Salim on BJP's Promises

মিথ্যা প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর, আইনের শাসনের কথা বলেন কোন মুখে: সেলিম

রাজ্য বাংলা বাঁচানোর ভোট

বিজেপি শাসিত সব রাজ্যে অপরাধের হার বেশি। নারীদের বিরুদ্ধে হিংসা বেশি। এনসিআর’র রিপোর্ট তা দেখাচ্ছে। দেশে নরেন্দ্র মোদী সরকার আসীন হওয়ার পর থেকে এই প্রবণতা। সেই মোদী বাংলায় এসে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন কোন মুখে? (আরও দেখুন: নারীদের ওপর হিংসা রুখতে তৃণমূলের মতো ব্যর্থ বিজেপি-ও,…)
শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলনে এই প্রশ্ন তুলেছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তিনি বলেছেন, ‘বুলডোজার ন্যায়‘-র নামে রাজ্যে রাজ্যে আইন ভাঙছে বিজেপি। সেই বিজেপি কিভাবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে? 
গত বৃহস্পতিবার রাজ্যে বিজেপি’র নির্বাচনী প্রচারে একাধিক জনসভা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার বিজেপি’র ইশ্‌তেহার প্রকাশ করে আইন-শৃঙ্খলা ফেরানোর দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নে সেলিমের মন্তব্য, গুজরাটে শেখ সোহরাবুদ্দিন এনকাউন্টার মামলায় জেলে যেতে হয়েছিল যাকে তিনি এখন এরাজ্যে এসে আইনের শাসন নিয়ে বক্তৃতা করছেন।   


এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে বিজেপি এবং তৃণমূল শাসনের বিকল্প হিসেবে কেরালায় বাম গণতান্ত্রিক সরকারের প্রশাসন পরিচালনার মডেলকে ব্যাখ্যা করেন সেলিম। 
তিনি বলেন যে দুর্নীতি রোধের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। ২০১৪-তে তিনি সারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারির অপরাধীদের বেছে বেছে শাস্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তারপর শুধু প্রতিশ্রুতি, আর অপরাধীদের এক এক করে জেল থেকে ছাড়া হয়েছে বেছে বেছে। বিজেপি সরকারের আসীন এমন রাজ্য গুজরাট বা মধ্য প্রদেশে জমি কেলেঙ্কারির মামলার নিষ্পত্তি হয় না। 
সেলিম বলেন, কেরালায় নিয়মিত সরকারি কাঠামোকে কাজে লাগিয়ে দুর্নীতি দমন অভিযান হয়েছে। গত বছরই ২০১টি অভিযানে হাতেনাতে অপরাধীদের ধরা হয়েছে। পাঁচ বছরে ২২৭ জন অপরাধী সাব্যস্ত হয়েছে। বাংলার ভোটে ভোটে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আগে বিজেপি-তৃণমূল নিজেদের রেকর্ড বলুক। 
তিনি বলেছেন যে মহারাষ্ট্র, গুজরাটে বিজেপি নেতাদের জমি কেলেঙ্কারি বছরের পর বছর ঝুলে রয়েছে। 
মোদী নারী সুরক্ষার কথা বলছেন! বিলকিস বানু, হাথরস, উন্নাও মানুষ দেখেছেন। এপস্টাইন কাণ্ডে তো মোদী, ট্রাম্প, নেতানিয়াহু সবাইকে ঘিরে আঙুল উঠেছে। অভয়া কাণ্ডে স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী দেখা পর্যন্ত করেননি পরিবারের সঙ্গে। 
সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক বলেছেন যে বিভাজনের রাজনীতিকে পরাস্ত করতে রুজি-রোজগার, শিক্ষা, কাজ, মজুরি, কৃষি, স্বাস্থ্য, গণপরিবহণের মতো বিষয়কে সামনে রেখে লড়াই করছে বামফ্রন্ট। ইশ্‌তেহারে তা নিয়েই কথা রয়েছে বিশদে। তিনি বলেন, বিজেপি’র ফ্যাসিবাদী চিন্তার বিরুদ্ধে লড়াই করতে মতাদর্শ দরকার। বামপন্থীদের তা রয়েছে। বিজেপি-আরএসএস’র বিরুদ্ধে লড়াই করছে বামপন্থীরাই। 
এসআইআর প্রসঙ্গে সেলিম বলেন, সাম্প্রদায়িক উন্মাদনা তৈরি চেষ্টা চলছে। দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক করার চেষ্টা চলছে। এসআইআর-এ লক্ষ লক্ষ লোককে বঞ্চিত করা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট যা বলছে তার অর্থ, ভোট দিতে না পারলেও চলবে। আমরা বলছি ভোটাধিকার একটি সাংবিধানিক অধিকার। তাকে রক্ষা করতেই হবে।  বিচারব্যবস্থাকে ব্যবহার করা হচ্ছে গণতান্ত্রিক অধিকারকে সঙ্কুচিত করতে। আমরা তীব্র প্রতিবাদ করছি।
বৃহস্পতিবার বেবি নির্বাচন কমিশনকে চিঠি লেখেন। সিপিআই(এম) প্রতিনিধিদল সিইও দপ্তরে যায়। মানুষের ভোটাধিকার বাতিল করে সুষ্ঠু ভোট হতে পারে না। 
অমিত শাহ রাজ্যে ইশ্‌তেহার প্রকাশ করে ৬ মাসের মদ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর প্রতিশ্রুতি দেন এদিন। এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে সেলিম বলেন, সংবিধান অনুযায়ী আগে মৌলিক অধিকার প্রয়োগ করতে হয়। শিক্ষার মৌলিক অধিকার থাকছে না।স্কুল-কলেজ বন্ধ হচ্ছে এরাজ্যে এবং সারা দেশে। শিক্ষার অধিকার আইন পাশের পরও স্কুল বন্ধ, স্টাইপেন্ড বন্ধ। সংখ্যালঘু, তপসিলি জাতি, আদিবাসী ছাত্রছাত্রীরা পাচ্ছেন না। আর অভিন্ন দেোয়ানি বিধি রয়েছে সংবিধানের নির্দেশমূলক নীতিতে। বিজেপি অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে বিভাজন করছে। মৌলিক অধিকার প্রয়োগ না করে নির্দেশমূলক নীতি নিয়ে কথা বলছে।
বিজেপি’র প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে সেলিম বলেন, শিল্প কী করেছে? এটা ঠিক যে গবাদি পশুর মাংস বিক্রিতে পাঁচ থেকে তিনে উঠেছে। মোদী বলেছে একে যাবে। একেক জায়গায় একেক কথা বলে। এরাজ্যে এখানে সিঙ্গুর কারখানা ধ্বংস করে গুজরাটে নিয়ে গিয়েছে। একশোটা স্মার্ট সিটির প্রতিশ্রুতি কোথায় গেল? ক’টা শিল্প পার্ক করেছে? রাষ্ট্রায়ত্ত ক’টা নতুন ইউনিট করেছে, চালু কারখানায় কত বিনিয়োগ সেই তথ্য দিক? এখন ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে বিজেপি।

Comments :0

Login to leave a comment