অরিজিৎ মণ্ডল: পানিহাটি
লালঝাণ্ডা দুর্বল হয়েছে। জোর বেড়েছে বুলডোজার রাজনীতির। স্বাধীনতার সময় দেশভাগের ক্ষত নিয়ে উদ্বাস্তু মানুষ লড়াইয়ের জন্য লালঝান্ডাকেই বেছে নিয়েছিলেন। কেবল নিজের নয়, এলাকার-রাজ্যের-দেশকে গড়েছিলেন। দুর্নীতি, ধর্মাশ্রয়ী বিভাজনের রাজনীতিকে হারিয়ে দেশ বাঁচাতে হবে। বাংলাকে বাঁচাতে হবে। এককাট্টা হয়ে ফের ধরতে হবে লালঝান্ডাকেই।
রবিবার পানিহাটিতে সম্মিলিত কেন্দ্রীয় উদ্বাস্তু পরিষদের সমাবেশে এই আহ্বান জানালেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। সংগঠনের ২০তম রাজ্য সম্মেলনের প্রকাশ্য সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বক্তব্য রাখেন গণআন্দোলনের নেতা সুজন চক্রবর্তী, পলাশ দাস, সুমিত দে।
সেলিম বলেন, যখন দেশভাগের সময় উদ্বাস্তুরা এলেন, তখনও জমিদার-শাসক ছিল। তখন লালঝান্ডা শক্তিশালী ছিল। তাই লড়াই হয়েছিল। আজ পরিচয়বাদী রাজনীতি করে একে অন্যের থেকে আলাদা করা হলো। ওদের শোষণের যন্ত্র এক জায়গায় এল। আর আপনার কোদাল, কাস্তে, হাতুড়ি আলাদা হলো। তৃণমূলকে তৈরি করা হয়েছিল মেহনতির লড়াইকে ভাঙার জন্য। ধর্মাশ্রয়ী রাজনীতিকে ব্যবহার করা হলো।
তিনি বলেন, ধর্মে কারও আপত্তি নেই। কিন্তু সেই বিশ্বাসকে ব্যবহার করে ভোটবাক্স ভরার রাজনীতিতে আমাদের আপত্তি। এই কৌশল বিভাজনের রাজনীতি। কী খাব, কী পরব তার অধিকার নাগরিকের। এসআইআর বা সিএএ’র নামে এই অধিকারকে কেড়ে নিচ্ছে।
সেলিম বলেন, আজকে কলোনির চেহারা বদলেছে। যে রাজনীতি মনে করেছিল পুনর্বাসন ছাড়া মানুষকে উচ্ছেদ করা যায়, লড়াই ছিল তার বিরুদ্ধে। লড়াই ছিল অধিকারের। সেই লড়াইয়ে কলোনি এলাকায় মানুষ কেবল নিজেকে নিয়ে ভাবেননি, এই রাজ্য এই দেশের জন্য পরিকল্পনা করেছেন। কোনও কলোনি পাবেন না যেখানে লালঝান্ডার শহীদ বেদী নেই। তাই আজ সরকারকে বদলাতে হলে কোনও সিবিআই, ইডি’র প্রয়োজন নেই। নবান্নকে কোনও ছাপ্পান্ন শায়েস্তা করবে না।
তিনি বলেন, বাংলাকে বাঁচানোর লড়াই আজ। বাংলা না বাঁচলে দেশ বাঁচবে না। তাই এককাট্টা থেকে সেই লড়াই করতে হবে। বাংলাকে বাঁচানোর পথ আমাদের নিতে হবে, সেই পথ লালঝান্ডার।
সেলিম বলেন, রাজ্যজুড়ে উদ্বাস্তু, অসহায় মানুষের পাশে থাকতে হবে। অসমাপ্ত কাজ আছে। নিঃশর্ত দলিল, কেন্দ্রের বরাদ্দ আদায়, বাস্তুহারা মানুষের অধিকারের সঙ্গে অন্য অংশের মানুষের লড়াইয়ের মেলবন্ধন ঘটাতে হবে। সম্প্রীতির সাঁকো বানানো থেকে মহিলাদের অধিকারের লড়াইয়ে একসঙ্গে নামতে হবে।
তিনি বলেন, প্রথম দিন থেকে দেশভাগের পরিণতি যা হলো তার বিরুদ্ধে লড়াই সংগঠিত করেছে কমিউনিস্টরা। সমর মুখার্জি উদ্বাস্তু আন্দোলনের নেতা তিনি কিন্তু এপার বাংলারই মানুষ ছিলেন। আমরা উদ্বাস্তু বা এপার, এমন বিভাজন কখনও করিনি। দেশভাগের সময় পশ্চিম পাকিস্তানের উদ্বাস্তুদের সমস্যাকে গুরুত্ব দেওয়া হলো। পূর্ব পাকিস্তানের উদ্বাস্তু, যাঁরা পশ্চিমবঙ্গে এলেন, তাঁদের সমস্যাকে গুরুত্ব দেওয়া হলো না। তাই আন্দোলন করতে হয়েছে।
তিনি বলেন, অনেক লড়াই করে আমরা হলদিয়া বন্দর পেলাম। কিন্তু পশ্চিম ভারতে করাচি বন্দর চলে গিয়েছিল বলে দ্রুত কান্দলা বন্দর করা হয়েছিল। আজ ফের বলা হচ্ছে পশ্চিম ভারত পূর্ব ভারতকে, গোটা ভারতকে শাসন করবে। যেন ওয়েস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি! তিনি বলেন, আমরা চেয়েছিলাম কারখানা করতে। সিঙ্গুর সে কারণে। আমরা দেখছিলাম পুরনো কারখানা বন্ধ হচ্ছে। আমরা নতুন শিল্প-পরিষেবা করতে চেয়েছিলাম। তাই আমরা সেক্টর ফাইভ করেছিলাম তথ্য প্রযুক্তি শিল্পের জন্য।
ইডি তদন্ত প্রসঙ্গে সেলিম বলেন, মুখ্যমন্ত্রী বলছেন কার টাকা কোথায় গিয়েছে সব জানেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীও বলেন তিনি সব জানেন। তা’হলে ধরছেন না কেন? অনুব্রত, পার্থ চ্যাটার্জিরা তো জেল থেকে বেরিয়ে গিয়েছেন। একে বলে জ্ঞানপাপী। তিনি বলেন, অনেকে বলেছিলেন, বামপন্থীরা দুর্বল। এরা ভদ্রলোক। নবান্নকে শায়েস্তা করতে হলে ছাপ্পান্নকে টেনে আনতে হবে। গণমাধ্যমে সেই আবহ তৈরি করা হয়েছিল। কিছু হলো? ভোটের নির্ঘন্ট মেনে ইডি, সিবিআই মেনে আসে। প্রতিবারই বলা হয় এবার ভাইপোকে ধরবে, তারপর পিসিকে ধরবে। ভোট চলে যায় ইডি, সিবিআই-কে মোদী-অমিত শাহ ঝাঁপিতে ভরে দেয়।
UCRC Md Salim
এককাট্টা হয়ে ধরতে হবে লালঝান্ডাকেই, আহ্বান সেলিমের
পানিহাটিতে সম্মিলিত কেন্দ্রীয় বাস্তুহারা পরিষদের রাজ্য সম্মেলনের প্রকাশ্য সমাবেশে মহম্মদ সেলিম। ছবি: অভিজিৎ বসু, ভিডিও: প্রিতম ঘোষ
×
Comments :0