BJP's Extortion

১০০ দিনেই তৃণমূলের তোলাবাজীকে ছুঁয়ে ফেলল বিজেপির নেতা কর্মীরা

জেলা

মাত্র ১০০ দিনের শাসনেই বিজেপির কর্মী, নেতারা তৃণমূলের তোলাবাজীকে ছুঁয়ে ফেলেছে! স্থানীয় নেতা কর্মীদের দাবি মত তোলা দিতে অস্বীকার করায় শীতলখুচির হাসানের ঘাটে ফেরি চলাচল বন্ধ করতে দলের ঝান্ডা লাগিয়ে দেবার ঘটনা ঘটলো! তোলাবাজদের হুমকিতে ইজারাদার নিরুপায় হয়ে ঘাট থেকে নৌকো সরিয়ে নিয়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন এই ঘাট পেরিয়ে প্রতিদিন যাতায়াতকারী অন্তত ২৫ হাজার মানুষ। এঁদের মধ্যে যেমন স্কুল পড়ুয়া আছে তেমনি আছে অসুস্থ রোগীরাও। ঘটনার পর ৪৮ ঘন্টা কেটে গেলেও প্রশাসনের ক্ষমতা হয় নি শাসক দলের ঝান্ডা সরিয়ে ফের ফেরিঘাট চালু করার!
অভিযোগ ইজারাদারের কাছে এক লক্ষ টাকা দাবি করেছিল স্থানীয় বিজেপির নেতা- কর্মীরা। দাবি মত টাকা না পেয়ে ইজারাদারের ব্যাগ ছিনতাইও করে নিয়েছে অভিযুক্তরা! ধরলা নদীর ওপর হাসানের ঘাটের ফেরি বন্ধের অভিযোগে এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেনি বিজেপির জেলা নেতাদের কেউই।
এলাকায় গিয়ে জানা গেছে ওই ঘাটের ইজারার মেয়াদ ফুরিয়ে গিয়েছিল। আগের ইজারাদার আসরাফুল খন্দকারকেই গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ম মেনে গত সোমবার ২.০৮ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ফের ফেরি ঘাটের ইজারা দেয়। সেই খবর পেয়েই সোমবার রাতে স্থানীয় একদল বিজেপি কর্মী হানা দেয় নৌকোঘাটে। ইজারাদারের কাছে এক লক্ষ দাবি করে। সে টাকা দিতে অস্বীকার করায় কেড়ে নেওয়া হয় তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ। ওই ব্যাগে ৮ হাজার টাকা ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ এক লক্ষ টাকা দিতে অস্বীকার করায় রাতেই বন্ধ করে দেওয়া হয় ফেরিঘাট।
এদিন বিজেপির ২ নম্বর মন্ডল সভাপতি পবিত্র বর্মনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি স্বীকার করেন এরকম একটা ঘটনা শুনেছি। আসরাফুল নিয়ম মেনেই ঘাটের ইজারা পেয়েছে। যারা এসব করেছে তারা দলে নতুন এসেছে। সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেছিলেন, দলের পতাকা সরিয়ে ফেরিঘাট স্বাভাবিক করে দিচ্ছেন না কেন? এই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য মেলেনি ওই নেতার কাছ থেকে।
হাসানেরঘাট পার হয়ে প্রতিদিন শিবপুরের মানুষেরা জোরপাটকি, গোলকগঞ্জ, মাথাভাঙায় যাতায়াত করেন।স্থানীয় বাসিন্দা অবিনাশ রায়, শিবেন বর্মনরা বলেন, ধরলা নদীর এই হাসানের ঘাটে পাকা সেতুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনবার বিধানসভায় জিতেছে তৃণমূল। তবুও সেতু হয় নি। সাঁকো আর নৌকোই ভরসা। বিজেপিও এবার ভোটের আগে বলেছিল, জিতলে হাসানের ঘাটে সেতু হবে। সেসব দূরে থাক, তোলা না পেয়ে ওরা ঝান্ডা লাগিয়ে ফেরি যাতায়াত টুকুও বন্ধ করে দিল। এরকম অসভ্যতার মানে কি?
ফেরিঘাট বন্ধ হওয়ায় প্রায় ৮ কিমি পথ ঘুরে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে এলাকার বাসিন্দাদের।
এদিকে তোলা না দেওয়ায় শীতলখুচির হাংকার ঘাট, মানসাই ঘাটেও ফেরি বন্ধ করে দিয়েছে শাসকদলের লোকেরা। এমন অভিযোগ মিলেছে। প্রশাসন কোন ক্ষেত্রেই ব্যবস্থা নেয় নি।

Comments :0

Login to leave a comment