AIDWA Uluberia Rally

ভোটার লিস্টে নাম না ফেরা পর্যন্ত চলবে লড়াই: উলুবেড়িযায় মীনাক্ষী

রাজ্য জেলা

ভোটার তালিকায় নাম ফেরানোর দাবিতে মিছিল উলুবেড়িয়ায়। রয়েছেন মীনাক্ষী মুখার্জি সহ সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির নেতৃবৃন্দ।

মনিরুল হক: উলুবেড়িয়া

এসআইআর পর্বে রাজ্যজুড়ে ভোটার লিস্ট থেকে নাম বাদ গিয়েছে বহু মানুষের, নির্বাচনের আগে বিজেপি সব মহিলাকে অন্নপূর্ণা ভান্ডার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও বর্তমানে টাকা না পাচ্ছেনা বহু মহিলা। বারবার মানুষের সঙ্গে বঞ্চনা করছে বিজেপি সরকার। ভোটার তালিকায় নাম ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে ২৫ সেপ্টেম্বর সিইও দপ্তর অভিযানের ডাক দিয়েছে সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি। তার‌ প্রচারেই মঙ্গলবার উলুবেড়িযায় জনসভা করেন সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলী সদস্য মীনাক্ষী মুখার্জি। 
এদিন সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখার্জি বলেন, ভোটার লিস্টে নাম না থাকার জন্য যদি কাউকে ঘর থেকে বার করে দেওয়া হয় তা’হলে যাদের কারণে ভোটার লিস্ট থেকে নাম বাদ‌ গিয়েছে তাঁকেও আমরা তাদের চেয়ার থেকে বার করে দেব। সমবেত মহিলাদের প্রশ্ন করেন তিনি, কারা অন্নপূর্ণা ভান্ডার পাননি? বহু মহিলা জানান তাঁরা পাননি। মীনাক্ষী বলেন, সরকার বলছে সবাইকে অন্নপূর্ণা ভান্ডার দিয়ে দিয়েছি। সরকার মিথ্যা বলছে। ভোটের আগে আপনারা কি বলেছিলেন যে আমাদের অন্নপূর্ণা ভান্ডার দিতে হবে? সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, তুমি যখন দিতে পারবে না তখন কি দরকার ছিল তিন হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা করার। তুমি বলেছিলে, কারণ তোমার ভোটে জেতার প্রয়োজন ছিল। 
তিনি প্রশ্ন তোলেন অন্নপূর্ণা ভান্ডার পাওয়ার মাপকাঠি কি? অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পেতে গেলে কি কি নিয়ম থাকতে হবে সেটা কি কেউ সঠিক ভাবে জানে? তিনি বলেন, ১২ পাতার‌ ফর্মে তোমার বর্তমান থেকে শুরু করে ভবিষ্যতের‌ তথ্য নিয়ে নিয়েছে। কিন্তু ‌অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পেতে গেলে কি নিয়ম মানতে হবে সেটা কোথাও বলা হয়নি। সরকার সেই নিয়ম বলতে পারছে না বলেই এসডিও-কে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। কিন্তু এসডিও-কেও একদিন আসতেই হবে। আর আমরাও ২৫ তারিখ সিইও দপ্তরে এই প্রশ্নের জবাব চাইব, সেদিন কোথায় পালায় আমরাও দেখবো। 
মীনাক্ষী বলেন, আমরা বামপন্থীরা বলেছিলাম এই পশ্চিমবঙ্গের ঘরে ঘরে বেকার ছেলেমেয়েদের চাকরি দাও। কেউ যদি মাস গেলে ২৫-৩০ হাজার টাকা আয় করে তাহলে সরকারও ট্যাক্স পাবে । সরকার চাকরি দিতে পারেনি, তাই সরকারকে এই টাকা দিতে হচ্ছে। সরকার জিনিসপত্রের দাম কমাতে পারেনি। চিনির দাম বড়িয়ে দিল। তারপর আবার নিরামিষ-আমিষ নিয়ে রাজনীতি করছে? এটা সরকারের‌ কাজ? কে কি খাবে , পরবে, কোন ধর্ম পালন করবে তা সরকার ঠিক করে দেবে? 
তিনি বলেন, যদি বাঁচতে হয়, পশ্চিমবঙ্গকে বাঁচাতে হয়, ধর্মের নামে হানাহানি বন্ধ করতে হয়, তাহলে মহিলাদেরই এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, ন্যায্য দাবির ভিত্তিতে লড়তে গেলে, নির্বাচন কমিশন এসডিওর কাছে দাবি জানাতে গেলে, পুলিশ যদি সামনে দাঁড়িয়ে যায়, যদি বলে এটা আইনের প্রশ্ন, তখন পুলিশকেও বলতে হবে যে অভুক্ত থাকলে আইন শৃঙ্খলা টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। 
মীনাক্ষী বলেন, ভোটার তালিকা থেকে যাদের নাম বাদ গেছে তারা ২৫ তারিখ গোটা রাজ্য থেকে সিইও দপ্তরে জড়ো হবেন। যদি এই আক্রমণের বিরুদ্ধে আমরা মাথা না তুলি, মুখ না খুলি, ভোটার লিস্টের নাম তোলার জন্য যদি সরকারকে বাধ্য না করি, বিজেপি আরও আক্রমণ নামিয়ে আনবে। ভোটার লিস্টে নাম না ওঠা পর্যন্ত এই লড়াইয়ের শেষ নেই।

Comments :0

Login to leave a comment