TEA workers' song after demands are met

বকেয়ার দাবি মেটাতে বাধ্য হলো বাগান কর্তৃপক্ষ, দাবি আদায়ের পর গান শ্রমিকদের

জেলা

 চা শ্রমিকদের মজুরির দাবিতে টানা তিন দিন ধরে চলা জেলা শাসক দপ্তরের সামনের অবস্থান আন্দোলনের অবসান ঘটল। আন্দোলনের তৃতীয় দিনে মেরিকো এগ্রো ইন্ডাস্ট্রির পক্ষ থেকে লিখিত প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরই শ্রমিকরা অবস্থান প্রত্যাহার করেন। মালিকপক্ষ লিখিতভাবে জানায়, আগামী ৩১ জানুয়ারি’র মধ্যেই বীরপাড়া, ধুমসিপাড়া, তুলসীপাড়া ও গ্যারগেন্ডা—এই পাঁচটি চা-বাগানের শ্রমিক, কর্মী ও উপকর্মীদের সমস্ত বকেয়া মজুরি মিটিয়ে দেওয়া হবে। পাশাপাশি শ্রমিকদের অন্যান্য দাবিদাওয়া নিয়ে ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ আলোচনায় বসে সমস্যা সমাধানের পথে এগোনোর আশ্বাসও দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত তিন দিন ধরে চলা এই আন্দোলনে সিআইটিইউ প্রত্যক্ষভাবে নেতৃত্ব ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। তবে শ্রমিকদের অভিযোগ, আন্দোলনের সময় তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে যোগ দেয়নি। আন্দোলন চলাকালীন প্রশাসনিক বৈঠক ভেস্তে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই সময় এক শ্রমিক আত্মহত্যার চেষ্টা করেন এবং অপর এক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

 


প্রশাসনের তরফে গতকাল রাতে জানানো হয়েছিল, সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চালানো যাবে। কিন্তু শ্রমিকরা সেই নির্দেশ মান্যতা দেয়নি এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবস্থানে অনড় থাকে। শেষ পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের চাপে মালিকপক্ষ লিখিত প্রতিশ্রুতি দিতে বাধ্য হয়। শ্রমিকদের মতে, এই ঐক্যই তাঁদের অধিকার ছিনিয়ে আনতে সাহায্য করেছে।
অবস্থান প্রত্যাহারের সময় শ্রমিকরা সাদ্রি ভাষায় গান গেয়ে আলিপুরদুয়ার জেলার সাধারণ মানুষকে পাশে থাকার জন্য অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানান। পাশাপাশি একথাও বলেন নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিশ্রুতি পুরণ না হলে আন্দোলন আরো তীব্র হবে।
শ্রমিক নেতা বিদ্যুৎ গুন, শঙ্কর দাস ও নৃপেন খাসনবিশ জানান, প্রবল শীত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও যেভাবে শ্রমিকরা আন্দোলন চালিয়ে গেছেন, তা অভূতপূর্ব। তাঁদের মতে, ভবিষ্যতে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলনের তীব্রতা আরও বাড়াতে হবে। বিদ্যুৎ গুন স্পষ্ট করে বলেন, লিখিত প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পরেই আন্দোলন আপাতত তুলে নেওয়া হয়েছে, তবে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হলে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে শ্রমিকরা প্রস্তুত।

Comments :0

Login to leave a comment