Mithun Chakraborty

প্রতিশ্রুতি রাখেনি ফিল্মস্টার মিঠুন, এমজেএন রোগীদের ভরসা ব্যাটারি চালিত টেবিল ফ্যান

জেলা

প্রতিশ্রুতি দেওয়াই হয় বুঝি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জন্য! 
মিঠুন চক্রবর্তীর নামও এবার এই বিশ্বাস ভঙ্গের তালিকায় জুড়ে গেল!  রাজ্যে পালা বদলের পর ফিল্মস্টার মিঠুন চক্রবর্তী সপার্ষদ এসেছিলেন কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। ওনাকে ঘিরে তখন হাজির মেডিক্যাল কলেজের সব আধিকারিকেরা। যেন বিভাগীয় মন্ত্রী এসেছেন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের হাল হকিকৎ দেখতে! তিনি এলেন, দেখলেন আর বলে গেলেন, "হাসপাতালের রোগীদের গরমে ভীষণ কষ্ট হয়।আমি ওদের জন্য এসি-র ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। মিডিয়ার ক্যামেরা ঝলসে উঠলো। সবাই ধন্য ধন্য করলো।
তারপর কেটে গেছে তিনমাস! খোঁজ নিয়ে জানা গেল এসি তো দূরস্ত! হাসপাতালে রোগীদের জন্য সিলিং ফ্যানই অপ্রতুল। বাধ্য হয়ে রোগীর পরিবার ব্যাটারি চালিত টেবিল ফ্যান নিয়ে হাসপাতালে আসেন!
প্রায় তিন মাসে আগে ২৮ মে বিজেপির এই নেতা ফিল্মস্টার হাসপাতালে এসেছিলেন। সঙ্গে জেলাশাসক, পুলিস সুপার সহ মেডিক্যাল কলেজের আধিকারিকেরা।তাদের সামনেই এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। কথা রাখেন নি তিনি।
বৃহস্পতিবার হাসপাতালে বাবাকে নিয়ে এসেছেন পানিশালার আবু বক্কর। তাঁর বাবা ভর্তী আছেন। গরম সহ্য করতে পারছে না বাবা। এসি-র প্রসঙ্গ তুলতেই আবু বক্করের জবাব, "টিভিতে খবরটা আমিও দেখেছিলাম।আমার জিজ্ঞাসা ওনার কাছে কেউ তো এসি দাবি করেন নি। তবুও নিজেই প্রতিশ্রুতি দিলেন আবার ভুলেও গেলেন। এটা আসলে গরীব মানুষকে নিয়ে তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়।"
উল্লেখ্য এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে বছর খানেক আগে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় অনেক গুলি সিলিং ফ্যান নষ্ট হয়ে যায়। তারপর অজ্ঞাত কারণে সেগুলি আর মেরামত হয় নি। ইনডোর যেন এখন অগ্নিকুন্ড। এমনিতেই দাবদাহ বাড়ছে কোচবিহারে। সব মিলিয়ে রোগী আর তাঁর পরিবারের সদস্যদের নাভিশ্বাস উঠছে। 
রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর হাসপাতালের ভেতরের ছবি তোলা নিষিদ্ধ। ইনডোরে ঢোকার মুখেই নিরাপত্তা কর্মীদের সতর্ক বার্তা,"ছবি তুলবেন না"। ছবি তুললে দেখা যেত মাথার ওপরের সিলিং ফ্যান ঘুরছে না। রোগীর পরিবারের আনা ব্যাটারি চালিত টেবিল ফ্যানই ভরসা।
সূত্রের খবর কথা ছিল প্রথমে পুরুষ ও মহিলাদের মেডিসিন বিভাগে এসি বসবে। ফিল্মস্টারের আশ্বাস বাস্তবায়িত হয় নি। এখন শোনা যাচ্ছে হাসপাতাল প্রশাসন নিজেরাই পুরুষ ও মহিলা মেডিসিন বিভাগ ও সার্জিক্যাল বিভাগে এসি বসাবে। ফের এসি-র প্রতিশ্রুতি শুনে রোগীদের তির্যক মন্তব্য,"এত আরাম সহ্য হবে না।ওনারা দয়া করে সিলিং ফ্যানগুলি মেরামত করে দিক।তাহলে গরমে হাঁসফাস করতে হবে না।
প্রতিশ্রুতি যাই আসুক না কেন তীব্র গরমে এমজেএন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রোগীদের ভরসা বাড়ি থেকে আনা ব্যাটারি চালিত টেবিল ফ্যান।

Comments :0

Login to leave a comment