নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার ৪৮ ঘন্টা পর বারুইপুর গেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার বারুইপুরের এসপি অফিসে নাবালিকার পরিবারের সাথে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য পুলিশের ডিজি সহ বিশেষ তদন্তকারি দলের সাথেও কথা বলেন তিনি। উল্লেখ্য মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা বৈঠকে ওই এলাকার বিধায়ক এবং সাংসদরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে সোনারপুর দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক রূপা গাঙ্গলী বলেন, মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন একজনও অপরাধীকে ছাড়া হবে না। অভিযুক্তদের কঠের শাস্তি দেওয়া হবে।
এদিন সকালে নির্যাতীতার পরিবারের সাথে বিজেপি এবং তৃণমূলের প্রতিনিধিরা দেখা করেন। বিজেপির প্রতিনিধি দলে ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত ব্যানার্জি দেখা করেন। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের একটি দলও দেখা করেন। সেই দলে ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। কাকলি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীর কথায় তারা পরিবারের সাথে দেখা করতে এসেছেন। তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিন রাজ্য পুলিশের ডিজি ঘটনাস্থলে যান সব দিক খতিয়ে দেখেন।
বারুইপুরের এই মর্মান্তিক ঘটনায় খুনের মামলার পাশাপাশি ইতিমধ্যেই ধর্ষণের মামলাও যুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত কারণ ও উদ্দেশ্য কী ছিল, ধৃতদের জেরা করে সেই যাবতীয় তথ্য জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। এই জঘন্য অপরাধের অভিযোগে পুলিশ এ পর্যন্ত তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতেরা হলেন আনন্দ সর্দার, প্রভাস মণ্ডল এবং দিবাকর সর্দার। ধৃতদের মধ্যে দু’জনকে সোমবারই আদালতে পেশ করে ১৪ দিনের জন্য নিজেদের হেপাজতে পেয়েছে পুলিশ।
উল্লেখ্য নাবালিকার খুন ও ধর্ষণের ঘটনার পাশাপাশি এক নাবালকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করেও তৈরি হয়েছে উত্তেজনা। প্রসেনজিৎ বিশ্বাস নামে বারুইপুরের বিশালাক্ষ্মী এলাকার বাসিন্দাকে খুনের অভিযোগ উঠেছে। জানা গিয়েছে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় ঝামেলা। তারপর তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ধাড়ালো অস্ত্র দিয়ে খুন করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ পরিকল্পিত ভাবেই তাকে খুন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত চলছে গোটা বিষয়ের। এদিন মুখ্যমন্ত্রী নিহত নাবালকের পরিবারের সাথেও কথা বলছেন।
Comments :0