FIFA World Cup 2026 Messi and Ronaldo

বয়স যে স্রেফ নাম্বার মাত্র, বোঝাচ্ছেন মেসি-রোনাল্ডো

খেলা বিশ্বকাপ ২০২৬

দু’জনই কেরিয়ারের সায়াহ্নে। তবুও তাঁদের আটকাতে হিমশিম খাচ্ছেন ডিফেন্ডাররা। লিওনেল মেসিকে ছকের হিসাবে রোখা যাচ্ছে না, তেমনই ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে মার্কার লাগিয়েও ব্যর্থ হতে হচ্ছে। কথায় আছে, ‘ফর্ম ইজ টেম্পোরারি ক্লাস ইজ পার্মানেন্ট’। এই বিশ্বকাপে ‘ভিন্টেজ’ মেসি-রোনাল্ডোকে দেখা যাচ্ছে। তাঁদের খেলার ধরন আলাদা হলেও, দু’জনই গোলটা খুব ভালো চেনেন। তাই এই বিশ্বকাপেও তাঁরা অনায়াসে গোল করছেন। নিত্তির বিচারে এখন পর্যন্ত এগিয়ে অবশ্য মেসি। 
ছাব্বিশের বিশ্বকাপে সোনার বুটের লড়াইয়ে সবার আগে এখনও পর্যন্ত লিও মেসি। তাঁর সঙ্গে  কাদের লড়াই চলছে? পঁচিশ বছর বয়সি ভিনিসিয়াস জুনিয়র, আর্লিং হালান্ড ও সাতাশের কিলিয়ান এমবাপে। মেসির বয়স সেখানে চল্লিশ ছুঁই-ছুঁই। কিন্তু গোলের নিরিখে বাকিদের চার, মেসির পাঁচ। নকআউটে খেলতে নামার আগেই গোলসংখ্যা বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে লিও’র সামনে। পরের ম্যাচে জর্ডনের মুখোমুখি হবেন তিনি। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমে খবর, লিওনেল স্কালোনি এই ম্যাচে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন। প্রথম একাদশে একাধিক পরিবর্তন করতে পারেন। লিও মেসিকে হয়তো পুরো ম্যাচে খেলাবেন না। যে কোনও একটি অর্ধে তাঁকে খেলানো হতে পারে। তবে তিনি যা ফর্মে রয়েছেন, কম সময়েও গোল খুঁজে নিতে পারেন।
গত বিশ্বকাপে মেসি সাতটা গোলের মধ্যে চারটি গোল করেছেন পেনাল্টি থেকে। এর জন্য কম সমালোচনা সহ্য করতে হয়নি তাঁকে। আর এবার পাঁচটাই ফিল্ড গোল। আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম গোলটা এবারের বিশ্বকাপে অন্যতম সেরা। অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারলে ছয় নম্বর গোল হয়ে যেত। পাঁচ গোল করে ইতিমধ্যেই টপকে গিয়েছেন মিরোস্লাভ ক্লোজেকে। ছ’টি বিশ্বকাপে খেলে সরাসরি ২৬ গোলে অবদান রয়েছে তাঁর। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলে। মেসির চেয়ে তাঁর ছ’টা কম। অ্যাসিস্টের রেকর্ডও গড়ে ফেলবেন হয়তো। এই মুহূর্তে দিয়েগো মারাদোনা এবং তাঁর অ্যাসিস্টের সংখ্যা আটটি।
স্পেনের পেড্রি থেকে ব্রাজিলের রোনাল্ডো নাজারিও একই কথা বলেছেন। ‘মেসি এই বয়সেও আগের মতো গোলের জন্য ক্ষুধার্ত। পর পর বিশ্বকাপ জিততে চাইছেন, তা তাঁর খেলার ধরনেই বুঝিয়ে দিচ্ছেন। জোড়া বিশ্বকাপ জিতে মেসি কেরিয়ার শেষ করবেন কি! সেটা সময় বলবে। তাঁর দেশ এবারও ফেভারিট। ১৮০ মিনিট ফুটবল খেলে লা অ্যালবেসেলেস্তেরা গোল করেছে পাঁচটি। মাঝমাঠের ফুটবলাররা ভালো খেলছেন। তবে মেসি আটকে গেলে কী হবে? কারণ, দু’ম্যাচে মেসি ছাড়া আর কোনও গোলস্কোরার পাওয়া যায়নি। জুলিয়েন আলভারেজ, লাউতারো মার্টিনেজের মতো ফুটবলাররা থাকলেও স্কোরশিটে নাম তুলতে পারেননি তাঁরা। ফলে নকআউটে এই নিয়ে চিন্তায় থাকবেন স্কালোনি।  
অন্যদিকে, প্রথম ম্যাচে ‘অফকালার’ রোনাল্ডোকে নিয়ে কম সমালোচনা হয়নি। ২৫ বার বল পায়ে লাগিয়েছিলেন। তিনটে শট, তাও একটাও গোলে রাখতে পারেননি। বর্তমান ব্রাজিল কোচ কার্লো অ্যান্সেলোত্তি তো কবেই বলে দিয়েছেন, ‘তিনি একজন ফুটবলারকে চেনেন যে ক্রিশ্চিয়ানোর চেয়েও ভয়ঙ্কর, সেই ফুটবলারটি হল ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো যে শেষ ম্যাচে গোল পাননি।’ পরের ম্যাচেই ডন কার্লোর উক্তিটি অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেল। ডিআর কঙ্গোর ম্যাচে ‘স্ট্যাচু’ সিআরসেভেন উজবেকিস্তান ম্যাচের ছ’মিনিটের মধ্যে ওয়ান টাচ শটে জাল কাঁপিয়ে দিলেন। দ্বিতীয় গোলটাও অনবদ্য। অফ দ্য বল মুভমেন্টে বক্সে পৌঁছে ডান পায়ের প্লেসমেন্টে। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় হ্যাটট্রিকও হয়ে যেত! অল্পের জন্য হয়নি। বক্সে তাঁর উপস্থিতি এবারও ডিফেন্ডারদের কাজ কঠিন করে দেবে। উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে অসাধারণ বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিলেন। নিজে ফ্রিকিক না মেরে গোল করালেন নুনো মেন্ডেসকে দিয়ে।  
একচল্লিশের রোনাল্ডোর গোল ক্ষুধাও প্রশংসিত হচ্ছে সর্বত্র। জোড়া গোল করে পর্তুগিজ কিংবদন্তি ইউসেবিওকে পেরিয়ে গেলেন। ক্যামেরুনের রজার মিল্লার পর বিশ্বকাপে দ্বিতীয় বয়স্কতম ফুটবলার হিসাবে গোল করেছেন এই বিশ্বকাপে। তিনিই একমাত্র ফুটবলার ছ’টি বিশ্বকাপে গোল করার নজির গড়েছেন। কেরিয়ারে হাজার গোল করা থেকে আর ২৫ গোল দূরে তিনি। সমালোচকরা রোনাল্ডোকে ‘ফিনিশ’ বলছিলেন। সেই তিনি ‘ফিনিক্স’ হয়ে ধরা দিলেন উজবেকিস্তান ম্যাচে। গত বছর কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর কাছে হেরে চোখের জলে বিদায় নিয়েছিলেন সিআরসেভেন। তবুও দু’টি নেশন্স লিগ ও একটি ইউরো জিতেছেন পর্তুগালের হয়ে। ব্যক্তিগত বহু ট্রফি রয়েছে তাঁর ক্যাবিনেটে। অধরা শুধু বিশ্বকাপই। শেষ সুযোগ। বিশ্বকাপ জয়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষা তাঁর চোখেমুখে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে রোনাল্ডো ও তাঁর সতীর্থদের পারফরম্যান্স বুঝিয়ে দেবে, কতদূর যাবে পর্তুগাল। লুইজ দিয়াজের কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে পর্তুগালের জেতা-হারার পর বোঝা যাবে নকআউটে পর্তুগালের পথ কেমন হবে? পর্তুগাল হারলে বা ড্র করলে, খুবই কঠিন প্রতিপক্ষদের মুখোমুখি হতে হবে। জিতলেও সহজ হবে না। 
রোনাল্ডোর গোলে ফেরা, স্বাভাবিক আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে আ সেলেকাও’দের। পর্তুগালকে বিশ্বকাপে জিততে হলে রোনাল্ডোর ফর্মে থাকাটা ভীষণ জরুরি। আবার ব্রুনো ফার্নান্ডেজ, নুনো মেন্ডেস, জোয়াও ক্যান্সেলো, জোয়াও ফেলিক্স— তাঁদের উপস্থিতিত পর্তুগালের শক্তি বাড়িয়েছে। ফলে উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে পর্তুগালের দলগত ফুটবল স্বপ্ন দেখাচ্ছে আ সেলেকাও সমর্থকদের।

Comments :0

Login to leave a comment