অরূপ সেন: ঝান্ডাপুর
চলছিল পথনাটক ‘হল্লা বোল’। এককাট্টা প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান সোচ্চার হচ্ছিল আরও। ধর্মঘটের সংহতিতে তৈরি সেই পথনাটকের মাঝেই। গাজিয়াবাদের ঝান্ডাপুরে নেমেছিল ধারালো আক্রমণ। কংগ্রেস আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হামলায় রক্তাক্ত হয়েছিলেন প্রগতিশীল প্রতিবাদী কমিউনিস্ট নাট্যকার সফদর হাসমি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি সফদরকে। শহীদ হয়েচিলেন সফদর হাসমি। বেঁচে রয়েছে তাঁর প্রতিবাদী প্রতিরোধী নাট্যধারা।
১ জানুয়ারি হয়েছিল হামলা। বৃহস্পতিবার সফদর হাসমিকে স্মরণ করল সিপিআই(এম)। সোশাল মিডিয়ায় তাঁর স্মরণে বলা হয়েছে যে হিংসায় নিথর হয়েছিল সফদর হাসমির দেহ। কিন্তু তাঁর স্বর রুদ্ধ হয়নি। এদিনও ঝান্ডাপুরে অনুষ্ঠান করেছে জননাট্য মঞ্চ। সেখানে প্রধান বক্তা ছিলেন সিপিআই(এম) পলিট ব্যুরো সদস্য এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
তিনি বলেছেন, শাসক শ্রেণি বারবার শোষিতের একতাকে ভেঙে দিতে চায়। আজ চলছে ধর্মের নামে ভাগাভাগি। দেশের প্রধানমন্ত্রী এই ভাগাভাগিতে উসকানি দিচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীই চীনের বিপক্ষে উসকানি দিয়েছিলেন। উত্তর-পূর্বের মানুষের চেহারার ভিন্নতাকে বিদ্বেষের বস্তু করেছিলেন। আজ উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে খুন করা হয়েছে ত্রিপুরার ছাত্র অ্যাঞ্জেল চাকমাকে।
তিনি বলেছেন যে আজকে কর্পোরেটের হাতেই গণমাধ্যমের সিংহভাগ। সফদর বিকল্প কথা বিকল্প উপস্থাপনায় শ্রমজীবী জনতার মাঝে পেশ করতেন। আমাদের কথা সংগ্রামের কথা, মেহনতির একতার কথা আমাদেরই বলছে হবে।
গাজিয়াবাদের ঝান্ডাপুর। ১৯৮৯ সালের ১ জানুয়ারি চলছিল পথ নাটক ‘হল্লা বোল’। জননাট্য মঞ্চের শিল্পীরা করছিলেন অভিনয়। যে নাট্যগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সফদর।
তার ঠিক আগে ১৯৮৮ সাল হয়েছিল সাতদিনের ঐতিহাসিক ধর্মঘট। তারই সমর্থনে লেখা হয়েছিল এই নাটক। দিল্লি, গাজিয়াবাদ, ফরিদাবাদের প্রায় ১৩ লক্ষ শ্রমিক সেই ধর্মঘটে অংশ নিয়েছিলেন।
ঘটনার দিন শ্রমিক নেতা রামানন্দ ঝায়ের সমর্থনে চলছিল নাটক। গাজিয়াবাদ নগর পরিষদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন ঝা। ঝান্ডাপুরে তখনই নেমেছিল ভয়াবহ হামলা। লাঠি, রড নিয়ে বেপরোয়া হামলা চলেছিল। গুরুতর আহত হয়েছিলেন সফদর হাসমি, তাঁর সহশিল্পীরা।
সফদর প্রয়াত হওয়ার আটচল্লিশ ঘন্টারও কম সময়ে সেই ঝান্ডাপুরেই নাটক নিয়ে ফিরেছিল জননাট্য মঞ্চ। মলয়শ্রী হাসমির নেতৃত্বে একই জায়গায় অভিনীত হয়েছিল।
রাজনীতির প্রেক্ষিত বদলেছে। উগ্র ধর্মান্ধ মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক শক্তি দেশজুড়ে উন্মত্ত ভিড়কে লেলিয়ে দিচ্ছে। কোথাও ‘বাংলাদেশী‘, কোথাও ‘চিনা’ কোথাও ‘মুসলমান‘ রব তুলে প্রকাশ্যে হত্যা করা হচ্ছে। আর বাতিল হয়েছে একশো দিন কাজের আইন, চালু হয়েছে শ্রম কোড। নয়া ফ্যাসিবাদের লক্ষণ স্পষ্ট। সেই সময়েই, সফদরকে স্মরণ করে, প্রতিবাদ প্রতিরোধের স্বরকে জোরালো করার ডাক দিয়েছে সিপিআই(এম)।
জননাট্য মঞ্চ জানিয়েছে ‘ফিলিস্তিন কে লিয়ে’ পরিবেশিত হয়েছে ঝান্ডাপুরে। ফয়েজ আহমেদ ফয়েজের ‘মেরে দিল মেরে মুসাফির’ এবং প্যালেস্তিনীয় কবি তৌফিক জিয়াদের অন্য একটি কবিতার আঙ্গিকে ভয়ঙ্কর উচ্ছেদ, ধ্বংস আর সংগ্রামের বৃত্তান্ত রয়েছে পরিবেশনায়।
Comments :0