রাত তখন প্রায় ২টো। আচমকাই ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় মধ্য কলকাতার একটি জরাজীর্ণ বহুতলের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা। চারদিকে আগুন, সিঁড়ির কাছেও আগুনের লেলিহান শিখা। বেরোনোর পথ খুঁজে পাচ্ছিলেন না হোটেলে থাকা অতিথিরা। প্রাণ বাঁচাতে যে যেদিকে পারছেন ছুটছেন। বুধবার ভোরের সেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সাক্ষী হয়ে আতঙ্কের রাতের বর্ণনা দিলেন আগুন থেকে উদ্ধার হওয়া হোটেল অতিথিরা।
মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই ভবনে একাধিক হোটেল রয়েছে। ভয়াবহ আগুনে চার বছরের এক শিশু ও দুই মহিলা-সহ মোট ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। দমকল বাহিনীর তৎপরতায় প্রায় ৮০ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের অগ্নি ও জরুরি পরিষেবা দপ্তরের মন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী।
আগুন থেকে বেঁচে যাওয়া এক বাংলাদেশি নাগরিক জানান, রাতে হোটেলে থাকার সময় আচমকাই আগুন লাগে। তিনি বলেন, আগুন লাগার পর হোটেলের কর্মীদের কাছে সাহায্য চাইতে গেলে দেখেন, তারা তখনও ঘুমিয়ে ছিলেন।
তার কথায়, ‘দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল। সিঁড়ির কাছেই আগুন জ্বলছিল। ফলে বেরিয়ে আসার কোনও পথ খুঁজে পাচ্ছিলাম না।’ রাতে যে পোশাকে ঘুমিয়েছিলেন সেই পোশাকেই কোনওরকমে প্রাণ বাঁচিয়ে বেরিয়ে আসেন তিনি। নিজের কোনও জিনিসপত্রই সঙ্গে নিয়ে বেরোতে পারেননি।
বীরভূমের বাসিন্দা এজাজ আহমেদ মঙ্গলবার সন্ধ্যাতেই ওই হোটেলে উঠেছিলেন। আগুনের হাত থেকে প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন তিনি। এজাজ বলেন, ‘অন্ধকারের মধ্যে বেরোনোর চেষ্টা করছিলাম। তখন দমকলের দুই কর্মী আমাকে উপরের তলা থেকে নামিয়ে নিরাপদে বাইরে নিয়ে আসেন।’
ঘটনার ভয়াবহতা বর্ণনা করে এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ভবনের ভিতরে আটকে পড়া মানুষজন আগুনের মধ্যে সাহায্যের জন্য চিৎকার করছিলেন। তার কথায়, ‘মনে হচ্ছিল যেন কোনও ভৌতিক সিনেমার দৃশ্য।’ তার দাবি, হোটেলে ঢোকা-বেরোনোর জন্য কার্যত একটিই প্রবেশপথ ছিল, যা সরাসরি সিঁড়ির দিকে চলে গিয়েছে। আগুনের সময় সেটিই পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।
ভবনের উপরের তলায় থাকা একটি ফ্ল্যাটের বাসিন্দা মীনা দেবীর অভিযোগ, সেখানে কোনও অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। তিনি বলেন, ‘ঘন ধোঁয়ার মধ্যে দমকল কর্মী এবং ভবনের কয়েকটি হোটেলের কর্মীরা আমাদের বাইরে বের করে আনেন।’
উদ্ধার হওয়া একাধিক অতিথির অভিযোগ, হোটেলে আগুন নেভানোর সরঞ্জাম বা অগ্নি-সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ছিল না। ফলে আগুন লাগার পর দ্রুত সতর্ক হওয়া এবং নিরাপদে বেরিয়ে আসা কঠিন হয়ে পড়ে।
মধ্য কলকাতার এই অগ্নিকাণ্ডের কয়েক দিন আগেই বীরভূমের তারাপীঠের একটি হোটেলে আগুন লেগে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল। পরপর দুই হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্যের হোটেলগুলির অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
Fire
হোটেলে ছিল না কোন অগ্নিনির্ভাপক ব্যবস্থা জানাচ্ছেন বাসিন্দারা
×
Comments :0