শমীক লাহিড়ী
১৮৫৭ সাল আর ২০২৬ সালের মধ্যে সময়ের ব্যবধান প্রায় পৌঁনে দু’শো বছর। প্রযুক্তির উন্নতি হয়েছে প্রচুর, কিন্তু একটি জায়গায় আজও দেশদুনিয়া একই তিমিরেই রয়ে গেছে — তা হলো সংবাদমাধ্যমের ওপর 'ঈশ্বরের' নিয়ন্ত্রণ। ১৮৫৭ সালে সেই ঈশ্বর ছিলেন ব্রিটিশ রাজশক্তি, যার পদসেবা করতেন সমাজের অনেক কেষ্টবিষ্টু। এই স্বনামধন্যদের মধ্যে অন্যতম, প্রখ্যাত কবি এবং ভারতবর্ষের প্রথম দৈনিক সংবাদপত্র ‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকার সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। আর ২০২৬ সালে সেই ঈশ্বর হলেন বিশাল এক-একজন কর্পোরেট মোগল, যাদের আঙুলের ইশারায় নাচে আধুনিক তথ্যপ্রবাহ। এই বিবর্তনের ফলে কী হলো? এক কথায় সংবাদ আজ আর খবর পৌঁছে দেয় না, আজ তা বাজারের ‘পণ্য’। এজন্যই শ্রমজীবী মানুষের নিজস্ব মুখপত্র থাকা কেবল প্রয়োজন নয়, অস্তিত্বের লড়াই এর সাথে যুক্ত।
সংবাদে রাজভক্তি
১৮৫৭ সালের জুন মাস। সিপাহিদের বিদ্রোহে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত যখন কাঁপছে, কলকাতার তথাকথিত ‘শিক্ষিত বুদ্ধিজীবী’ সমাজ তখন সাহেবের খিদমতগারিতে ব্যস্ত। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত তাঁর ‘সংবাদ প্রভাকর’-এ বিদ্রোহীদের প্রতি বিষোদ্গার করে লিখলেন— "দুষ্ট সিপাহিরা কেবল লোভে পড়ে রাজবিদ্রোহী হয়েছে। তারা মহারানী ভিক্টোরিয়ার সদয় শাসনের অমর্যাদা করেছে।" ভক্তি এখানেই থামেনি। বিদ্রোহীদের ধ্বংস কামনা করে তিনি পরমেশ্বরের কাছে সম্পাদকীয়তে আরজি জানালেন— "রাজদ্রোহী পামরগণ সমূলে বিনাশপ্রাপ্ত হউক।" কবিতায় লিখলেন— "চিরকাল হয় যেন ব্রিটিশের জয়।" ঈশ্বর গুপ্তের কাছে স্বাধীনতা সংগ্রামীরা ছিলেন ‘অকৃতজ্ঞ’, কারণ তারা নুন খেয়ে গুণের গান গায়নি। রাজেন্দ্রলাল মিত্র বা কিশোরীচাঁদ মিত্রদের মতো তৎকালীন উচ্চবিত্ত সমাজও এই সশস্ত্র সংগ্রামকে ‘সেনাবাহিনীর উচ্ছৃঙ্খলতা’ বলে দাগিয়ে দিয়েছিলেন। শাসকের স্বার্থরক্ষা করার এই নির্লজ্জ বয়ান আসলে আজকের ‘পেইড নিউজ’-এর আদিম রূপ।
তথ্য যখন তালুবন্দি
ঈশ্বর গুপ্ত’র আমলের ব্যক্তিকেন্দ্রিক মালিকানা এখন আর নেই। এখন হয়েছে ‘সংবাদমাধ্যম কনসলিডেশন’ অর্থাৎ আজ সংবাদমাধ্যম কেন্দ্রীভূতকরণের কবলে। বর্তমান পৃথিবীতে সংবাদ আর সম্পাদকের মগজে তৈরি হয় না, তৈরি হয় ধনকুবেরদের ড্রয়িং রুমে।
বিশ্বজুড়ে রুপার্ট মারডক বা জেফ বেজোসের মতো ‘মিডিয়া মোগল’রাই এখন তথ্যের ভাগ্যবিধাতা। মারডকের ‘নিউজ কর্প’ এখন ফক্স নিউজ আর ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল চালায়, অ্যামাজনের বেজোস কিনে নিয়েছেন ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’। আমেরিকা ও ইউরোপের ৯০% মিডিয়া মাত্র ৫/৬টি বিশাল কোম্পানির পকেটে। ডিজনি থেকে কমকাস্ট— সবাই মিলে ঠিক করে দেয় বিশ্ববাসী কী ভাববে আর কী খাবে।
ভারতের চিত্রটি আরও ভয়াবহ। মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স আজ ‘নেটওয়ার্ক-১৮’-এর মাধ্যমে ডজন ডজন চ্যানেলের মালিক। আর গৌতম আদানি? কেন্দ্রীয় সরকারি এজেন্সিগুলোর লাঠি ঘুরিয়ে তিনি এনডিটিভি’র মতো চ্যানেল দখল করেছেন। সঙ্গে আছে জৈন পরিবারের বেনেট কোলম্যান বা টাইমস গ্রুপ, সরকার পরিবারের মালিকাধীন এবিপি গ্রুপ, মাপিল্লাই পরিবার নিয়ন্ত্রিত মালায়লা মনোরমা ইত্যাদি। ডিজিটাল যুগে আবার যোগ হয়েছে মেটা (ফেসবুক), গুগল আর ইলন মাস্কের ‘এক্স’। সংবাদ সংস্থাগুলো এখন এই প্ল্যাটফর্মগুলোর অ্যালগরিদমের কাছে হাত পেতে বসে থাকে।
স্বার্থের গোলকধাঁধা
‘মালিকের গাফিলতিতে খনিতে শ্রমিক মৃত্যু, ক্ষোভ।’ এখন সেই খবরটাই হয়— ‘খনি দুর্ঘটনায় মৃত শ্রমিকের পরিবারকে মালিকের সস্নেহ সান্ত্বনা, মানবিকতার অনন্য নজির!’
একেই বলে স্বার্থের সংঘাত। এখানে সাংবাদিকের কলম মালিকের 'চেকবই'-এর কাছে বন্ধক দেওয়া থাকে। এর পোশাকি নাম ‘সেলফ-সেন্সরশিপ’ বা স্বঘোষিত সেন্সরশিপ। ক্রস-মিডিয়া ওনারশিপের ফলে টিভি থেকে পোর্টাল— সব জায়গায় একই সুরে মালিকের ভজনা চলে, যাকে বলা যায় তথ্যের ‘হোমোজেনাইজেশন’ বা বৈচিত্র্যহীন একঘেঁয়েমি।
সংবাদের পণ্যায়ন
১৮৪২সালে কার্ল মার্কস তাঁর ‘রাইনিশে জাইটুং’ পত্রিকার অভিজ্ঞতা থেকে বুঝেছিলেন, পুঁজিবাদের অধীনে সংবাদ আর ‘খবরের সেবা’ থাকে না, তা স্রেফ ‘পণ্যে’ পরিণত হয়। সমাজের অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই সংবাদমাধ্যম তার প্রাসাদ বানায়।
আজ কর্পোরেট মিডিয়া যেভাবে চলছে তাতে মার্কসের ‘আইডিওলজিক্যাল হেজিমনি’ বা মতাদর্শগত আধিপত্যের তত্ত্বের সত্যতাই প্রমাণিত হয়। শ্রমিকের ধর্মঘটকে ‘উন্নয়নের বাধা’ আর পরিবেশ রক্ষাকে ‘দেশ বিরোধী’ দেখানোই এখন মিডিয়ার দস্তুর। মার্কস তাঁর ‘দ্য জার্মান আইডিওলজি’-তে লিখেছিলেন— "The ideas of the ruling class are in every epoch the ruling ideas" অর্থাৎ, প্রতিটি যুগে শাসকের চিন্তাই সাধারণের মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। ১৮৫৭-তে যা ছিল ব্রিটিশ ভক্তি, ২০২৬-এ তা আদানি-আম্বানি ভক্তি।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মায়া
সোশাল মিডিয়া বা ইউটিউব আমাদের মুক্তির পথ দেখাবে ভাবা হয়েছিল, কিন্তু এক্ষেত্রে বাস্তবতা আরও জটিল। ফেসবুক বা গুগল আজ অ্যালগরিদমের মাধ্যমে আমাদের মস্তিষ্ক হাইজ্যাক করছে। নিরপেক্ষ খবরের বদলে বিতর্কিত ‘ক্লিকবেট’ খবর বেশি ছড়িয়ে দেওয়া হয় কারণ তাতে মালিকের মুনাফা বেশি।
এখানেই শেষ নয়, আছে ‘শ্যাডো ব্যান’। যদি কোনো সংবাদমাধ্যম, কর্পোরেট বা সরকারের বিরুদ্ধাচরণ করে, তবে ফেসবুক, ইউটিউব ইত্যাদিরা তার বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেয় বা অ্যালগরিদম দিয়ে পোস্ট বা ভিডিও’র ভিউ কমিয়ে দেয়। আধুনিক সাংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক আজও পরাধীন; আগে ছিলেন ব্রিটিশ রাজের দাস, আজ ‘কর্পোরেট ঈশ্বরের’ বেতনভুক কর্মচারী।
আধুনিক নিয়ন্ত্রণের কৌশল
আধুনিক সংবাদমাধ্যম কীভাবে জনমত গঠন বা নিয়ন্ত্রণ করে, সে বিষয়ে প্রখ্যাত ভাষাতত্ত্ববিদ ও দার্শনিক নোয়াম চমস্কি এবং এডওয়ার্ড এস হারম্যান একটি অত্যন্ত প্রভাবশালী তত্ত্ব উপস্থিত করেছিলেন। ১৯৮৮ সালে তাঁদের লেখা 'Manufacturing Consent' অর্থাৎ ‘সম্মতি উৎপাদন’ বইতে তাঁরা দেখিয়েছেন, ‘গণতান্ত্রিক’ দেশে শাসক ও পুঁজিপতিরা গায়ের জোরে নয়, বরং সংবাদমাধ্যমকে ব্যবহার ক’রে অত্যন্ত কৌশলে মানুষের মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণ করে। এই প্রক্রিয়াকে চমস্কি বলেছেন সম্মতি উৎপাদন। অর্থাৎ, আপনার মনে হচ্ছে কোনো বিষয়ে আপনি আপনার স্বাধীন মতামত দিচ্ছেন, কিন্তু আসলে সেই মতামতটি মিডিয়া আপনার মাথায় সুকৌশলে ঢুকিয়ে দিয়েছে।
চমস্কির এই তত্ত্বে পাঁচটি 'ফিল্টার' বা ছাঁকনির কথা বলা হয়েছে, যার মাধ্যমে তথ্য আমাদের কাছে আসার আগে ছেঁকে নেওয়া হয়।
১। মালিকানা— সংবাদমাধ্যমগুলো এখন আর স্বাধীন নয়; সেগুলো বিশাল সব কর্পোরেটদের অধীনে। তাই স্বাভাবিকভাবেই কোনোও নিউজ রুম এমন কোনো খবর প্রচার করবে না, যা তাদের মালিকের বা অন্য কোনো বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর স্বার্থে আঘাত লাগে। যেমন আদানির মিডিয়া আদানির দুর্নীতির খবর দেখাবে না।
২। বিজ্ঞাপন— সংবাদপত্র বা টিভি চ্যানেলের মূল আয় আসে বিজ্ঞাপন থেকে। পাঠক বা দর্শক এখানে 'ক্রেতা' নয়, বরং 'পণ্য'। সংবাদমাধ্যমগুলো তাদের স্পন্সর বা বিজ্ঞাপনদাতাদের অসন্তুষ্ট করতে চায় না। তাই খবরের বিষয়বস্তু এমনভাবে সাজানো হয় যাতে পুঁজিপতিদের সুবিধা হয়।
৩। তথ্যের উৎস
সাংবাদিকরা খবরের জন্য সরকার, পুলিশ বা বড় কর্পোরেট হাউজগুলোর প্রেস রিলিজের ওপর নির্ভর করেন। এই ক্ষমতাশালী গোষ্ঠীগুলো তাদের নিজেদের মতো করে সাজানো তথ্য (Spin) সংবাদমাধ্যমকে দেয়। তারাও বিনা প্রশ্নে সেগুলো প্রচার করে, কারণ বিকল্প তথ্য সংগ্রহ করা ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য।
৪। ফ্ল্যাক বা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া— যদি কোনো সাহসী সাংবাদিক বা ছোট সংবাদমাধ্যম কর্পোরেট স্বার্থের বিরুদ্ধে সত্য প্রকাশ করে, তবে তার ওপর নেমে আসে আক্রমণ। একেই চমস্কি বলেছেন 'ফ্ল্যাক'। এটি আইনি মামলা, হুমকি বা সোশাল মিডিয়ায় চরিত্রহননের মাধ্যমে হতে পারে। এই ভয়ে বাকিরা চুপ হয়ে যায় (Self-censorship)।
৫। অভিন্ন শত্রু— মানুষকে একত্রিত করতে বা কোনো বিশেষ বিল পাস করতে সংবাদমাধ্যম সব সময় একটি 'কাল্পনিক শত্রু' বা 'আতঙ্ক' তৈরি করে রাখে। যেমন 'কমিউনিজম', 'সন্ত্রাসবাদ' বা 'বিশেষ কোনো ধর্মীয়/জাতিগত গোষ্ঠী'। মানুষকে যখন আতঙ্কে রাখা হয়, তখন তারা নিজেদের অধিকার খর্ব হলেও সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকতে রাজি হয়ে যায়।
নোয়াম চমস্কির মতে, সংবাদমাধ্যম আপনাকে কী ভাবতে হবে তা সবসময় বলে না, বরং কোন কোন বিষয়ে আপনি ভাববেন (Agenda Setting) তা ঠিক করে দেয়। যখন হাজার হাজার টিভি চ্যানেল আর সংবাদপত্রে একই সাথে একটি বিশেষ সুর বাজাতে থাকে, তখন সাধারণ মানুষের মনে হয় সেটাই একমাত্র সত্য। এভাবেই কারখানা থেকে পণ্য তৈরির মতো মানুষের 'সম্মতি' ‘উৎপাদন’ করা হয়।
কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে একটা মজার গল্প চালু আছে সাংবাদিক মহলে। এক বড় সংবাদমাধ্যমে সাংবাদিক নিয়োগের ইন্টারভিউ চলছে। সম্পাদক প্রার্থীকে জিজ্ঞেস করলেন— আচ্ছা বলুন তো, ২ যোগ ২ কত হয়? প্রথম প্রার্থী বললেন ৪ হয়। তিনি বাদ পড়লেন। দ্বিতীয় প্রার্থী ৫ হতে পারে, আবার ৩-ও হতে পারে। ডেটা অ্যানালিসিস করতে হবে। তিনিও বাদ পড়লেন। তৃতীয় প্রার্থী সম্পাদকের কানে কানে ফিসফিস করে বললেন— স্যার, আপনার মালিক বা বিজ্ঞাপনদাতা ঠিক কত সংখ্যা চান, বলুন তো? ইনিই চাকরিটা পেলেন।
কেন শ্রমজীবীদের কাগজ
এই কর্পোরেট অন্ধকারের বিপরীতে সাধারণ মানুষের কথা বলবে কে? যখন মূলধারার মিডিয়া শোষকের লাঠিয়াল, তখন শ্রমজীবীদের নিজস্ব ‘বিকল্প মঞ্চ’ থাকা বাধ্যতামূলক।
১) বিকল্প বয়ান (Counter-Hegemony) - কর্পোরেট মিডিয়া ধর্মঘটকে ‘মানুষের ভোগান্তি’ বললে, শ্রমিকের কাগজ তাকে ‘অধিকারের লড়াই’ বলবে। এটি মানুষের ‘মিথ্যা চেতনা’ (False consciousness) ভাঙার প্রধান অস্ত্র।
২) সমষ্টিগত সংগঠক— লেনিন বলেছিলেন, সংবাদপত্র হলো দালান তৈরির ‘ভারা’ (Scaffolding)। এটি কেবল তথ্য দেয় না, মানুষকে একই আদর্শে সংগঠিত করে। (কী করিতে হইবে) লেনিন বোঝাতে চেয়েছিলেন, একটি বিপ্লবী দল বা সামাজিক আন্দোলন হলো সেই 'বাড়ি', যা তৈরি করা আমাদের লক্ষ্য। আর সংবাদপত্র হলো সেই 'ভারা', যা রাজমিস্ত্রিকে এই বাড়ি বানাতে সাহায্য করে।
৩) রাজনৈতিক শিক্ষা— বিনোদনের নেশা ছাড়িয়ে মুদ্রাস্ফীতি বা বেকারত্বের আসল কারণগুলো সাধারণ মানুষকে সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দেওয়াই এই সংবাদপত্রের কাজ।
৪) স্বাধীন কণ্ঠস্বর— যেহেতু এই কাগজ কেবলমাত্র কর্পোরেট বিজ্ঞাপনের দাক্ষিণ্যে বাঁচে না, তাই এটি সরাসরি শোষকের চোখে চোখ রেখে সত্য বলতে পারে।
কর্পোরেট মিডিয়া মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে রাখে, কিন্তু শ্রমজীবীর নিজস্ব সংবাদপত্র মানুষকে একত্রিত করে। এটি কেবল খবর দেয় না, বরং শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য একটি কাঠামো বা ভিত্তি তৈরি করে দেয়। সংবাদপত্র হলো সেই সুতো, যা দেশের হাজার হাজার বিচ্ছিন্ন মানুষকে একই আদর্শে গেঁথে ফেলে একটি শক্তিশালী সংগঠন তৈরি করে।
কর্পোরেট ‘ঈশ্বর’ বনাম শ্রমিকের কলম
সংবাদ প্রভাকর থেকে বর্তমানের কর্পোরেট মিডিয়া— ইতিহাসের চাকা ঘুরে আবার একই জায়গায়। ১৮৫৭ সালে ঈশ্বর গুপ্ত গেয়েছিলেন ব্রিটিশের জয়গান, ২০২৬-এ সংবাদমাধ্যমগুলো লগ্নিপুঁজির মালিকদের মহিমা গাইছে। সংবাদ যখন মুনাফার যন্ত্র, তখন সাংবাদিকতা তার সম্মান হারায়। এই অন্ধকারের বিপরীতে দাঁড়িয়ে একমাত্র বিকল্প হলো শ্রমজীবী মানুষের নিজস্ব সংবাদমাধ্যম, যা কোনো কর্পোরেট ‘ঈশ্বরের’ কাছে মাথা নত করে না। শোষিত মানুষের হাত থেকে কলম যতক্ষণ না সরছে, ততক্ষণ পর্যন্ত সত্যকে পুরোপুরি ধামাচাপা দেওয়া সম্ভব নয়। সংবাদপত্র হলো স্ফুলিঙ্গ, যা একদিন শোষণের বিরুদ্ধে দাবানল জ্বালিয়ে দেবে।
এই লক্ষ্যেই নিরবচ্ছিন্ন ভাবে কাজ করে চলেছে গণশক্তি বিগত ছয় দশক ধরে, সব ধরনের প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েও।
Comments :0