Election 2026 Mathabhanga

প্রচারে ঝোড়ো ইনিংস বাম প্রার্থী খগেন চন্দ্র বর্মনের

জেলা বাংলা বাঁচানোর ভোট

ভোটের দিন ঘোষণার পরেই প্রচারের ঝোড়ো ইনিংস খেলতে শুরু করেছেন মাথাভাঙা বিধানসভা বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআই(এম) প্রার্থী হাইস্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক খগেন চন্দ্র বর্মন। তাঁর বাইক ছুটছে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে। রাস্তার ধারের জমিতে কাজ করতে করতেই  হাত নাড়িয়ে অনেকেই বলছে,‘‘মাষ্টার হামরা আছি, তোমার সাথে।ভয় না খান। জিতিবেন তোমারায়’’
এদিকে ২০১১ সালের পর এই প্রথমবার ছন্নছাড়া শাসক তৃণমূল দল। মঙ্গলবার তৃণমূলের প্রার্থী ঘোষণা হয়েছে। টিকিট পাওয়ার দৌড় থেকে ছিটকে গেছেন প্রাক্তন বনমন্ত্রী বিনয় কৃষ্ণ বর্মন, দলের জেলা চেয়ারম্যান গিরিন্দ্র নাথ বর্মন, আর এক যুব নেতা। ক্ষোভে ফুঁসছে তিন নেতার অনুগামীরা। এদিকে এই কেন্দ্রে বিজেপির জেতা বিধায়কের টিকিট অনিশ্চিত। বাতাসে ঘুরছে অন্য নাম। ধন্দে বিজেপি কর্মীরা। পুরো মাঠ জুড়ে এখন শুধুই লালঝান্ডার দাপট!
হিন্দুস্থান মোড়ের চায়ের দোকানের ক্রেতা সতীশ দেবনাথ বলেই ফেললেন,‘‘গত তিনটে বিধানসভা ভোটে এরকম ছবি সত্যিই চোখে পড়ে নি।’’ যদিও এসবে অবশ্য মাথা ঘামাতে রাজি নন সিপিআই(এম) প্রার্থী। বুধবার ভোরের আলো ফুটতেই খগেন চন্দ্র বর্মন হাজির নিজের জন্মভিটে উনিশ বিশা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। এখান থেকেই এদিন তিনি সরাসরি বাড়ি বাড়ি প্রচার শুরু করলেন।
কখনও বাড়িতে আবার কখনও চাষের জমিতে দলীয় কর্মীদের নিয়ে জমির আলপথ ধরে হাঁটছেন প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক। প্রার্থীর প্রচার যেন চলমান আদালত হয়ে ওঠে। সবাই জানাচ্ছেন অভিযোগ। জয়ন্তীর হাটের সত্যেন রায়, সুধীন রায় বলছেন, ‘‘ আলুর দাম তো সাড়ে ৩ টাকায় নেমে এসেছে। খরচ তো কেজিতে ১৩ টাকা। আপনি জিতলে আমাদের ভুলে যাবেন না দয়া করে। আরেক আলু চাষী দীপক বর্মন অভিযোগ করে বলেন, জমিতে আলু পড়ে আছে বন্ড মিলছে না আপনি জিতে আমাদের জন্য কিছু করুন। চলমান প্রচারে উঠে আসছে নদী ভাঙন ঠেকাতে ব্যর্থ গতবারের বিজেপি বিধায়ক। ভোটে জিতে বাঁধ করে দিতে হবে মানসাই নদীতে।
নিশিগঞ্জে ২০১১ সালে ভোটের আগে তৎকালীন সিপিআই(এম) বিধায়ক ও মন্ত্রী অনন্ত রায় সেল্ফ ফিনান্স কলেজ গড়ে দিয়েছিলেন। কথা ছিল ভোটে জিতলে ২০১২ তে কলেজ সরকার পোষিত হবে। সেবার ভোটে জিতে সরকার গড়েছিল তৃণমূল। ১৬ বছরে কলেজ আর সরকার পোষিত হয় নি। এখন সেই কলেজের গেটে তালা ঝুলছে। নিশিগঞ্জের দিলীপ বিশ্বাস বলেন, আমরা চাই এবারে সিপিআই(এম) জিতুক। তৃণমূল আর বিজেপির বিধায়ককে ১৫ বছর দেখলাম। কিস্যু হল না। কাস্তে-হাতুড়ি তারা প্রতীকেই ভরসা রাখছি আমরা। জয়ন্তীরহাটে প্রচার সেরে হাজরাহাটের দিকে বাইক ছুটিয়ে যাবার আগে খগেন চন্দ্র বর্মন প্রত্যয়ী সুরে বললেন, রাজ্যের মানুষ এখন ভয়ংকর বিপদের মধ্যে আছে। মানুষের অধিকার রক্ষা করতে হবে। এটাই বলছি সবাইকে। দুদিনেই প্রচুর সাড়া মিলেছে। জয়ন্তীরহাট থেকে হাজরাহাট যাবার পথে বারবার থামছে সিপিআই(এম) প্রার্থীর বাইক। আসছে একের পর এক ফোন। তাদের কেউ দলের কর্মী কেউবা প্রাক্তন ছাত্র। সবার জিজ্ঞাসা কবে আসবেন আমাদের এলাকায়? মৃদু হেসে প্রার্থী বললেন,‘‘আমার প্রাক্তন ছাত্রদের কেউ কেউ এখন অন্যদল করে। তাঁরা ফোন করে বলছে,স্যার আপনি দাঁড়িয়েছেন। আমরা পাশে আছি। গুরুদক্ষিনা দিতে চাই।’’

Comments :0

Login to leave a comment