নদিয়ার কালীগঞ্জে তৃণমূল জয়ের উল্লাসে দুষ্কৃতীদের বোমা হামলায় মৃত্যু হয়েছিল ছোট্ট তামান্নার। একমাত্র ১০ বছরের কন্যাকে হারানো মা সাবিনা ইয়াসমিন আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেন মঙ্গলবার রাতে। একদিকে আদরের ছোট্ট তামান্নাকে হারানোর যন্ত্রণা। অন্যদিকে অভিযুক্তদের শাস্তি না হওয়ার যন্ত্রণা। মেয়ের খুনের বিচার চাওয়ায় শাসক দলের দুষ্কৃতীদের হুমকির মুখে পড়ে পরিবারের কথা ভেবে উদ্বেগে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বেশি পরিমাণে ঘুমের ওষুধ খেয়ে। মঙ্গলবার রাতেই তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় পলাশীর মীরা গ্রামীণ হাসপাতালে। সেখান থেকে স্থানান্তরিত করা হয় শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে। সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছিল। বউদবার সকালে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোর করে তাঁকে হাসপাতাল থেকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। পরিবারের দাবি, পর্যাপ্ত চিকিৎসা না করিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় পুলিশের তরফে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তামান্নার পরিবার তাঁকে কলকাতার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে জেলা পুলিশের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন তামান্নার বাবা। চিকিৎসা না করেই হাসপাতাল থেকে বাড়ি পাঠানোর ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে পলাশীর মোলান্দি গ্রামে। প্রতিবেশীদের অভিযোগ, ‘মেয়েকে খুন করার পরেও ওরা রেহাই দিচ্ছে না পরিবারটাকে। চিকিৎসা না করেই ছেড়ে দেওয়া হল হাসপাতাল থেকে। তাঁদের বক্তব্য পুলিশের কাজ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা, শাসক নেতাদের নির্দেশ রক্ষা করতে চিকিৎসকের ভূমিকাও পালন করছে জেলা পুলিশ।
নদীয়ার কালিগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচনের ভোট গণনার ফলাফলের দিন তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বোমায় মৃত্যু হয় তামান্না খাতুনের। মোট চব্বিশ জনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেও পুলিশ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছে। এখনও অধিকাংশই ধরা পড়েনি। যে কয়েকজন দুষ্কৃতী ধরা পড়েছে তারাও ভোটের আগে ছাড়া পেয়ে যাবে বলে তৃণমূলের লোকজন বলে বেড়াচ্ছে। তামান্নার বাবাকেও হুমকি দিচ্ছে একমাত্র আদরের মেয়েকে হারানোর পরেও। শাসক তৃণমূলের ভোট লুটের কারিগর। তাই শাসক চুপ। পুলিশ প্রশাসনও এই মামলা ধামাচাপা দিতে তৎপর।
তামান্নার বাবা পরিযায়ী শ্রমিক হোসেন শেখ বললেন, পুলিশের চাপে তামান্নার মাকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হয়েছিল, চিকিৎসা ঠিকমতো না হওয়ায় তামান্নার মায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। তাই তাঁকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
Tamannas Mother
পুলিশের চাপে ছেড়ে দিল হাসপাতাল, চিকিৎসার জন্য কলকাতার পথে তমান্নার মা
×
Comments :0