বিজ্ঞানমনস্কতা প্রচারের জন্য ফের যদি গ্রেপ্তার হতে হয়, তাহলেও পিছুপা হব না। দৃপ্ত কন্ঠে একথাই বললেন কৃষ্ণনগরে গ্রেপ্তার হওয়া বিজ্ঞান কর্মী আমির চাঁদ শেখ। রবিবার কলকাতার মৌলালি যুবক কেন্দ্রে অ্যাসোসিয়েশন অফ হেল সার্ভিস ডক্টরস এর ২৬ তম রাজ্য সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি। এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু।
সরকারি চিকিৎসকদের সংগঠন এএইচএসডি তার জন্মলগ্ন থেকেই সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার সাথে যুক্ত সমস্ত অংশের কর্মীদের এবং রোগীদের জন্য লড়াই করছে। সংগঠনের সম্পাদক ডাক্তার উৎপল ব্যানার্জি বলেছেন, "আমাদের প্রথম লক্ষই হল সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবাকে চোখের মনির মতো রক্ষা করা। এবং সকলের স্বাস্থ্যের অধিকারকে সুনিশ্চিত করার জন্য এএইচএসডি লড়াই করে যাবে। ২০২৪ এর ২৫ তম সম্মেলনের পর থেকে এই সম্মেলনের পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে। আর জি কর হাসপাতালে অভয়ার ঘটনা সমাজের সামনে এনে দিয়েছে কর্তব্যরত অবস্থায় একজন চিকিৎসকও নিরাপদ নন। আর জি কর আন্দোলনে যে লক্ষ লক্ষ মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন এবং ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন অধিকার রক্ষার লড়াইয়ের জন্যই। এই আন্দোলনে প্রথম থেকে এএইচএসডি লড়াই করছে এবং বর্তমানেও সেই লড়াইয়ে রয়েছে। এই সময়কালেই বিভিন্ন নাগরিক মঞ্চ, চিকিৎসকদের সংগঠন সবাইকে একত্রে অভয়া মঞ্চ তৈরি করতে পেরেছি। আমাদের লক্ষ্যই থাকবে অভয়ার ন্যায় বিচার ছিনিয়ে আনা।"
তিনি বলেছেন, "শুধু আন্দোলন সংগ্রামী নয় বিজ্ঞানমনস্কতা গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক অধিকার হরণের বিরুদ্ধে আমরা রাস্তায় থাকবো। এছাড়াও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে দুর্নীতি অনিয়ম এবং যে থ্রেট কালচার তার বিরুদ্ধেও এ এইচ ডি দৃঢ়ভাবে লড়াই করবে।"
এদিন বিশ্বজিৎ বসু বলেন, "এএইচএসডি কথা আমি প্রথম শুনি অভয়া আন্দোলনের সময়। শুধুমাত্র সরকারি চিকিৎসকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে লড়াই নয় চিকিৎসা ক্ষেত্রে সঙ্গে যুক্ত সকল মানুষের লড়াইয়ের পাশে থাকে অ্যাসোসিয়েশন। সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থাকে বাঁচানোর লক্ষ্যে লড়াই করছেন আপনারা। এর পাশাপাশি সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থা যারা গ্রহণ করে অর্থাৎ সেই গরিব খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষকেও বোঝাতে হবে যে স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আজ পণ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। বেসরকারি কোম্পানিগুলি শুধুই মুনাফার জন্য চলছে। উল্টোদিকে সরকার দেখাচ্ছে সুপার স্পেশালিটি মেডিকেল কলেজ উন্নত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। কিন্তু আদপে ওই মেডিকেল কলেজের ভেতর কোনও পরিকাঠামোই নেই। ন্যায্য অধিকারের লড়াইয়ে স্বাস্থ্য আন্দোলনের পাশে বিচার ব্যবস্থা নিশ্চয়ই দাঁড়াবে।"
বিজ্ঞান কর্মী আমির চাঁদ শেখের কথায় ঘুমন্ত সমাজ ব্যবস্থাকে জাগাতে রোজ লড়াই করতে হবে। কুসংস্কার, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে তুলতে পারাই মনুষ্যত্বের লক্ষ্য হওয়া উচিৎ। আমার বৃদ্ধ মা বুঝেছিলেন চক্ষুদান অন্য একটি অন্ধ মানুষকে দৃষ্টি ফিরিয়ে দিতে পারে। আজকের সমাজের জন্য এটা প্রয়োজন। মায়ের কথা অনুযায়ী আমি এবং আমার পরিবার সেই কাজ করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় প্রশাসন ও বিচার ব্যবস্থা আমাকে জেল হাজত দিয়েছে। কিন্তু বিজ্ঞানমনস্কতার প্রচারের জন্য ফের হাজতে যেতে হলে, আমি তার জন্য প্রস্তুত।"
রবিবার এই সম্মেলনে গোটা রাজ্য থেকে প্রায় ৩০০ বেশি প্রতিনিধি যোগ দেন। এসোসিয়েশনের গোটা রাজ্য জুড়ে প্রায় 40 টি শাখা রয়েছে। তারা আলোচনা করেন আগামী দিনে কিভাবে সরকারি চিকিৎসকদের এই সংগঠন এগিয়ে যাবে ও দাবিদাওয়া পূরণের লক্ষ্যে লড়াই করবে। এদিনের সম্মেলন শেষে ডাক্তার উৎপল ব্যানার্জিকে সম্পাদক ডাক্তার শ্যামল পরীকে সভাপতি ও ডাক্তার অরিন্দম ভট্টাচার্যকে কোষাধক্ষ্য হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।
Comments :0