Dhupguri

অন্ধকারে ধূপগুড়ির রাজপথ, ‘নির্বিকার’ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা

জেলা

শহরজুড়ে উন্নয়নের ঢাকঢোল পিটলেও বাস্তব চিত্রটা ঠিক উল্টো। সন্ধ্যা নামলেই ঘুটঘুটে অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে ধূপগুড়ি পৌরসভার মূল রাস্তা। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে পথবাতি বিকল হয়ে পড়ে থাকলেও সারানোর কোনো উদ্যোগ নেই প্রশাসনের। খোদ বিধায়ক এবং প্রাক্তন উপ-পৌর প্রধানের বাড়ির ঢিল ছোড়া দূরত্বে রাস্তার এই বেহাল দশা দেখে ক্ষোভে ফুঁসছেন ৩ ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের নেতাজীপাড়ার বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধূপগুড়ি পৌরসভা এলাকার এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন পৌরসভা সহ ৫ টি গ্রাম পঞ্চায়েতের কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। গত প্রায় দুই বছর ধরে এখানকার অধিকাংশ পথবাতিই অকেজো। হাতেগোনা দুই-একটি আলো জ্বললেও তার অবস্থা তথৈবচ। আলোর তেজ এতটাই কম যে রাস্তা চেনা দায়। বাসিন্দাদের অভিযোগ, অন্ধকারে গা বাঁচিয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে পথচারীদের। তার ওপর অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে দ্রুত গতিতে বাইক যাতায়াত করায় যেকোনো মুহূর্তে বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, সমস্যার কথা বারবার তৎকালীন পৌরসভার আধিকারিক ও প্রশাসক মণ্ডলীর উপ-পৌর প্রধানকে জানানো হয়েছে। কিন্তু টনক নড়েনি কারো। বর্তমানে মহকুমা শাসকের অধীনে পৌর প্রশাসন চললেও জনদুর্ভোগ মেটাতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ক্ষুব্ধ নাগরিক রিদম ঠাকুর, বাপি ঘোষ, শম্ভু ভট্টাচার্যরা বলছেন, ​“দিনের পর দিন আমরা অন্ধকারে যাতায়াত করছি। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই অন্ধকারাচ্ছন্ন রাস্তাটি ৩ ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের সংযোগস্থল, যা প্রাক্তন উপ-পৌর প্রধানের ‘খাস তালুক’ হিসেবে পরিচিত। এমনকি এই রাস্তা দিয়েই প্রতিনিয়ত যাতায়াত করেন স্থানীয় বিধায়ক। শাসক দলের জনপ্রতিনিধিদের বাড়ির এত কাছে এই দুরবস্থা দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এলাকার মানুষের সমস্যা কি তাঁদের নজরে পড়ে না, নাকি সব দেখেও তাঁরা হাত গুটিয়ে বসে আছেন?
স্থানীয় বাসিন্দা মৃণাল কান্তি সরকার ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, "আমরা বার বার জানালেও প্রশাসন কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না। সন্ধ্যার পর মহিলারা ও বয়স্করা ওই রাস্তা দিয়ে হাঁটতে ভয় পাচ্ছেন। সরকার শুধু বড় বড় কথা বলে, কাজের বেলায় শূন্য।" পৌরবাসীর স্পষ্ট কথা, অবিলম্বে পথবাতি সচল করা না হলে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।

Comments :0

Login to leave a comment