ভারত-ভুটান আন্তর্জাতিক সড়কের দু’ধারে প্রকাশ্যেই চলছে সরকারি জমি দখলের মহোৎসব। প্রশাসনের নাকের ডগায় বিঘার পর বিঘা সরকারি জমি হাতবদল হয়ে গড়ে উঠছে একের পর এক কংক্রিটের ইমারত, হোটেল ও বাণিজ্যিক কাঠামো। বানারহাট এলাকায় এই নজিরবিহীন জবরদখল ঘিরে তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা, চা বাগান কর্তৃপক্ষ ও সচেতন মহলে। অথচ সব দেখেও প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে উঠছে গুরুতর প্রশ্ন।
১৭ নম্বর জাতীয় সড়কের মোরাঘাট মোড় থেকে ভুটান গেট পর্যন্ত প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ইন্দো-ভুটান রোড ভারত ও ভুটানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগকারী পথ। পর্যটন, বাণিজ্য ও কূটনৈতিক দিক থেকে এই সড়কের গুরুত্ব অপরিসীম। বর্তমানে সড়কটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশন (বিআরও)।
স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ, ২০২২ সালে সড়ক সম্প্রসারণের কাজ শেষ হওয়ার পর থেকেই রাস্তার দু’পাশের ফাঁকা সরকারি জমির দিকে নজর পড়ে জমি মাফিয়াদের। রাতের অন্ধকারে পরিকল্পিতভাবে পাকা খুঁটি পুঁতে সীমানা নির্ধারণ করে সরকারি জমি দখল করা হচ্ছে। পরে সেই জমি চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে হোটেল, রিসর্ট ও বহুতল আবাসন নির্মাণের জন্য। এর ফলে একদিকে সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এলাকার প্রাকৃতিক নিকাশি ব্যবস্থা। বানারহাট চা বাগানের বাসিন্দা অজয় মাহালি বলেন, “চা বাগান ও রাস্তার জল নিষ্কাশনের জন্য যে নালাগুলি ছিল, সেগুলির ওপর এখন ঘরবাড়ি তৈরি হয়ে গেছে। বর্ষা এলেই জল জমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।” একই সুরে স্থানীয় বাসিন্দা বিকাশ দাস জানান, পরিকল্পনাহীন নির্মাণ চলতে থাকলে অচিরেই গোটা এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়তে পারে।
এই বেআইনি দখলদারি নিয়ে সরব হয়েছে সিপিআই(এম)। দলের বানারহাট এরিয়া কমিটির সদস্য অর্ধেন্দু রাহা বলেন, “আন্তর্জাতিক সড়কের দু’ধারে যেভাবে সরকারি জমি দখল হচ্ছে, তাতে সড়ক ক্রমশ সংকীর্ণ হয়ে পড়ছে। প্রশাসন এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। জমি মাফিয়ারা লোকালয়ের ভিতরে ঢুকে পড়ছে, যা আইনশৃঙ্খলার পক্ষেও মারাত্মক।”
অথচ এত বড় অনিয়ম চললেও প্রশাসনের তরফে মিলছে দায়সারা আশ্বাস। বানারহাট ব্লকের এক আধিকারিক জানান, “সড়কটি বিআরও-র অধীনে। তাদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে প্রশ্ন উঠছে—আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন সড়কের দু’পাশে প্রকাশ্য দখলদারি চললেও কেন ব্লক প্রশাসন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে না?
স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়েই জমি মাফিয়ারা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। অবিলম্বে জবরদখল উচ্ছেদ, বেআইনি নির্মাণ ভাঙা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন বানারহাটের সাধারণ মানুষ। নচেৎ আন্তর্জাতিক সড়ক সংলগ্ন এই এলাকা ভবিষ্যতে বড়সড় বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলেই আশঙ্কা।
India-Bhutan International Highway
আন্তর্জাতিক সড়কের দু’ধারে জমি দখল, নীরব প্রশাসন
×
Comments :0