মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বা নির্বাচন কমিশনারদের জীবনভর আইনি সুরক্ষা কেন? সংশ্লিষ্ট আইনের এই দারার সাংবিধানিক বৈধতা আছে কি?
এই প্রশ্ন তুলেই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন দায়ের করেছে নাগরিক সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস বা এডিআর। আবেদনের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে বক্তব্য জানাতে বলে নোটিশ পাঠালো সুপ্রিম কোর্ট।
২০২৩ সালে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন পাশ করে কেন্দ্র। বাছাই কমিটিতে সরকার পক্ষের নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতা নিশ্চিত করা হয় আইনে। সেই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনারদের সারা জীবন আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয় আইনে ১৬ নম্বর ধারায়।
এসআইআর বিতর্কের আবহে এই সুরক্ষা এবং গোটা আইনটিই প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছে। এই আইন পাশ করিয়ে কমিশনকে দিয়ে বেআইনি এসআইআর করানোর অভিযোগ উঠেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, সুপ্রিম কোর্টে এডিআর’র আবেদনে বলা হয়েছে যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের আইনের ১৬ নম্বর ধারাটি অসাংবিধানিক। সংবিধানের ১৪ ও ২১ ধারার বিরোধী। এই আইন পাশ হওয়ার পর থেকে নিযুক্ত আসীন এবং অবসরপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশনার ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারদের তদন্তের আওতায় আনা হোক।
আইনের ১৬ ধারায় বলা রয়েছে যে কোনও আদালত মুখ্য ননির্বাচন কমিশনারর বা কোনও নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ফিজদারি বা দেওয়ানি কোনও বিধিতে অপরাধের বিচার করতে পারবে না। তাঁর পদে থাকাকালীন কোনও কাজ, কোনও বক্তব্য বা অন্য কিছুর জন্য কখনই তিনি বিচারের আওতায় আসবেন না।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পদে নিযুক্ত জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ২০২৩’র বিতর্কিত আইনটিও ভাঙার অভিযোগ রয়েছে। কারণ আইনে বলা রয়েছে সর্বসম্মতিতে অথবা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বেরিয়ে পড়েছে যে দুই কমিশনারের আপত্তি অগ্রাহ্য করে এসআইআর সংক্রান্ত একের পর এক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার। ফর্ম-৬ বদলে দেওয়া হয়েছে একতরফা সিদ্ধান্তে। এমনকি নতুন নাম তালিকায় যুক্ত হয়েছে এমন ১৬ লক্ষ নামে পশ্চিমবঙ্গের বিচারবিভাগীয় ট্রাইবুনালে আবেদন জানিয়েছে কমিশন। এই সিদ্ধান্ত কোথায় হয়েছে জ্ঞানেশ কুমারকে তা নিয়েও প্রশ্নের মুখে ফেলেন বাকি দুই কমিশনার সুখবিন্দর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী।
CEC Act Supreme Court
নির্বাচন কমিশনারদের সারা জীবনের আইনি সুরক্ষা কেন, কমিশন-কেন্দ্রকে নোটিশ সুপ্রিম কোর্টের
×
Comments :0