘটনা দেখা যাচ্ছে। সে রাজ্যের সম্বলপুরে দলবেঁধে আক্রমণ করে হত্যা করা হয়েছে মুর্শিদাবাদের সুতির জুয়েল রানাকে। রাজ্যের তৃণমূল সরকার মুখে একাধিক কথা বললেও পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে কোনও উদ্যোগও নেয়নি। প্রশাসনিক স্তরে কথাবার্তা বলা বা চাপ দিতে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে না। রাজ্য প্রশাসন বা পুলিশের শীর্ষ স্তর থেকে অন্য রাজ্যের সঙ্গে কথা বলতেও দেখা যাচ্ছে না। কয়েকটি ক্ষেত্র ছাড়া তৃণমূলের সাংসদদের বা প্রতিনিধিদলকে ছুটে যেতে দেখা যাচ্ছে না। 
সিআইটিইউ’র দাবি, অবিলম্বে ভিন রাজ্যে শ্রমিকদের কাজের অধিকার, নিরাপত্তা রক্ষা করতে হবে। রাজ্য সরকারকে অন্যান্য রাজ্যের সরকারের সঙ্গে প্রশাসনিক যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নিতে হবে। ওড়িশায় পরিযায়ী শ্রমিক জুয়েল রাণার খুনীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে দিতে হবে। দেশজুড়ে থানায় ডেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে।   
সিআইটিইউ বিভিন্ন ঘটনায় সংশ্লিষ্ট রাজ্যে সংগঠনের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ভূমিকা নিয়েছে। প্রশাসনিক স্তরে যোগাযোগ করেছে। রাজ্য বা জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট স্তরেও চাপ তৈরি করে ভূমিকা নিয়েছে বারবার। পৌঁছেছে আক্রান্ত শ্রমিক পরিবারে।
শুক্রবার বহরমপুরে জেলা শাসকের দপ্তরে ডেপুটেশন ওয়েস্ট বেঙ্গল মাইগ্রান্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন পক্ষে ছিলেন কামাল হোসেন, রফিকুল ইসলাম,  প্রণব বিশ্বাসের নেতৃত্বে ৬ জনের প্রতিনিধিদল। 
ওয়েস্ট বেঙ্গল মাইগ্রান্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের জেলা সম্পাদক কামাল হোসেন বলেন, "রাজ্যে কাজ নেই। তাই লক্ষ লক্ষ মানুষকে ভিনরাজ্যে কাজ করতে যেতে হচ্ছে। তাঁরা আক্রান্ত হচ্ছেন। রাজ্যে শাসক দল উৎসবে ব্যস্ত। দ্রুত শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে আন্দোলন গড়ে তুলবেন।" 
পরিযায়ী শ্রমিকরা অভিযোগ করছেন যে তাঁদের উপর হঠাৎ করেই চড়াও হচ্ছেন উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিভিন্ন অংশ। বলা হচ্ছে, ‘তোরা বাংলাদেশী‘। বৈধ পরিচয় পত্র থাকা সত্ত্বেও তাঁদের বীভৎস ভাবে মারা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রতিনিধি হিসাবে রেসিডেন্ট কমিশনাররা থাকেন। অভিযোগ, তাঁদের সক্রিয় ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। দেখা নেই বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠান বা মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহেরের। 
উল্লেখ্য, বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন।

Comments :0

Login to leave a comment