Gangrape Murdered in Bihar

বিহারে নাবালিকাকে দলবেঁধে ধর্ষণ, কুয়োয় ফেলে দেওয়ায় মৃত্যু

জাতীয়

বিহারে দলবেঁধে ধর্ষণ এক নাবালিকা ছাত্রীকে। অভিযোগ তাকে বাড়ি থেকে জোর করে তুলে শৌচালয়ে নিয়ে গিয়ে দলবেঁধে ধর্ষণ করা হয়। দশম শ্রেণির ছাত্রীর চিৎকারে পরিবারের লোক ছুটে এলে নির্যাতিতার কিশোরীকে কুয়োয় ফেলে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। কুয়োর মধ্যেই ছাত্রীটির মৃত্যু হয়। গত বুধবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের সারান জেলায়। এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে ধৃত অভিযুক্তের নাম যুবরাজ কুমার। অভিযুক্ত আরও চারজন পলাতক। অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেছে স্থানীয়রা। 
সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী বুধাবার সন্ধ্যায় রান্নার জন্য কাঠ সংগ্রহ করতে নির্যাতিতা বাড়ির কাছেই একটা পুরনো কুঁড়েঘরে গিয়েছিল। অজান্তেই, সে সেখানে লুকিয়ে ছিল অভিযুক্তরা। সে পৌঁছানোর সাথে সাথেই অভিযুক্তরা তাকে ধরে ফেলে, একটি পরিত্যক্ত বাড়ির বাথরুমে টেনে নিয়ে যায় এবং দলবেঁধে ধর্ষণ করে। নির্যাতিতা জোরে চিৎকার করে। চিৎকার শুনে তার মা এবং বড় বোন এবং আশেপাশের অন্যান্য বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরিবারের আসতে দেখে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা মেয়েটিকে পা ধরে ১০ মিটার দূরে একটি কুয়োয় টেনে নিয়ে যায়। এরপর তাকে গভীর কুয়োয় ঠেলে ফেলে দেয়। সেই সময় এলাকা ছিল অন্ধকার সেই সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। গ্রামবাসীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে মেয়েটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। গভীর কুয়োয় দড়ি ফেলে নির্যাতিতার নিথর দেহ উদ্ধার হয়। গ্রামবাসীদের বক্তব্য নির্যাতিতা প্রায় আধ ঘন্টা ধরে জলের নিচে লড়াই করে বাড়চার জন্য। যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকে। দেহ উদ্ধার করে গ্রামবাসীরা পুলিশকে খবর দেয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে দেয়। ময়নাতদন্তের পর দেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। 
ছাত্রীর বাবা অন্য রাজ্যে দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন ঘটনার সময় বাড়িতে ছিলেন না। স্থানীয় এবং নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগ, প্রধান অভিযুক্ত আগেও ছাত্রীটির শ্লীলতাহানি করেছিল। এমনকি সে একবার জোর করে তাদের বাড়িতে ঢুকে ধর্ষণের হুমকি দেয়। তাদের আরও অভিযোগ অভিযুক্তরা প্রায়ই বিপুল সম্পদের জাহির করতো এবং দাবি করতো পুলিশ প্রশাসনকে ঘুষ দিয়ে নিজেদের করা দুষ্কর্মগুলিও ধামাচাপা দিতে পারে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ অভিযুক্তার অতীতে আরও বেশ কয়েকজন মেয়েকে হয়রানি করেছে। কিন্তু পুলিশের নিস্কৃয়তার কারণে তাদের সাহস  বেড়ে যায়। নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, অভিযুক্তদের তাঁরা চেনেন। প্রত্যেকেই ওই গ্রামের বাসিন্দা। আগেও তাদের মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। নির্যাতিতার পরিবার এবং গ্রামের মানুষ দুষ্কৃতীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ দেখান। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত এক অভিযুক্তকে প্রেপ্তার করে আরও চার অভিযুক্তের খোঁজেও শুরু হয়েছে তল্লাশি। সারান গ্রামীণ পুলিশ সুপার সঞ্জয় কুমার সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন, ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি টিম প্রমাণ সংগ্রহ করেছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।

Comments :0

Login to leave a comment