CPI(M) Both Level Discussion

মেমারীর বৈঠক সভায় উঠে এলো গরিবের জীবন যন্ত্রণার কথা

জেলা

জাত, ধর্ম ধুয়ে খাবো?  কাজ নেই তাই ঘরে ভাত নেই। ১০০ দিনের কাজ চাইলে তৃণমূলের নেতা বলছে বেশি বাড়াবাড়ি করিস না জেলে পাঠিয়ে দেবো। গরিব পাড়ায় তাঁদের জীবন যন্ত্রণার কথা বলতে গিয়ে খেতমজুর পান্ডব ক্ষেত্রপাল ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। মেমারীর দেউলে বাউড়িপাড়ায় হাঁড়কাঁপানো শীতে বৈঠকী সভা চলছিল। সেখানে গ্রামে কাজ না  থাকার জন্য পাণ্ডব ক্ষেত্রপালকে সপরিবারে ছোট ছোট মেয়েদের বাড়িতে রেখে বছরের বেশিরভাগ সময়টাই অন্ধ্রপ্রদেশে থাকতে হয় সেই অভিজ্ঞজ্ঞতার কথা বলেছেন তিনি।
সন্ধ্যা নামলেই গাঁয়ে গাঁয়ে গরিব পাড়ায় চাটাই পেতে বসছে পাড়া বৈঠক। প্রচন্ড ঠান্ডার মধ্যে লাল ঝান্ডার ডাকে এই সভায় উপস্থিত হচ্ছেন খেতমজুর, দিনমজুর, গাঁয়ের অসংগঠিত শ্রমিক। সেখানে এক পাড়া বৈঠকে বলছেন খেতমজুর পান্ডব ক্ষেত্রপাল। তাঁর অভিজ্ঞততা থেকে তিনি বলেছেন, বামফ্রন্টের সময়ে কোন গরিব মানুষকে গ্রাম ছাড়তে হয়নি।। কেউ ভিটেমাটি, বাবা-মা, সন্তানদের ছেড়ে ধান রুইতে অন্য রাজ্যে যেতেন না। এখানে কাজ ছিল, গরিবের হাতে জমানো অর্থ ছিল, কাউকে খিদে নিয়ে রাতে ঘুমোতে যেতে হয়নি। এখন কাজ নেই, হাতে টাকা নেই, মাইক্রোফিনান্সের ঋণের জালে আমরা গলা পর্যন্ত ডুবে আছি। এই রাজত্বে গরিবের মান সন্মান বলে আর কিছু  রাখছে না কোম্পানীর বাউন্সার’রা। পান্ডব ক্ষেত্রপাল ১০০ দিনের কাজ চেয়েছিলেন, তৃণমূলের নেতা বলেছিল বেশি বাড়াবাড়ি করিস না জেলে পাঠিয়ে দেবো। পান্ডব’রাও বলেছিলেন এবার তোমাদের জেলে যাবার সময় হয়েছে। আমাদের গ্রামের মানুষ তোমাদের উচিত শিক্ষা দেবে। 
গাঁয়ে এখন আলু পাতার কাজ শেষ,  কাজ নেই খেতমজুরদের। সকলেই দাবি করছেন ১০০ দিনের কাজ আমাদের ফিরিয়ে দেওয়া হোক। লক্ষ্মী বাউরি বলেছেন, ভিক্ষে চাইনা কাজ চাই। লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রতিদিন ৩০ টাকা আর ১০০ দিন কাজ করলে মজুরি ৩০০ টাকা। কোন অজুহাত শুনবো না ১০০ দিনের কাজ বন্ধ করে রেখেছে তৃণমূল-বিজেপি ষড়যন্ত্র করে। যারা চুরি করলো মোদীর সিবিআই, ইডি তাদের ধরলো না, গরিবদের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হলো। ১২৫ দিন কাজ দেবার নাম করে বিজেপি গরিবদের পেটে লাথি মারতে চায়ছে। এখন চাষীরাও বলছেন, বামফ্রন্টকেই ভোট দিতে হবে,  ওরা জিতলে ফসলের দাম থাকে, গরিবের কাজ থাকে, দুর্নীতি বন্ধ হয়। এখন গরিব মানুষ না খেয়ে মরছে আর বড়লোকদের পা চাটছে দুই ফুল। পান্ডব ক্ষেত্রপাল বলেছেন, আমরা বাইরের রাজ্যে আর যেতে চায়না। চাষীরা কিভাবে আমাদের কাজ দেবে?  ওদের সারের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে, ফসলের দাম নেই। পাড়া বৈঠকে সন্ধ্যা বাগ বলেছেন, ১২ বছরে খেতমজুরের মজুরি বাড়েনি। লাল ঝান্ডা নিয়েই এ বছর আমরা ৫০ টাকা মজুরি বাড়াতে পেরেছি। মজুরি আন্দোলনে আমরা বুজতে পারি কারা আমাদের বন্ধু আর কোন দল শত্রু। তৃণমূল-বিজেপি কেউ আমাদের মজুরি বাড়ানোর কথা মুখে উচ্চারণ করে না। অনেকেই বলেছেন ১০০ দিনের কাজ হলে মেয়েদের হাতে পয়সা থাকে, তাঁদের সংসার চালাতে অসুবিধা হয়না। এখন গ্রামে এমন অবস্থা ঘরে আগুন লাগলে নেভানোর লোক পাড়ায় থাকে না। পান্ডব ক্ষেত্রপাল বলেছেন,  আমি লাল ঝান্ডার মিছিলে হাঁটি বলে আমার ঘর তালিকা থেকে বাদ দেবার ষড়যন্ত্র করছে। দলের রং দেখে ঘর দিচ্ছে তৃণমূল। গ্রামে মতুয়াদের ভোটার তালিকায় নাম নেই, সকলকেই শুনানিতে ডাকা হয়েছে। ধর্ম ও জাত-পাতের নামে এতদিন রাজনীতি করে গরিব মানুষকে বিভক্ত করার চেষ্টা করছে বিজেপি এবার মানুষের চেতনা ফিরছে গেরুয়া –তৃণমূল বোঝাপড়া  করেই খেতমজুর, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষকে ভাগ করতে চায়ছে। ১০০ দিনের কাজ বন্ধও দুই ফুলের বোঝাপড়ার ষড়যন্ত্র। 

Comments :0

Login to leave a comment