GIG WORKER

নেই কাজের নিরাপত্তার আশ্বাস, বন্ধ হচ্ছে ১০ মিনিটের ডেলিভারি

জাতীয়

দ্রুত পণ্য পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বা '১০ মিনিটের ডেলিভারি'র দিন এবার শেষ হতে চলেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ এবং ডেলিভারি কর্মীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বিশেষ ব্র্যান্ডিং বা বিজ্ঞাপনী প্রচার থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্লিনকিট। সূত্র অনুযায়ী, খুব শীঘ্রই সংস্থাটি তাদের সমস্ত বিজ্ঞাপন ও সোশ্যাল মিডিয়া প্রচার থেকে এই ১০ মিনিটের সময়সীমার উল্লেখ সরিয়ে ফেলবে।
কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্যরের সাথে ব্লিনকিট, জেপ্টো, সুইগি এবং জোম্যাটোর কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে। 
গত ডিসেম্বরের শেষের দিকে ভারতজুড়ে ডেলিভারি কর্মীরা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন। তাদের মূল দাবি ছিল অত্যধিক ডেলিভারি চাপ, কাজের অনিশ্চয়তা এবং সামাজিক সুরক্ষা।
উল্লেখ্য ডেলিভারির জন্য সময় বেঁধে দেওয়া অল্প সময় অনেক সময় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।
তবে ব্র্যান্ডিং থেকে '১০ মিনিট' কথাটি সরিয়ে ফেলার মানে এই নয় যে গিগ কর্মীদের ওপর সুবিচার হবে তা নয়। গিগ কর্মীদের সামাজিক সুরক্ষা এবং কাজের নিরাপত্তার বিষয় কোন কথা নেই। 
গিগ কর্মীদের ওপর এই চাপের বিরুদ্ধে বার বার সরব হয়েছে সিআইটিইউ। বাংলা বাঁচাও যাত্রায় গিগ কর্মীদের সাথে কথা বলেন মীনাক্ষী মুখার্জিরা। তাঁরা বলেছেন, বহুজাতিক তথ্য প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ হাতে থাকা এই সংস্থাগুলির কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানানোই কোনও উপায় নেই। পুরোটাই হয় অ্যাপ মারফত। অ্যাপে সমস্যা হলে নানা বাধা আসে। সহজে বা সরাসরি নিয়োগকর্তার কাছে যাওয়ার উপায় নেই। কথা বলতে যাওয়া হলেও সময় পর্যন্ত দেওয়া হয় না। প্রযুক্তিজনিত সমস্যাও আছে। লগ-ইন করার পর হঠাৎ হঠাৎ লগ-আউট হয়ে যায়। কাজ করতেই পারেন না। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। কাস্টমার কেয়ার ছাড়া আর কোথাও জানানোর উপায় নেই। শ্রমিক বা কর্মীদের কথা শোনার বিশেষ ব্যবস্থাই নেই।  
গিগ কর্মীদের বলা হয় কৌশলে বলা হয় ‘পার্টনার’। শ্রমিক বা কর্মী হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার কল এই ‘পার্টনার’ সম্বোধন। আসলে তারা মালিকের দাস। অ্যাপ ভিত্তিক প্রযুক্তির মালিকানা নিয়ে সংস্থাগুলি জোঁকের মতো করে শোষণ করছে। ১২-১৬ ঘণ্টা দিন কাজ করতে হচ্ছে। কিন্তু কাজের কোন সুরক্ষা নেই। 
কলকাতাতেও গিগ কর্মীরা ধর্মঘটে অংশ নেন। পারিশ্রমিক বৃদ্ধি, কাজের সময় নির্দিষ্ট করা, দৈনিক উৎসাহভাতা (ইনসেন্টিভ) বৃদ্ধি, কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা এবং সামাজিক সুরক্ষার দাবি নিয়ে সিআইটিইউ অনুমোদিত ওয়েস্ট বেঙ্গল গিগ ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের নেতৃত্বে চলছিল তাঁদের ধর্মঘট। সব সময় পাশে ছিলেন ইউনিয়নের সম্পাদক সাগ্নিক সেনগুপ্ত, জয় ঘোষাল, রঙ্গন ঘোষ, সৌরভ গাঙ্গুলি, রাজদীপ সরকার সহ নেতৃবৃন্দ।
টালিগঞ্জের নেতাজীনগর থানা এলাকার বাঁশদ্রোণী সংলগ্ন খানপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেটের হাবের ৬০ জন ব্লিঙ্কিট রাইডার্সদের মাথা উঁচু করে সঙ্ঘবদ্ধ অনড় আন্দোলনেই শেষমেশ কর্তৃপক্ষকে নমনীয় হতে একপ্রকার বাধ্য করেছে। দরকষাকষির পর তাদের আবেদনের কিছু কিছু অংশ কর্তৃপক্ষ মেনে নেবে বলে আশ্বাস দেয়।  অন্যান্য সমস্যাগুলি পর্যায়ক্রমে সমাধান করার কথাও হয়েছে। এই আশ্বাসের পর তারা কাজে ফেরেন।

Comments :0

Login to leave a comment