জেএনইউ প্রাক্তন ছাত্রনেতা উমর খালিদ, শারজিল ইমামকে জামিন না দেওয়ায় সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরেই বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন ছাত্রছাত্রীরা। সেখানেই মোদী-শাহের বিরুদ্ধেও ওঠে স্লোগান। মোদী-শাহের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানালে ছাত্রছাত্রীদের জন্য কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিল জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সাসপেনশন সহ প্রয়োজনে বহিষ্কার করারও হুঁশিয়ারিও দিয়েছে এই কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে পোস্ট করে জানায়, এই ঘটনায় জড়িত ছাত্রছাত্রীদের চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সহ তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর'ও দায়ের করা হয়েছে। এই বিক্ষোভে জড়িত ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হিসাবে অবিলম্বে বরখাস্ত, বহিষ্কার এবং প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে। কর্তৃপক্ষ বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয় নতুন চিন্তার উদ্ভাবনেই জায়গা এখানে ঘৃণার চাষের অনুমতি দেওয়া যাবে না।
কিন্তু এই বক্তব্য নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কী কেন্দ্রীয় সরকারের চাটুকারিতা করতেই ব্যস্ত থাকবে। গোটা বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন এবিভিপি ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিভাজন করে জাতি ধর্ম ও বর্ণের ভিত্তিতে, তখন এই তৎপরতা দেখা যায় না কর্তৃপক্ষের। ২০২০ সালে জানুয়ারি মাসে যখন ছাত্রসংসদের নেতৃত্বের উপর আক্রমণ করা হয়েছিল। সেই ঘটনার তদন্ত করে শাস্তি দিতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সরকারের বিরুদ্ধে ন্যায্য প্রতিবাদ হলেই বাড়তি তৎপরতা দেখা যায় তাদের।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে স্লোগান তোলাকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের রীতিনীতি বিরোধী বলেছে। এমন ফতোয়া ঘিরে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ। বিশ্ববিদ্যালয় বরাবর অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের জায়গা। বিশ্বজুড়েই এই প্রবণতা দেখা গিয়েছে। আবার আমেরিকাতেই ট্রাম্পের মতো অতি দক্ষিণপন্থী স্বৈরাচারী রাষ্ট্রপ্রধান আক্রমণের অন্যতম লক্ষ্য করেছেন সেদেশের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসকে। মোদীর অনুগত কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন নির্দেশিকায় সে মনোভাবই দেখছে বড় অংশ।
এছাড়াও বলা হয়েছে মত প্রকাশের স্বাধীনতা একটি মৌলিক অধিকার হলেও, বিশ্ববিদ্যালয় বেআইনি আচরণ বা দেশবিরোধী কার্যকলাপ কোনও অবস্থাতেই সহ্য করা হবে না।
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের থেকে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এছাড়াও জানা গিয়েছে যে যদি সেই ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হয় তবে কর্তৃপক্ষ আইন ও বিশ্ববিদ্যালয় সংশিষ্ট আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Comments :0