Annapurna Bhandar

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জন্য থিকথিকে ভিড় ডাকঘরে, অব্যবস্থায় তীব্র ক্ষোভ

জেলা

আধার কার্ড সংশোধনের জন্য রানিগঞ্জ মূখ্য ডাকঘরের বাইরে লম্বা লাইন। ছবি- মলয়কান্তি মণ্ডল

সাতসকাল থেকেই রানিগঞ্জ পোস্ট অফিসের সামনে থিকথিকে ভিড়। প্রতিদিনই লম্বা লাইন। রোদ-জল মাথায় নিয়েই লাইনে দাঁড়িয়েছেন বহু মানুষ। 
লক্ষ্য একটিই, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আবেদন পত্রের সাথে নির্ভুল তথ্য দিতে আধার কার্ডের ভুল সংশোধন বা নতুন করে বায়োমেট্রিক আপডেট করা। কিন্তু দীর্ঘ প্রতীক্ষার জেরে ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন গ্রাহকেরা।
এদিনই তারকেশ্বরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জনসভায় জানতে চেয়েছেন, ‘পরিবর্তন ভালো লাগছে তো’! অন্নপূর্ণা যোজনা ঘরে ঘরে পৌঁছানোর দাবি করেছেন। এদিকে বারো পাতার ফর্ম ভরতে ঘরে ঘরে নাজেহাল মহিলারা। সেই ছবি রানিগঞ্জেও।
সম্প্রতি রানিগঞ্জ মুখ্য ডাকঘরে আধার কার্ড সংশোধনকে কেন্দ্র করে এমনই চেনা ছবি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
পোস্ট অফিসের বাইরে লম্বা লাইনে দাঁড়ানো মানুষজন জানালেন, তাঁরা ভোর পাঁচটা থেকেই লাইনে এসে দাঁড়াচ্ছেন। শুধু রানিগঞ্জ কয়লাঞ্চলের মানুষ নন, পার্শ্ববর্তী বাঁকুড়া জেলার শালতোড়া,  পায়রাশোল এলাকার সুনীতা সিংহ, জয় বাউরিরা সেই লাইনে দাঁড়িয়েছেন। 
মানুষের অভিযোগ, দৈনিক মাত্র ২৫ থেকে ৩০ টি করে কুপন দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও আধার সংশোধনের প্রক্রিয়া চলাকালীন সার্ভারের সমস্যা এবং লিঙ্ক না থাকার কারণে মাঝেমধ্যেই কাজ থমকে যাচ্ছে। ফলে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পরও বহু মানুষকে খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে। 
গ্রাহকদের অভিযোগ, প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দাদের আধার সংশোধনের জন্য বারবার দূরবর্তী শহরের প্রধান ডাকঘরে ছুটে আসতে হচ্ছে, যা আর্থিক ও শারীরিক দু'ভাবেই কষ্টকর। দিনমজুরদের সেদিনের কাজও হয় না ।
সিহারশোলের বাসিন্দা মিনতি বাউরি বলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে এখন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার হয়েছে। টাকা পেতে ফর্ম তোলা থেকে সব তথ্য সহ ফর্ম জমা করতে নাজেহাল হতে হচ্ছে। এমন অভিযোগ রানিগঞ্জ কয়লাঞ্চলের সবল মহিলাদেরই।  
সিপিআই(এম) রানিগঞ্জ এরিয়া কমিটির সম্পাদক সুপ্রিয় রায় বলেন, শুধুমাত্র কয়েকটি নির্দিষ্ট ডাকঘর বা ব্যাঙ্কের ওপর নির্ভর না করে, পঞ্চায়েত ও ওয়ার্ড এলাকায় এই আধার সংশোধনের জন্য প্রশাসন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিক।

 

 

Comments :0

Login to leave a comment