রাজ্যে দুজন নিপা ভাইরাসে আক্রান্তের হদিস মিলেছে। কিন্তু এই নিয়ে জনস্বাস্থ্য ও সচেতনতা বৃদ্ধির স্বার্থে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রধান সচিবকে চিঠি লিখেছেন সরকারি চিকিৎসকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ হেলথ সার্ভিস ডক্টরসের সম্পাদক ডাক্তার উৎপল ব্যানার্জি। এদিন রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বাস্থ্যসচিব ও স্বাস্থ্য আধিকারিকদের নিয়ে জরুরি বৈঠক হয়েছে।
বর্ধমানের দুজন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মী নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে কল্যাণী এমস। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি, পুনেতে তাদের নমুনাও পাঠানো হয়েছে। জানা গিয়েছে গত ৩১ ডিসেম্বর থেকেই অসুস্থ ছিলেন তাঁরা। ৩ জানুয়ারি কাটোয়া হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। অবস্থার পরিবর্তন না হওয়ায় বর্ধমানের রেফার করা হয়। সেখানে দুদিন আইসিইউতে ভর্তি থাকেন। ৬ জানুয়ারি কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাদের ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসকরা সন্দেহ করেন ভাইরাস সংক্রমণের।
নিপা ভাইরাস আক্রান্তের হদিস মেলায় একটি বৈঠকে বসে রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা। সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল অফিসার ও মেডিকেল কলেজগুলির সুপার দের সাথে বৈঠক করেন। স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা নির্দেশ দিয়েছেন ওই দুজন যাদের সংস্পর্শে এসেছে তাদেরকেও চিহ্নিত করে আলাদা করে রাখা।
ডাক্তার উৎপল ব্যানার্জি বলেছেন যে নিপা ভাইরাস খুবই সংক্রামক। এবং সংক্রমনে মৃত্যুহারও অনেক বেশি। তিনি দাবি করেছেন, অবিলম্বে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরকে। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে ২০২০-২১ সালে কোভিড মহামারীর সময় সরকার ও স্বাস্থ্য দপ্তর একাধিক তথ্য গোপন করে গিয়েছে। তাই এই পরিস্থিতিতে সকল প্রয়োজনীয় তথ্য প্রতিদিন বুলেটিন আকারে প্রকাশ করা হোক। এছাড়াও নিপা ভাইরাস সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সমস্ত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হোক।
প্রাথমিকভাবে এই ভাইরাসকে রক্ষার জন্য দরকার সচেতনতা। মূলত বাদুর থেকে এই ভাইরাস ছড়ায়। যে এলাকায় বাদুর রয়েছে বা যেখানে বাদুর বিভিন্ন গাছে বসে এবং ফল খায় সেখান থেকে সচেতন থাকতে হবে। এছাড়াও বিভিন্ন জীবজন্তুর গায়ে বাদুড় বসলে তার মাধ্যমে এই সংক্রমণ ছড়াতে পারে। প্রাথমিকভাবে এই সংক্রমণে অন্যান্য ভাইরাল সংক্রমণের মতো হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ ও টেস্ট করা প্রয়োজনীয়।
Comments :0