চিন্ময় কর
৫ দিন ঘরের ভিতরে বন্যার জলের স্রোত। ঘরের ভিতর বাঁশের মাচায় শিশু সহ বয়স্করা। মেলেনি ত্রান। এমনি আসেননি কোনও প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধি। সবং এর দশগ্রাম অঞ্চলের খাউখন্ডা মৌজায় ৫৭টি পরিবার জলবন্দী। না আছে বিদ্যুৎ, না আছে পানীয় জল। থার্মোকলের বান্ডিলকে কালো পলিথিন জড়িয়ে ডিঙি বানিয়ে ডাঙায় আসতে হয়।
এমন দুর্যোগের মধ্যেই প্রশাসনিক সহায়তা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন বানভাসি সবং, নারায়নগড়, কেশিয়াড়ী, দাঁতন মোহনপুর ব্লক গুলির মানুষজন। যে টুকু ত্রান ডিএম, এসপি সহ পুলিশ প্রসাশন যে মৌজায় গিয়ে তুলে দিচ্ছেন সেখানে সবাই পাচ্ছেন। সেটি খুবই ছোট মৌজা। যেখানে সবং এর ১৩টি গ্রামপঞ্চায়েত, নারায়নগড়ের ৭ টি, দাঁতন ১ ব্লকের ৭ টি, মোহনপুরে ৫ টি, পিংলার ৩ টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা মিলিয়ে দেড় হাজার অধিক মৌজা সম্পূর্ণ জলের তলায় এবং বিচ্ছিন্ন, সেখানে ত্রান, পানীয় জল ও গত ৫ দিন রান্না করা খাবার বলতে কিছুই নেই। পা ফেলার জায়গা না থাকায় মানুষ রান্না করতে হলে নদী বাঁধ বা উঁচু স্থানে যেতে হবে।
ঘর থেকে বের হলেই কোমর গলা সমান জল। আর গত ৫ দিন জলের তলায় থাকায় জমির ধান সহ গ্রামের আগাছা পচে গিয়ে ভেষে উঠে দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। আর সেই জল ঠেলে মানুষ পানীয় জলের জন্য পাড়ি দিচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত পাঁচ দিন ধরে জলবন্দি থাকলেও এখনও পর্যন্ত এলাকায় কোনও ত্রাণ পৌঁছয়নি। সরকারি ভাবে কোনও জনপ্রতিনিধিও তাঁদের পরিস্থিতি দেখতে আসেননি বলে অভিযোগ। তাঁদের কথায়, শুধুমাত্র আশা কর্মীরা এলাকায় এসে খোঁজখবর নিয়েছেন। কিন্তু খাবার, পানীয় জল, প্রয়োজনীয় ওষুধ কিংবা অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী এখনও তাঁদের হাতে পৌঁছয়নি। এমন ভয়াবহ অবস্থা সবং এর দশগ্রাম, সার্তা, লারো, চাউলকুঁড়ি, সুন্দরপুর সহ বহু মৌজা। নারায়নগড়ের খুড়শি, কুসবসান, বাখরাবাদ, আঙনা সহ বহু মৌজার মানুষ জলবন্দি।
সবং এর খাউখন্ডাতে ৬৫ টি পরিবার পাঁচ দিন ধরে জলের তলায়। ঘরের ভিতর জল! বাঁশের পাটাতনের উপর শিশু নিয়ে বয়স্কদের দিনযাপন, ত্রাণ না মেলায় ক্ষোভ বন্যাকবলিত সাধারণ মানুষের। জলবন্দি পরিস্থিতিতে কেউ আশ্রয় নিয়েছেন স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, কেউ আবার প্রতিবেশীর বাড়িতে। বাড়িতে থাকা পরিবারগুলির দুর্ভোগও কম নয়। ঘরের মধ্যে জল ঢুকে পড়ায় কোথাও বাঁশের পাটাতন তৈরি করে তার উপর শিশুদের নিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। একদিকে ঘরে জল, অন্যদিকে বিদ্যুৎহীনতা সব মিলিয়ে চরম দূর্ভোগের মধ্যে দিন কাটছে বাসিন্দাদের।
শুধু মানুষ নয়, গবাদি পশু নিয়েও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। বাড়িঘর জলমগ্ন হওয়ায় গরু-ছাগলকে নিরাপদ রাখতে উঁচু বাঁধের উপর রাখা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে জল জমে থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত বিপর্যস্ত।
Comments :0