পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার গঠনের পর পাহাড় ও সমতলের ৩১ টি ট্রেড ইউনিয়নের জয়েন্ট ফোরামের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার শিলিগুড়ি দাগাপুর স্থিত শ্রমিক ভবনে এই বৈঠক হয়। বৈঠকে বন্ধ চা বাগানের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি, নিয়মিত রেশন, স্বাস্থ্য পরিসেবা, শিক্ষা, বকেয়া মজুরি প্রদান সহ বিভিন্ন দীর্ঘদিনের সমস্যা ও তার সমাধান বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। শ্রমিকদের অধিকারের সুরক্ষার প্রশ্নে এবং দাবি দাওয়া আদায়ের লক্ষ্যে আগামী দিনের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের রূপরেখা নিয়েও এদিনের বৈঠকে মতামত বিনিময় করেছেন জয়েন্ট ফোরামের প্রতিনিধিরা। এদিনের এই বৈঠকে ছিলেন জয়েন্ট ফোরামের পক্ষে জিয়াউল আলম, সমন পাঠক, অভিজিৎ মজুমদার, অলোক চক্রবর্তী, দিলীপ দাস, গোপাল প্রধান সহ অন্যান্য ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা। এদিনের বৈঠক প্রসঙ্গে জয়েন্ট ফোরামের আহ্বায়ক জিয়াউল আলম বলেন, বন্ধ চা বাগানের শ্রমিকরা খুবই দুর্দশার মধ্যে দিয়ে দিন যাপন করছেন। বন্ধ বাগান গুলিতে সবদিক থেকে সংকট ক্রমশ তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। চা বাগানে শ্রমিকদের দুর্দশা দূর করতে নতুন সরকারের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হবে। বাগিচা শ্রমিকদের স্বার্থে প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তিনি জানান, বন্ধ চা বাগানের শ্রমিকদের হাল ফেরাতে, শ্রমিকদের স্বার্থে নূন্যতম মজুরি দ্রুততার সাথে কার্যকরী করার দাবি সহ চা বাগানের সমস্যা গুলিকে সামনে রেখে বৈঠকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি মাসেই বেশ কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। সমস্ত ট্রেড ইউনিয়ন ঐক্যবদ্ধভাবে এই আন্দোলন কর্মসূচিতে চা শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া বিষয়ে সামিল হবেন। চা শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার দাবিও থাকছে আন্দোলনে। চা বাগান গুলিতে সুস্থ স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে চা বাগান মালিকদের কাছে যেমন যাওয়া হবে সেই রকম ভাবেই নতুন সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেন তিনি। বাগিচা শিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে নবগঠিত রাজ্যের সরকার ইতিবাচক ভূমিকা গ্রহণ করবেন সেই আশা ব্যক্ত করেছেন জয়েন্ট ফোরামের আহ্বায়ক।
Joint Forum Meeting
চা শ্রমিকদের সমস্যার সমাধানে জয়েন্ট ফোরামের বৈঠক
×
Comments :0