ফের জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা বাংলাদেশে। বাংলাদেশে মৌলবাদী তাণ্ডব অব্যাহত অন্তর্বর্তী সরকারের মদতে। গত দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকারের মদতে বাংলাদেশে মৌলবাদী ও অতি-দক্ষিণপন্থী শক্তিগুলি সক্রিয়তা বাড়িয়েছে। তার জেরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপসনালয়ের পাশাপাশি সুফি দরগা, পীর মাজারের ওপর আক্রমণ বেড়েছে। মাজারে ভাঙচুর বা আগুন লাগানোর ঘটনার পাশাপাশি, পরিকল্পিতভাবে পীরদের কবরের অবমাননায় উসকানি জুগিয়েছে নানা মৌলবাদী গোষ্ঠী। একই ধাঁচের হামলার শিকার বাউল ও ফকির সংস্কৃতি। গত দেড় বছরে একাধিক বাউল শিল্পীকে দলবদ্ধভাবে নিগ্রহ করা হয়েছে। মৌলবাদী বাহিনীর তাণ্ডব, দল বেঁধে পিটিয়ে হত্যা, সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ অংশের বহু মানুষ। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সহ বামপন্থী দলগুলি রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
শরিফ ওসমানি হাদির মৃত্যুর হিংসার আগুন জ্বলেছে বাংলাদেশে। ময়মনসিংহে মৌলবাদী উন্মত্ত জনতা বস্ত্র শ্রমিক দীপু দাসকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। তাঁর দেহ জ্বালিয়ে দিয়েছে এই বাহিনী। তার পর তোলাবাজির অভিযোগ এনে বাংলাদেশের পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে সংখ্যালঘু হিন্দু এক যুবককে। সেখানেই থামনেনি তান্ডব। ময়মনসিংহের ভালুকায় একটি বস্ত্র কারখানায় এক নিরাপত্তা রক্ষীর গুলিতে নিহত হয়েছেন বজেন্দ্র বিশ্বাস নামে এক নিরাপত্তা কর্মী। বর্ষ বিদায়ের দিন ৩১ ডিসেম্বর ফের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা।
স্থানীয় সময় বুধবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে শরীয়তপুরের ডামুড্যার কনেশ্বর ইউনিয়নের কেউরভাঙ্গা বাজারের কাছে। ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন ওষুধ ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাস(৫০)। তাঁকে ঢাকার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পাঠানো হয়েছে। জানা গেছে বাড়ি ফেরার পথে খোকন চন্দ্র দাসকে প্রথমে ধারাল অস্ত্র দিয়ে ‘কোপানো’ হয়। তারপর পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে মারার চেষ্টা করে দুষ্কৃতীরা। গুরুতর আহত অবস্থায় ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অপরাধীরা এখনও গ্রেপ্তার হয়নি।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক মহম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, রোগীর মাথা ও হাতে আগুনে পুড়ে যাওয়ায় জখম রয়েছে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়েছে। পেটে আঘাতটি গুরুতর হওয়ায় তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাই তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার বিচার চেয়ে তাঁর স্ত্রী সীমা রানী দাস বলেন, আমার স্বামীর কেউরভাঙ্গা বাজারে ওষুধ ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ব্যাবসা করেন। রাতে বাড়িতেই ফিরছিলেন। এই হামলার কথা শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি আমার স্বামীর শরীরে আগুন জ্বলছে। তাঁর মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপানো হয়েছে। দুষ্কৃতীরা অটোরিকশা থামিয়ে তাঁকে মারধর করে। হামলাকারীদের চিনে ফেলায় তাঁর শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠান। তাঁর অবস্থা খুবই খারাপ। এই ঘটনার সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
ঘটনা প্রসঙ্গে সদর পালং মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক শাহ আলম বলেন, আহত ব্যক্তি একজন ওষুধ ব্যবসায়ী। বাড়ি ফেরার পথে দুষ্কৃতীরা তাঁর টাকা ছিনিয়ে নেয়। দুষ্কৃতীদের তিনি চিনে ফেলায় তাঁকে কুপিয়ে এবং কেরোসিনজাতীয় পদার্থ দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Bangladesh
বাংলাদেশের ফের কুপিয়ে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা
×
Comments :0