‘সরকারি কাজে বাধা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বেআইনি কাজ করেছে। তার সাথে সঙ্গ দিয়েছে কলকাতার পুলিশ কমিশনার, বিধাননগরের পুলিশ কমিশনারেট এবং রাজ্য পুলিশের ডিজিপি। এই সবার বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী চোরাই কাজ করছে।’ আই-প্যাকের দপ্তরে ইডি হানা এবং মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা প্রসঙ্গে সিপিআই(এম)’এর রাজ্য সদর দপ্তর মুজফ্ফর আহমেদ ভবনের সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
কয়লা পাচার কাণ্ডে তৃণমূলে হয়ে ভোট করানো ভোটকুশলী সংস্থা আই-প্যাকের দপ্তরে বৃহ্স্পতিবার সকালে হানা দেয় ইডি। হানা দেয় সংস্থার প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়িতেও। আর আই-প্যাকের মালিকের বাড়ি ইডি হানা দেওয়ার পরপরই সেখানের পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। ইডির সামনে দিয়ে কলকাতা পুলিশকে দিয়ে বিভিন্ন নথি একটি গাড়িতে তোলান মুখ্যমন্ত্রী। গাড়িটি তৃণমূল কংগ্রেসের নামে রেজিস্টার করা। সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং ইডির সামনে দিয়ে নথি নিয়ে চলে যাওয়া প্রশ্ন তুলেছে। কোন নথি নিয়ে পালালেন মমতা? উল্লেখ্য এই কয়লা পাচার মামলায় দিল্লিতে ইডি দপ্তরে হাজিরা দিয়েছিল অভিষেক ব্যানার্জি।
মমতার দাবি ওই কাগজ গুলো তার দলের। সেখানে একাধিক নথি রয়েছে। প্রশ্ন এখানেই তৃণমূলের নথি আই-প্যাকের অফিসে কি করছে।
এদিন সেলিম বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী এর আগেও এই কাজ করেছেন আজ যা করছে। ভবানীপুর থানায় গিয়ে অপরাধী ছড়িয়েছে। আরজি করের সময় পুলিশ দিয়ে প্রমাণ লোপাট করেছিল। ডিজিপি রাজীব কুমারের বাড়ি সিবিআই গেলে তিনি সেখানে যান। ধর্ণা দিয়ে ছিলেন।’
তিনি বলেন, ‘মমতা বেআইনি কাজ করছে। প্রতীক জৈন একজন নাগরিক, ব্যবসায়ী। আইপ্যাকের মালিকানা কার? বেনামে অভিষেকের।’
সেলিমের কথায়, ‘কোন জায়গায় তল্লাসি হলে জায়গা ঘিরে রাখা হয়। সেখানে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয় না। কলকাতা বিধাননগরে কমিশনার ঘটনাস্থলে কেন গেলো? এটা বেআইনি কাজ। রেইড চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ নিজের হাতে ফাইল নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। তৃণমূলের তথ্য বলছে। তাহলে বোঝা গেলো দল ঠিক করে না তাদের কে প্রার্থী হবে। কেন কোন প্রস্তুতি না নিয়ে বাহিনী না নিয়ে তল্লাশি করা হলো না? বাহিনী থাকলে মমতা, পুলিশ ঢুকতে পারত না। যেই গাড়িতে সব তথ্য তোলা হয়েছে সেই গাড়ি তৃণমূলের নামে রেজিষ্টার। সরকারি এজেন্সির তল্লাশি করছে তখন পুলিশ, মুখ্যমন্ত্রী ফাইল বার করে তৃণমূলের গাড়িতে তুলছে। দলের হয়ে কাজ করছে পুলিশ। তল্লাশি চলাকালীন এই ভূমিকা আইনত অপরাধ। আমাদের দেখতে হবে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে কোন অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না?’
সেলিম প্রশ্ন তোলেন, ‘ইডি জানিয়েছে এই তদন্ত কয়লা পাচার কাণ্ডের সাথে যুক্ত। আই-প্যাক ভোট কুশলী সেখানে কালো টাকা কি করে এলো? ঠিক ভাবে করলে তদন্ত করলে ধরা পড়বে কোথায় কোথায় কালো টাকা ঘুরছে। সেই টাকার মালিককে।’ তিনি বলেন, ‘এসআইআরের কাজে এই আই-প্যাকের কর্মীদের ব্যবহার করা হচ্ছে। ভোটার তালিকায় ভুয়ো নাম রেখে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। কমিশন সেটায় মদত দিচ্ছে। মমতার ভয় এই কাগজ থেকে বোঝা যাবে কী ভাবে জালিয়াতি করা হচ্ছে। বিভিন্ন গণনা কেন্দ্রে এই আই-প্যাকের লোকেদের ব্যবহার করা হয়েছে। ভোটার ফলাফল প্রভাবিত করা হয়েছে।’
সেলিম অভিযোগ করে বলেন, ‘আজকে রেইড হবে সেটা জানিয়ে করেছে ইডি। এটা কখনও হয় না। বড় অংশের কর্মীকে আজ আই-প্যাক বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছিল। ইডি সিবিআই যারা পরিচালনা করছে তারা চায় না সঠিক তথ্য সামনে আসুক, চায় শুধু নাটক হোক।’
সেলিম বলেন, ‘পার্থ গ্রেপ্তারের সময় তো মমতা ছুটে যায়নি। প্রতীক তো তৃণমূলের কেউ নয়। কিসের যোগাযোগ রয়েছে তাদের। মমতা আজ বলছে প্রতীক দলের লোক। কয়লা পাচারের টাকা গরু পাচারের টাকা এই কোম্পানিতে খাটে।’
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন আই-প্যাকের দপ্তর তাদের দলের আইটি সেলের অফিস। সেলিম বলেন, ‘আই-প্যাকের অফিস দলের আইটি সেল, আগে তো কখনও শোনা যায়নি। যত দুর্নীতির টাকা সেই গুলো এই কোম্পানিতে খাটানো হয়।’ তিনি বলেন, ‘বিজেপি ইডি সিবিআই কে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে হতেই পারে। ওনার ভূমিকা কী আজকে? রাজ্যের পুলিশকে তিনিও রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে।’
সেলিম বলেন, ‘কাকুর গলার স্বর মিলে যাওয়ার পর লিপ্স এন্ড বাউন্স কোম্পানির টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। মালিক কে ডাকা হলো না?’
আই-প্যাকের অফিসে ইডি হানা নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ দেখাচ্ছে তৃণমূল। সেলিম বলেন, ‘প্রাইভেট কোম্পানি রেড হয়েছে তৃণমূল কেন বিক্ষোভ দেখাচ্ছে? স্কুল বন্ধ হলে পথে নামে না, চাষী দাম না পেলে ওরা নামে না। বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকরা যখন আক্রান্ত হয় তখন তৃণমূলের কোন সংসদ যায়নি। মালদায় আফরাজুল যখন খুন হয় মমতা বলেছিল পরিজয়ীদের ফিরে আসতে। পাঁচ হাজার টাকা দেবে বলেছিল। ওই টাকায় কারুর চলে? ১০০ দিনের টাকা চুরি করছে সেই টাকায় র্যা ম্প হচ্ছে।’
বিজেপিকে নিশানা করে সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ২০১৪ সালে এসে বলেছিল এই রাজ্যের লোকেদের দুটি লাড্ডু একটা মমতা একটা মোদি। তারপর বলেছিল মমতাকে কিছু সময় দিতে। রাজনাথ সিংহ সিঙ্গুরে এসেছিল মমতার ধর্ণা মঞ্চে। এরা সরকারি সভায় যায় না। কিন্তু চুপি চুপি দেখা করে। ২০২০ সালে সিএএ বিরোধী আন্দোলনের সময় কলকাতায় মোদীর সাহস হয়নি রাতে থাকার মমতা ধোঁকা দিয়ে বেলুড়ে গিয়ে মোদীর সাথে দেখা করে। মমতা ধর্ণা করে নাটক করেছিল। এখন সিঙ্গুরে আসবেন মোদী তখন সিঙ্গুরে গাড়ি কারখানা যাতে না হয় আরএসএস বিজেপির সাহায্যে মমতা শিল্প তারিয়েছিল। এরা বাংলার ক্ষতি করেছে। সানন্দে গাড়ি কারখানা যাওয়ার পিছনে মমতার ভূমিকা আছে। পশ্চিম ভারতের ইন্ডাস্ট্রি লবীর হয় পূর্ব ভারতের ক্ষতি করেছে মমতা। মমতা জগৎ শেঠের ভূমিকা পালন করেছে।’
Salim Mamata I-PAC
চোরাই কাজ করেছেন মমতা : সেলিম
সাংবাদিক সম্মেলনে মহম্মদ সেলিম। ছবি : রবীন গোলদার।
×
Comments :0