Post Editorial

ভাঁওতার পাঁচালীতে বাংলার শিকড় মানে ধর্ম

উত্তর সম্পাদকীয়​

চন্দন দাস


১৬ পাতার রঙিন, ঝকঝকে পুস্তিকা, নাম ‘উন্নয়নের পাঁচালী’। প্রকাশ করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ভূমিকা হিসাবে সাদা কাগজের টুকরো সেঁটে দেওয়া হয়েছে পুস্তিকার প্রথম পাতার ডান কোণে। যেখানে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই পুস্তিকার যাবতীয় পরিসংখ্যান গত সাড়ে ১৪ বছরের উন্নয়ন মূলক কর্মসূচির ‘সাফল্য’র খতিয়ান। বাকি ৬ মাসের হিসাব পরে যুক্ত করা হবে। ৬ মাস পরের সেই রিপোর্টের অপেক্ষায় থাকতে হবে। কিন্তু আপাতত সাড়ে ১৪ বছরের মমতা-শাসন সম্পর্কে তৃণমূল সরকারের পেশ করা রিপোর্ট সরকার সম্পর্কেই কিছু প্রশ্ন হাজির করেছে। 
৮৭লক্ষ কাজ পাঁচ বছরে?
২০১১-য় তৃণমূল একটি নির্বাচনী ইশ্‌তেহার প্রকাশ করেছিল। সেখানে তারা বলেছিল যে, শিল্পে ‘সবুজ বিপ্লব’ তাদের লক্ষ্য। প্রতিটি মহকুমায় ১০টি করে শিল্প গড়ে তোলা হবে তৃণমূল সরকারে এলে। তৃণমূল সরকার গড়েছিল। রাজ্যে ৫২টি মহকুমা। গত সাড়ে ১৪ বছরে কোন মহকুমায় ক’টি শিল্প গড়ে তুললেন মমতা ব্যানার্জি, সেই কৌতূহল রাজ্যের মানুষের থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু ‘উন্নয়নের পাঁচালী’তে তার কোনও উল্লেখ নেই। ২০১৫ থেকে ২০২৫— রাজ্যে এগারোটি ‘বিশ্ববঙ্গ শিল্প সম্মেলন’ করেছে মমতা ব্যানার্জির সরকার। প্রতিটি শিল্প সম্মেলনের শেষে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কত টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব এল— তা সবিস্তারে ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের দাবি, এই শিল্প সম্মেলনগুলিতে মোট ১৮,১৬,৯২৪ কোটি ২লক্ষ টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। কিন্তু ‘উন্নয়নের পাঁচালী’তে তার কোনও উল্লেখই রাখা হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই সেই বিনিয়োগের পরিপ্রেক্ষিতে কত শিল্প হয়েছে— এসবের কোনও উল্লেখ ‘উন্নয়নের পাঁচালী’তে নেই। 
২০১১-র সেই ইশ্‌তেহারে মমতা ব্যানার্জির পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল যে, রাজ্যের যুবকদের কাজের জন্য তাঁর সরকার ‘এমপ্লয়মেন্ট ব্যাঙ্ক’ তৈরি করবে। চাকরি হবে সেই ব্যাঙ্কের মাধ্যমে। মুখ্যমন্ত্রীর বহু আকাঙ্ক্ষিত গদিতে বসতে পারার পর তৃণমূল নেত্রী ‘এমপ্লয়মেন্ট ব্যাঙ্ক’ গঠন করেছিলেন। কিন্তু সেই ব্যাঙ্কের মাধ্যমে রাজ্যের কত যুবক চাকরি, কাজ পেয়েছেন, তার কোনও তথ্য এই ‘পাঁচালী’তে নেই। আশ্চর্যজনকভাবে ‘এমপ্লয়মেন্ট ব্যাঙ্ক’-এর কোনও উল্লেখই নেই এই পুস্তিকায়। সরকার কী মুখ্যমন্ত্রীর সেই ঘোষণা ভুলিয়ে দিতে চাইছে? 
পুস্তিকায় দাবি করা হয়েছে যে, গত সাড়ে ১৪ বছরে ২কোটি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে সরকার। অর্থাৎ বুথপিছু গড়ে ২৪৮জনের কাজ পেয়েছেন। রাজ্যে এমন কোনও বুথ আদৌ আছে কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তাৎপর্যপূর্ণ হলো ২০২১-এর ৫ ফেব্রুয়ারির বিধানসভার ভাষণের অংশ। ‘‘গত ১০ বছরে আমাদের সরকার ১ কোটি ১২ লক্ষ ৫০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।’’ মমতা ব্যানার্জি বলেছিলেন সেদিন। সেদিন তিনিই বিধানসভায় বাজেট পেশ করেছিলেন। কারণ তৎকালীন অর্থ মন্ত্রী অমিত মিত্র অসুস্থ ছিলেন। তাহলে পাটিগণিত কী বলছে? গত পাঁচ বছরে ‘উন্নয়নের পাঁচালী’ অনুসারে রাজ্যে ৮৭লক্ষ ৫০ হাজার কাজের ব্যবস্থা করেছে তৃণমূল সরকার। যদিও ২০২১-এর ৫ ফেব্রুয়ারি বিধানসভার ভাষণে মমতা ব্যানার্জি দাবি করেছিলেন যে, আগামী পাঁচ বছরে দেড় কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবো। নিজের সেই ভাষণগুলির কথা মমতা ব্যানার্জি এবং তাঁর বশংবদ আমলাকুলও মনে রাখতে পারেননি। ফলে ‘উন্নয়নের পাঁচালী’র হিসাবেও মমতা ব্যানার্জি ব্যর্থ হয়েছেন। বিস্ময়কর হলো, সরকারের দাবি অনুসারে প্রথম দশ বছরে বুথ পিছু ১৪৩জনের কাজ পরের পাঁচ বছরে বুথপিছু ২৪৮-এ পৌঁছে গেছে! অথচ মমতা ব্যানার্জিই দলীয় সমাবেশে, একটি সংগঠনের সভায় বলেছেন ৫০ লক্ষ রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিক। তাহলে ‘পাঁচালী’র বিবরণকে ভাঁওতা ছাড়া আর কী বলা যায়?
কৃষকের আয় কত? 
রাজ্যে ২০০৭ থেকে ২০১১— এই সময়কালে বামফ্রন্ট জমি কেড়ে নিচ্ছে এই প্রচার প্রবল করে তুলেছিল তৃণমূল এবং তাদের তৎকালীন সহযোগীরা। ‘ভাতের কারখানা’ ধ্বংস হচ্ছে বলেও স্লোগান তুলেছিলেন মমতা ব্যানার্জি। কিন্তু তাঁরই সরকারের এবারের পুস্তিকাকে জমি, জমি বণ্টনের প্রসঙ্গই ভ্যানিশ। গত সাড়ে ১৪ বছরে কতজন ভূমিহীন কৃষক জমির পাট্টা পেয়েছেন, তার কোনও উল্লেখ নেই। এর স্বাভাবিক কারণ, প্রতিটি মহকুমায় দশটি করে শিল্পের মতো কৃষকদের মধ্যে জমি বণ্টনের কাজ এই সরকার করেনি। রাজ্যে তাঁর শাসনে কৃষকদের আয় তিনগুণ বেড়েছে বলে মমতা ব্যানার্জিকে আমরা অনেকবার দাবি করতে শুনেছি। তবে গত দু’বছর এই দাবি তিনিও আর জনসভাগুলিতে করছেন না। তিনি ব্যস্ত মানুষ, ভুলে যেতেই পারেন। তাই আশা করা হয়েছিল যে, যে কৃষক-দরদি হিসাবে তাঁকে ২০০৭ থেকে তুলে ধরা হয়েছিল, সেই কৃষকদের আয় তাঁর শাসনে কতটা বাড়ল তার উল্লেখ থাকবে ‘সাফল্য’ গাঁথায়। কিন্তু নেই। একটি বাক্য নেই কৃষকদের আয় সম্পর্কে। অর্থাৎ রাজ্য সরকার রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া সহ বিভিন্ন সংস্থা বারবার রাজ্যের কৃষকদের দুর্দশা সম্পর্কে যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, সেগুলি তৃণমূল সরকার মেনে নিয়েছে। উল্লেখ্য, নিজের সরকারের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে মমতা ব্যানার্জি প্রকাশ করেছিলেন আর একটি পুস্তিকা— ‘এ টেল অব ফোর ইয়ার্স।’ সেই বইয়ের ৪২ নং পাতায় লেখা হয়েছিল ২০১১-র ৩১ মার্চ কৃষকের গড় আয় ছিল ১ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা। পরে বামফ্রন্ট সরকারের সাফল্যকে আড়াল করতে ২০১৮-র জুনে প্রকাশিত তৃণমূল সরকারের‘ক্রনিকলস অব বেঙ্গলস প্রোগ্রেস’ পুস্তিকার ৮২নং পাতায় দাবি করা হয় যে, ২০১০-১১-তে রাজ্যে কৃষকদের গড় আয় ছিল ৯১ হাজার টাকা। অর্থাৎ বামফ্রন্ট সরকারের সাফল্যকে খাটো করার চেষ্টা হয়। কিন্তু তাঁর সরকার কৃষকের আয় কী তিনগুণ বাড়াতে পারলো? রাজ্যের কৃষকদের বর্তমান আয় কত? তা কী ৩ লক্ষ টাকা পেরিয়েছে? ‘উন্নয়নের পাঁচালী’ এই প্রসঙ্গে বিলকুল চুপ। রাজ্যের কৃষক ফসলের ন্যায্য দাম তো দূরের কথা, চাষের খরচও তুলতে পারেন না ফসল বিক্রি করে। সরকার তাদের এই ‘পাঁচালী’তে সেই সম্পর্কে নীরব থেকে শিল্প-কাজের মতো কৃষকের অবস্থার উন্নতির প্রশ্নেও তারা ব্যর্থ হয়েছে।
‘পাঁচালী’তে সংখ্যালঘুরা
২০০৮-এ, লোকসভা নির্বাচনের কিছুদিন আগে নন্দীগ্রামের সভায় তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি কী বলেছিলেন? বলেছিলেন, বামফ্রন্টের পাশ থেকে মুসলমানদের সরিয়ে নিলেই হয়ে গেল। ব্যস, ওরা শেষ।’ মনে পড়ে? শুভেন্দু অধিকারী সেই সভায় মমতা ব্যানার্জির পাশেই ছিলেন। ২০১১-র তথাকথিত পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক ছিল বামফ্রন্টকে সংখ্যালঘু-বিরোধী প্রমাণ করার অপপ্রচার। ২০১১-য় সংখ্যালঘুদের জন্য কী প্রতিশ্রুতি ছিল মমতা ব্যানার্জির? মমতা ব্যানার্জির প্রতিশ্রুতি ছিল সংখ্যালঘুদের উন্নয়নে বিশেষ তহবিল তৈরি হবে। সাড়ে ১৪ বছর কেটে গেছে। ‘উন্নয়নের পাঁচালী’তে এর কোনও উল্লেখই নেই। মাদ্রাসার শিক্ষকদের জন্য বিশেষ বেতন কাঠামো গড়ে তোলা হবে। তার কী হলো? ‘পাঁচালী’তে এর কোনও উল্লেখ নেই। বিভিন্ন মাদ্রাসায় প্রায় ৫হাজার যুবকের চাকরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল ২০১০-এ। তারপর বিধানসভা নির্বাচন চলে আসায় কাজ শেষ করা যায়নি। তৃণমূল সরকার কী সেই পদ পূরণ করেছে? মমতা ব্যানার্জির ঘোষণা ছিল— প্রয়োজনীয় মাদ্রাসা তৈরি করা হবে। রাজ্যে গত ছ’ বছরে মাদ্রাসা হয়েছে ৯টি। বামফ্রন্ট সরকারের শেষ বছরে মাদ্রাসা ছিল ৬০৫টি। ২০২৫-তে তা দাঁড়িয়েছে ৬১৪-তে। উন্নয়নের পাঁচালী’তে মাদ্রাসার উল্লেখই নেই। মুখ্যমন্ত্রী হয়ে মমতা ব্যানার্জি বলেছিলেন ১০,০০০ আন রেজিস্টার্ড মাদ্রাসাকে অনুমোদন দেবেন। ক’টি হয়েছে? ২৩৫টি। ‘সাফল্য’র হার? ২.৩৫শতাংশ! তার কোনও কথাই রাখা হয়নি মমতা ব্যানার্জির পাঁচালীতে। সেই মাদ্রাসার শিক্ষকরা, ছাত্র-ছাত্রীরা সরকারের কোনও সহায়তা পান না। তাঁরা আন্দোলন করলে পুলিশ টেনে হিঁচড়ে ভ্যানে তুলেছে। কেন তাঁদের জন্য সরকার কিছু করতে পারেনি? কে বলবে? আরও আছে। সংখ্যালঘুদের উন্নয়নে বিশেষ কমিশন করা হবে ছিল মমতা ব্যানার্জির ঘোষণা। এমন কোনও ‘বিশেষ’ কমিশনের কথা রাজ্যের কেউ জানেন না। কিন্তু সরকার কেন ‘পাঁচালী’তে এইটুকু লিখতে পারবে না যে, ‘আমরা চেষ্টা করেছিলাম।’ সেটুকুও লেখার উপায় নেই। কারণ— বামফ্রন্ট সরকারের সময়কালেই ১৯৯৬-এ রাজ্যে সংখ্যালঘু কমিশন তৈরি হয়ে গেছিল। একই সঙ্গে তৈরি হয় সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও বিত্ত নিগম। নতুন করে কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি ছিল ভাঁওতা। আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির আদলে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা হবে, কথা দিয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জি। ‘পাঁচালী’তে তার কোনও উল্লেখই নেই। প্রসঙ্গত, বামফ্রন্ট সরকারের সময়কালেই আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছিল। তৃণমূল সরকারের সময়কালে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা বিতর্ক, গোলমালের সূত্রপাত। আজ ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরতে পরতে অব্যবস্থা। আরও কী ঘোষণা ছিল মমতা ব্যানার্জি? ‘সংখ্যালঘুদের কর্মসংস্থানে প্রাধান্য দেওয়া হবে’। তাও হয়নি। মাদ্রাসায় চাকরির যে সংস্থান বামফ্রন্ট সরকার করে এসেছিল, সেই পদগুলি গত সাড়ে ১৪ বছরে পূরণ করেনি মমতা-সরকার। বরং সরকারি চাকরিতে সংখ্যালঘু কমেছে। ২০১৪-র এপ্রিল থেকে ২০১৫-র মার্চ — এক বছরে রাজ্য সরকারে মুসলমান কর্মচারীর সংখ্যা ১৯,৩৪২ থেকে নেমে গেছে ১৮,৯৯১-এ। এরপর ‘স্টাফ সেনসাস’ প্রকাশই করেনি রাজ্য সরকার। রাজ্যের সরকার গত সাড়ে ১৪ বছরে সরকারের কত শূণ্যপদ পূরণ করেছে, তার তথ্য থাকবে না সরকারি ‘পাঁচালী’তে?
আছে ‘পবিত্র শিকড়’
রাজ্য সরকারের ঘোষণা অনুসারে এই আর্থিক বছরের শেষে, অর্থাৎ ২০২৬-র ৩১মার্চ রাজ্যের মোট ধারের পরিমাণ দাঁড়াবে ৭,৭১,৬৭০কোটি ৪১লক্ষ টাকা। গত ফেব্রুয়ারিতে পেশ করা বাজেটে সরকার জানিয়েছে, ধার শোধ করতেই সরকারের খরচ হবে ৮০হাজার কোটি টাকার বেশি। অর্থাৎ ২০১১-র মে থেকে ২০২৫-র মার্চ—  মমতা ব্যানার্জির সরকার ধারের পরিমাণ বাড়িয়েছে ৫,১৩,৬১১কোটি ৭১লক্ষ টাকা। রাজ্যের মানুষের মাথা পিছু ধার এখন প্রায় ৭৭হাজার টাকা। 
সেই ধারের টাকায় চলছে ধর্মীয় স্থান বানানো। 
রাজ্যের বড় বিপদ সাম্প্রদায়িক এবং মৌলবাদী শক্তিগুলির তৎপরতা। গত সাড়ে ১৪ বছরে রাজ্যে ছোট, বড় অনেকগুলি দাঙ্গা হয়েছে। তাতে প্রাণহানিও হয়েছে। কিন্তু ‘পাঁচালী’র কোথাও, এমনকি আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়েও রাজ্যের দাঙ্গাকারী শক্তিগুলিকে রুখতে সরকার কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে তার উল্লেখ নেই। অথচ আছে ‘পবিত্র শিকড়’ নিয়ে বিস্তৃত ‘সাফল্য’র দাবি। মমতা ব্যানার্জির এই ‘পাঁচালী’তে গুরুত্ব দিয়ে ছাপা হয়েছে —‘ স্যাক্রেড রুটস, আ রিনিউড বেঙ্গল।’ বাংলা মানে করলে দাঁড়ায় ‘পবিত্র শিকড়, এক পুনর্নবীকৃত বাংলা’। ‘পাঁচালী’র বাংলা এডিশনে শিরোনাম পালটে দেওয়া হয়েছে। এই অধ্যায়ে বিভিন্ন ধর্মীয় স্থান তৈরি, উন্নয়ন এবং বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনে তাঁর সরকার কী করেছে, তার বিবরণ দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জি। দাবি করা হয়েছে যে, কয়েক হাজার কোটি টাকা এর জন্য খরচ করা হয়েছে। তালিকার সিংহভাগ জুড়ে আছে সংখ্যাগুরু হিন্দুদের মন্দিরগুলির জন্য সরকারি অবদানের বিবরণ। প্রশ্ন হলো—  শিকড় মানে ভিত্তি। কে বললো সরকারকে যে, পশ্চিমবঙ্গের শিকড় ধর্ম-ভিত্তিক? বাংলার ‘পুনর্নবীকরণ’ ধর্মীয় স্থানগুলিতে স্কাইওয়াক বানিয়ে দেওয়া, নতুন মন্দির তৈরি করার উপর নির্ভর করে, এমন জ্ঞানই বা সরকারকে কে দিল? এমন কোনও প্রতিশ্রুতি ২০১১-এর আগে মমতা ব্যানার্জি রাজ্যবাসীকে দেননি। পনেরো বছর আগে তিনি ক্ষমতায় এসেছিলেন কৃষি-কৃষক-শিল্প-কাজ-এর বিষয়ে ঢালাও, আকর্ষণীয় প্রতিশ্রুতি দিয়ে। কিন্তু ‘পাঁচালী’ই বোঝাচ্ছে তার কোনও প্রশ্নেই সরকার সফল নয়। এই পরিস্থিতিতে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ৬ মাস আগে তাঁর সরকারের প্রকাশিত ‘পাঁচালী’ বোঝাচ্ছে, সরকার প্রভূত গুরুত্ব দিয়েছে ধর্মীয় স্থানগুলির উন্নয়নের জন্য। ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে উতরোতে চাইছেন মমতা ব্যানার্জি, পাঁচালীতে অনেকটা স্পষ্ট।

Comments :0

Login to leave a comment