citu taratala

তারাতলায় মৃত দুই শ্রমিকের শ্যামনগর ও জগদ্দলের বাড়িতে সিআইটিইউ নেতৃবৃন্দ

জেলা

শ্যামনগর বিবেকানন্দ নগরের বাসিন্দা পাপ্পু রজক এর বাড়িতে গার্গী চ্যাটার্জী সহ নেতৃবৃন্দ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছেন।

বিশ্বজিৎ রায়


রাজ্য সরকারের কাছে চাকরির দাবি করলেন তারাতলা এলাকায় নির্মীয়মান কারখানার শেডের ছাদ ভেঙে মৃত জগদ্দল ও শ্যামনগর এর শ্রমিকের পরিবারের লোকজন। শুক্রবার বিকেলে শ্যামনগর আতপুর এলাকায় বিবেকানন্দ নগরের বাসিন্দা পাপ্পু রজক এর বাড়িতে যান সিআইটিইউ উওর চব্বিশ পরগনা জেলা কমিটির সম্পাদক গার্গী চাটার্জি, সোমনাথ সরকার সহ নেতৃবৃন্দ। বৃহস্পতিবার রাতে জগদ্দল পুর্বাশার বাসিন্দা কৃষ্ণ চৌধুরীর বাড়িতেও যান সিআইটিইউ নেতৃবৃন্দ। 
সিআইটিইউ নেতৃবৃন্দকে কাছে পেয়ে পরিবারের লোকজন কান্নায় ভেঙে পড়েন। পাপ্পু রজকের স্ত্রী শিউলি রজক বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে রাজমিস্ত্রির কাজ করে সংসার চালাচ্ছিল। এখন সংসারে আর্থিক সংকটের কারণে কাজের জন্য কলকাতা কাজে যায়। এখানকার একজন ঠিকাদার এর মাধ্যমে আমার স্বামী এই কাজ পেয়েছে। কিন্তু এখন সেই ঠিকাদার যে আমার স্বামীকে কাজে নিয়ে গেছে সেটা স্বীকার করছে না। এখানে এখন আর সেইভাবে কাজ হচ্ছিলো না। মেয়ে পড়াশোনা করে। খুব অভাবের সংসার। আমার মেয়ের যদি একটা কাজ হয় তাহলে আমরা বাঁচতে পারবো। সরকার বলেছে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেবে। কিন্তু সেটা দিয়ে সারাজীবন কি ভাবে চলবে? একটা চাকরি পেলে আমরা খেয়ে পড়ে বাঁচবো।"
সিপিআই(এম) শ্যামনগর এরিয়া কমিটির পক্ষ থেকে পাপ্পু রজক এর মেয়ে পুষ্পা রজক এর পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছে। সিপিআই(এম) উওর চব্বিশ পরগনা জেলা কমিটির সদস্য সোমনাথ সরকার এই কথা পাপ্পু রজক এর পরিবারকে বলেন। পুষ্পা রজক আগামী বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে।
বৃহস্পতিবার রাতে জগদ্দল পুর্বাশার বাসিন্দা কৃষ্ণ চৌধুরীর বাড়িতেও যান সিআইটিইউ নেতৃবৃন্দ। কৃষ্ণা চৌধুরী কাকিনাড়া রিল্যায়েন্স জুট মিলে কাজ করতো। কিন্তু মিল মাঝে মাঝে বন্ধ হয়ে যায়। এখন তিন শিফটের জায়গায় দুই শিফট চলে। সপ্তাহে তিন দিন থেকে চার দিন কাজ হয়। সেই টাকা দিয়ে সংসার চলে না। সেইজন্য কলকাতায় কাজ করতে যাচ্ছিল। মেয়ে এগারো ক্লাসে পড়ে। এক ছেলে ক্লাস এইট ও একজন ক্লাস ফোর এ পড়ে। তিনজনের পড়াশোনার খরচ চলবে কি করে? শ্বাশুড়ি খুব অসুস্থ। তার অনেক টাকার ওষুধ কিনতে হয়। কি ভাবে এই সংসার চলবে? একটা চাকরি পেলে আমরা খেয়ে পড়ে ও ছেলে মেয়ের পড়াশোনা খরচ দিয়ে কোনমতে বাঁচবো। সরকার ক্ষতিপূরণ দেবে। সেই টাকা দিয়ে কতদিন চলবে। পাঁচ জন মানুষ সংসারে আছে। অভাবের সংসার। রাজ্য সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ আমাদের একটা কাজ দিন।
সিআইটিইউ উওর চব্বিশ পরগনা জেলা কমিটির সম্পাদক গার্গী চ্যাটার্জী বলেন, "আমরা এই দুই পরিবারের পাশে আছি। সিআইটিইউ'র পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারের কাছে আমরা দাবি করছি এই দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে পঞ্চাশ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এদের পরিবারের একজনকে চাকরির ব্যাবস্থা করতে হবে। এই ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।পরিবারের এই দুই পরিবারের আবেদন রাজ্য সরকারকে সহানুভূতি দিয়ে বিচার বিবেচনা করুক।"
 পশ্চিমবঙ্গ নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন ভাটপাড়া-জগদ্দল আঞ্চলিক কমিটির নেতৃবৃন্দ শুক্রবার সকালে জগদ্দল পুর্বাশার বাসিন্দা কৃষ্ণা চৌধুরী র বাড়িতে যান। নেতৃবৃন্দ পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। নির্মাণ শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ বলেন আমরা এই পরিবারের পাশে আছি। এই পরিবারের তিনজন ছেলে মেয়ের পড়াশোনা বাবদ খরচ আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে দেবো। এছাড়াও নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে কাকিনাড়ায় একটি দাতব্য চিকিৎসালয় চলে। এই পরিবারের সদস্যদের সবার চিকিৎসা ও ওষুধ এর দায়িত্ব নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন ভাটপাড়া-জগদ্দল আঞ্চলিক কমিটি নেবে। এই সংগঠনের নেতা নির্মল নাথ,জহর ঘোষাল ও গন আন্দোলনের নেতা দুর্গা প্রসাদ কুন্ডু তারাতলায় নিহত পরিবারের কাছে গিয়েছিলেন।
 

Comments :0

Login to leave a comment