সনাতন ধর্মের নামে পুরোদমে ব্যবসা চলছে। বিজেপি’র নাম বদলে হওয়া উচিত ‘ভাচপা’- চাতুরি, চাঁদা, চুরি আর চালবাজির আখড়া।
অযোধ্যার রাম মন্দিরের ভক্তদের দানের টাকা নয়ছয় ঘিরে রবিবার এভাবেই বিজেপি-কে আক্রমণ করেছেন সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ সিং যাদব।
রাম মন্দিরে নগদ টাকা সরানোর পাশাপাশি গয়নার মতো দামী জিনিসপত্র সরানোর তদন্তে ধৃত আটজনের বাড়িতে রবিবার তল্লাশি চালিয়েছে উত্তর প্রদেশ পুলিশ।
অভিযোগ, রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট, যে প্রতিষ্ঠান গড়ার ঘোষণা সংসদে করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, বেনিয়ম এবং আর্থিক নয়ছয় আগে থেকেই জানত।
একাধিক সংবাদমাধ্যমের বক্তব্য, গত ৫ জুন ট্রাস্টের জেনারেল সেক্রেটারি চম্পত রাই বনশলের নির্দেশে এক অভিযুক্ত অবিনাশ শুক্লার বাড়িতে তল্লাশির সময় ট্রাস্টের প্রতিনিধি ছিলেন। তল্লাশিতে নগদ টাকা উদ্ধার হলেও সে সময় পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেনি ট্রাস্ট।
আরএসএস’র প্রবীণ প্রচারক চম্পত রাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ বহু। তাঁর ঘনিষ্ঠদের দেওয়া হয়েছিল টাকা গোনা এবং দান রক্ষণাবেক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
এর মধ্যে হাতে এসেছে একটি সিসিটিভি ফুটেজ। চব্বিশ সেকেন্ডের ক্লিপে দেখা গিয়েছে আট অভিযুক্তের একজন কালো ব্যাগে করে টাকা ভরছে। কিন্তু এখনও অভিযুক্তদের জেল হেপাজতে রেখেছে উত্তর প্রদেশ পুলিশ, জেরার জন্য পুলিশ হেজাতে নেওয়া হয়নি। সোমবার তাদের তোলা হবে আদালতে। তবে উত্তর প্রদেশ পুলিশের দাবি তদন্তে নেমে দেখা গিয়েছে বিভিন্ন সময় বন্ধ রাখা হয়েছিল সিসিটিভি।
অখিলেশ বলেছেন, ‘‘বিজেপি’র অভিধানে ধর্ম বা লজ্জা, কোনোটিই অবিশিষ্ট নেই। তাদের নজর ধর্মে নয়, টাকায়। ‘নেশন ফার্স্ট’ স্লোগান দিলেও এদের আসল কথা হলো ‘ডোনেশন ফার্স্ট’।’’ উত্তর প্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘‘মানুষের বিশ্বাস নিয়ে ছেলে খেলা হয়েছে। বারবার সিসিটিভি বন্ধ করা হয়েছে।’’ তাঁর মন্তব্য, ‘‘বিজেপি ডোনেশনও পাবে না, ভোটও না।’’
উত্তর প্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন ২০২৭-এ। রাম মন্দিরে অর্থ তছরুপ ঘিরে সরগরম সারা দেশ। প্রশ্ন রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়েও। রামমন্দিরে ভূমিপূজো থেকে প্রাণপ্রতিষ্ঠায় সব পুরোহিতদের সরিয়ে অগুনতি টিভি ক্যামেরার সামনে ছিলেন তিনি। আর ট্রাস্টের দুর্নীতির ঘটনায় তিনিই একেবারে চুপ।
Ram Mandir Theft
বিজেপি’র লক্ষ্য ‘ডোনেশন ফার্স্ট‘, রাম মন্দির কেলেঙ্কারিতে মন্তব্য অখিলেশের
রবিবার তল্লাশি অভিযুক্তদের বাড়িতে। উঠেছে আসল দোষীদের ছাড় দিয়ে তদন্ত চালানোর অভিযোগ।
×
Comments :0