সারা দেশে অস্বাভাবিকভাবে কমেছে দিনের তাপমাত্রা। রোদের দেখা নেই বলেলেই চলে। ঘন কুয়াশা আর ঠান্ডার চাদর চারপাশে। পৌষের এমন শীতে কাঁপছে পুরো দেশ। বিপর্যস্ত জনজীবন। দেশের বেশিরভাগ অংশে তীব্র ঠান্ডা পড়তে শুরু করেছে। পাহাড়ি এলাকা থেকে সমতল অঞ্চলে তাপমাত্রা ক্রমাগত কমছে। তাপমাত্রা হ্রাসের সাথে সাথে, একটি শৈত্যপ্রবাহ এবং ঘন কুয়াশা মানুষের কষ্ট বাড়িয়েছে। আগামী পাঁচ থেকে সাত দিন ধরে উত্তর-পশ্চিম, মধ্য, পূর্ব এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছু অংশে ঘন সকালের কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুসারে, ৭ জানুয়ারী পাঞ্জাব, হরিয়ানা, চণ্ডীগড়, ওড়িশা, দিল্লি, পশ্চিম রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম এবং ছত্তিশগড়ে শৈত্যপ্রবাহের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ৭ জানুয়ারী পূর্ব উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা, চণ্ডীগড়, মধ্যপ্রদেশ এবং পাঞ্জাবে খুব ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
একই সময়ে, অরুণাচল প্রদেশ, আসাম ও মেঘালয়, বিহার, হিমাচল প্রদেশ, জম্মু অঞ্চল, মধ্যপ্রদেশ, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম এবং ত্রিপুরা, ওড়িশা, উত্তরাখণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ এবং সিকিমে ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, দক্ষিণ পূর্ব বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট একটি নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে। সেই নিম্নচাপ আগামী ২৪ ঘণ্টায় শক্তিশালী হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। ত্রিপুরা সংলগ্ন একটি এলাকায় সক্রিয় হয়েছে ঘূর্ণাবর্ত। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে উত্তর পশ্চিম ও উত্তর দিক থেকে ঠান্ডা হাওয়া বইবে।
আবহাওয়া দপ্তরের বলছে আগামী চারদিনে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পতন হতে পারে। আগামী তিন দিন স্বাভাবিকের থেকে ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি কম থাকতে পারে দক্ষিণবঙ্গের দিনের তাপমাত্রা।
উত্তরপ্রদেশে শৈত্যপ্রবাহ বিপর্যয় ডেকে আনছে। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাপমাত্রা কমতে পারে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তীব্র ঠান্ডার প্রভাব অনুভূত হচ্ছে, তবে কুয়াশা এবং রোদের তীব্রতা কমে যাওয়ায় দিনের বেলায় মানুষের মনে স্বস্তি এসেছে। সামগ্রিকভাবে, আপাতত ঠান্ডা থেকে মুক্তি নেই।
বিহারের বেশিরভাগ জেলায় তীব্র ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। আবহাওয়া দপ্তরের মতে, পাটনা, মুজাফফরপুর, সমস্তিপুর, সহরসা এবং গয়ার মতো জেলাগুলিতে ১০ জানুয়ারী পর্যন্ত ঠান্ডা দিনের মতো পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে। এর অর্থ হল এখানেও ঠান্ডা থেকে মুক্তির কোনও লক্ষণ নেই।
রাজস্থানের রাজধানী জয়পুর সহ অনেক জেলায় তাপমাত্রা তীব্রভাবে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। জয়সলমীর, বারমের, ফালোদি এবং দুঙ্গারপুর বাদে, রাজ্যের প্রায় সব জেলাতেই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রেকর্ড করা হয়েছে। অনেক এলাকায় শৈত্যপ্রবাহের পরিস্থিতি বিপর্যয় ডেকে আনছে। আবহাওয়া দপ্তরের মতে, ১০ জানুয়ারী পর্যন্ত একই রকম আবহাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জম্মু ও কাশ্মীরে শুষ্ক আবহাওয়ার মধ্যেও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। কাশ্মীর উপত্যকায় এক থেকে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেয়েছে, যা অঞ্চলজুড়ে শৈত্যপ্রবাহকে আরও তীব্র করে তুলেছে। কাশ্মীরের উচ্চতর পাহাড়ের কিছু জায়গায় হালকা বৃষ্টি বা তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে, শ্রীনগর সহ উপত্যকার নিম্নাঞ্চলের মানুষ চলতি শীতের প্রথম তুষারপাতের জন্য অপেক্ষা করছে।
দিল্লি এনসিআর কুয়াশা থেকে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া গেছে, তবে ঠান্ডা অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার রোদ ছিল উজ্জ্বল, কিন্তু ঠান্ডা কমেনি। গত ২৪ ঘন্টায় রোদের তীব্রতার কারণে দিল্লি-এনসিআর-এর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে।
মধ্যপ্রদেশে শৈত্যপ্রবাহ এবং কুয়াশার তাণ্ডব অব্যাহত। সকাল হতেই ঘন কুয়াশার চাদর রাস্তাঘাট ঢেকে যায়, যার ফলে দৃশ্যমানতা কমে যায়। বেশিরভাগ শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। আবহাওয়া দপ্তরের মতে, আগামী তিন দিন ঠান্ডা থেকে মুক্তি পাওয়ার আশা খুব কম।
উত্তরাখণ্ডের বেশিরভাগ অঞ্চলে আবহাওয়া শুষ্ক রয়েছে। কেদারনাথ সহ উঁচু এলাকায় হালকা তুষারপাত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এদিকে, সমতল অঞ্চলে কুয়াশা অব্যাহত রয়েছে। আগামী কয়েকদিন পাহাড়ে তুষারপাত এবং সমতল অঞ্চলে ঘন কুয়াশার জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
Cold Wave India
পৌষের শীতে কাঁপছে দেশ
শিলিগুড়ির হিলকার্ট রোডে ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচতে আগুন জ্বালিয়ে উষ্ণতায় ভরসা পথচারীদের। ছবি- রাজু ভট্টাচার্য।
×
Comments :0