দুর্গাপুজোয় সিপিআই(এম)’র বইয়ের স্টল বসানোর অনুমতি দিল হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের এই নির্দেশের ফলে দুর্গাপুজোর সময় রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বইয়ের স্টলের তৈরিতে যে বাধা আসছিল তা বন্ধ করতে হবে। বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের ডিভিসন বেঞ্চ জানিয়েছে, বনগাঁয়, যশোর রোডে সিপিআই(এম)’র বইয়ের স্টল পুজো প্যান্ডেলের একশো মিটারের মধ্যে করা যাবে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে মোতায়েন রাখতে হবে পর্যাপ্ত পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সুপারকে রিপোর্টও দিতে হবে আদালতে।
বইয়ের স্টল নিয়ে বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, অন্য কেউ স্টল বসানোর অনুমোদন পেলেও আবেদনকারীর ক্ষেত্রে তা হয়নি। এটা যথার্থ নয়। যখন অন্যরা স্টল বসিয়ে বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করছেন তখন আবেদনকারীদের বই বিক্রির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শকে গুরুত্ব দেওয়া গণতন্ত্রের জন্য ফলপ্রসূ। আশা বর্তমান প্রশাসন সেই দিকটা লক্ষ্য রাখবে। সিপিআই(এম)’র পক্ষে সওয়ালে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য জানান যে, বনগাঁর এই নির্দিষ্ট মামলাটি কোনও জমি সংক্রান্ত বিষয় নয়। বরং একজন সাধারণ নাগরিক বা রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার্থে আবেদনকারীরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং এটি সম্পূর্ণভাবে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা প্রদানের বিষয়। আইনজীবী ভট্টাচার্যের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি জানতে চান, সংশ্লিষ্ট এলাকার আশেপাশে কোনও বড় দুর্গাপুজোর প্যান্ডেল রয়েছে কিনা এবং থাকলে তাতে আদতে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে? এছাড়া সেখানে অন্য কোন কোন সংস্থাকে স্টল বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তাও জানতে চান বিচারপতি। আদালত সাফ জানিয়ে দেয় যে, বিগত কয়েক দশক ধরে যেখানে এই বইয়ের স্টল হয়। সেখানে অন্যদের অনুমতি মিললে এঁদের ক্ষেত্রে বাধা দেওয়ার কোনও যৌক্তিকতা নেই। বনগাঁয় অস্থায়ী বইয়ের স্টল তৈরিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে সিপিআই(এম)’র পক্ষ থেকে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। গতকাল, ১৪ অক্টোবরের শুনানিতেই আদালত প্রশ্ন তোলে যে অন্যদের অনুমতি দেওয়া হলে কয়েক দশক ধরে যে স্টল পুজোর সময় বসে তার অনুমতি থাকবে না কেন। বিরোধী স্বর রুদ্ধ করার প্রয়াস গণতন্ত্রের পক্ষে যে স্বাস্থ্যকর নয়, পর্যবেক্ষণে সেকথাও বলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। উল্লেখ্য, বিগত কয়েক দশক ধরে দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে বনগাঁ, নৈহাটি অঞ্চলে সিপিআই(এম)পক্ষ থেকে অস্থায়ী বইয়ের স্টল করা হয়। এ বছর এই স্টল তৈরিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। পুলিসের কাছে গিয়েও কোন সুরাহা পাওয়া যায়নি। মামলার শুনানির সময় আবেদনকারীদের আইনজীবী শামিম আহমেদ আদালতে জানান যে, অতীতে এই ধরনের বইয়ের স্টল তৈরি এবং বই বিক্রি করার জন্য আলাদা করে কোনও অনুমতির প্রয়োজন হত না। কিন্তু চলতি বছর রাজ্য প্রশাসন বা পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে অনুমতির বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখেছে। এর পরে তারা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী কাঠামো তৈরি করতে গেলে একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সংগঠন তাতে বাধা দেয়। ‘হিন্দু জাগরণ মঞ্চ’ নামে এই সংগঠনটি সেখানে স্টল তৈরি করেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে সম্পূর্ণ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। বলে অভিযোগ করেন তিনি। আইনজীবীর এই বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য রাজ্যের আইনজীবীকে উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন, ওরা অস্থায়ী স্টল তৈরি করে বই বিক্রি করতে চাইছে, কোন লটারির দোকান করছে না। (বিরোধী স্বর বন্ধ করা গণতন্ত্র নয়, বুকস্টলের মামলায় খেদ হাইকোর্টের)
Book Stall High Court
বনগাঁয় বুক স্টল করবে সিপিআই(এম), বিধি জানিয়ে রায় হাইকোর্টের
×
Comments :0