বার্নস কারখানার শ্রমিক বস্তিতে রেলের উচ্ছেদের নোটিশের প্রতিবাদে বস্তিবাসীর বিক্ষোভ রানিগঞ্জ রেল স্টেশন চত্বরে আছড়ে পড়ল। পশ্চিমবঙ্গ বস্তি উন্নয়ন সমিতি ও সিআইটিইউ'র নেতৃত্বে হয়েছে বিক্ষোভ।
শনিবার বিক্ষোভ চলাকালীন নয় সদস্যের প্রতিনিধিদল স্টেশন মাস্টারের কাছে পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে ডেপুটেশন দেয়। রেল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় পুলিশ বাহিনী এলাকা ঘিরে রাখে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বিজেপির ডবল ইঞ্জিন সরকার উন্নয়নের নামে গরিব মানুষের উপর আক্রমণ নামিয়ে আনছে। কেন্দ্রে অটল বিহারি বাজপেয়ীর সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত বার্নস কারখানা বন্ধ করে দেয়। বহু মানুষ কাজ হারান। কারখানা বন্ধের পর শ্রমিকদের পাওনা এখনও বকেয়া রয়েছে। এদিকে ২০১৮ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত বার্নস কারখানা রেল অধিগ্রহণ করে। শ্রমিক আবাসনের বস্তি উচ্ছেদের নোটিশ দিয়েছে রেল। রেল দপ্তর নোটিশে জানিয়েছে, ৩০ জুন বুলডোজার নিয়ে উচ্ছেদ শুরু হবে।
বস্তি উচ্ছেদের নোটিশে রানিগঞ্জ জুড়ে ব্যপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। লায়েকবাঁধের লাছো চৌহান, সীতা থাপা, পদ্মা রেওয়ানিরা বলেন যে বিজেপি সরকার গরিব মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে। ভোটের আগে বিজেপি’র বিধায়ক এসে অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এখন আর তাদের দেখা নেই। গরিব বস্তিবাসীরা বলছেন, আগে পুনর্বাসন চাই। গরিব মানুষের লড়াইয়ের পাশে দাঁড়িয়েছে লালঝাণ্ডা।
সিআইটিইউ এবং পশ্চিমবঙ্গ বস্তি উন্নয়ন সমিতি এদিন বিক্ষোভ সভায় জানিয়ে দেয়, কোনভাবেই বস্তি উচ্ছেদ করা যাবে না। নেতৃবৃন্দ বলেন, বার্নস কারখানার জমি বেঙ্গল কোল কোম্পানির থেকে লিজ নিয়ে গড়ে ওঠে। বার্নস কারখানা কর্তৃপক্ষ সেই জমি রেলকে বিক্রি করতে পারে না। একমাত্র রাজ্য সরকারের সেই জমির অধিকার আছে। লিজহোল্ড জমি রেল কেবল লিজ নিতে পারে। শ্রমিকদের বকেয়া না মিটিয়ে রেল রানিগঞ্জে বার্নসের লিজহোল্ড জমিতে উচ্ছেদ করতে পারে না। রানিগঞ্জের এক হাজারের বেশি গরিব পরিবারকে উচ্ছেদ করতে চাইছে রেল।
এদিনের সভায় বক্তব্য রাখেন সঞ্জয় প্রামাণিক, আনন্দ বাউরি, সুপ্রিয় রায়, উমাপদ গোপ, হেমন্ত প্রভাকর, গৌরব ধল্ল, অশোক ঘোষ, রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জি প্রমুখ।
দাবি ওঠে, পুনর্বাসন ছাড়া একজনকেও উচ্ছেদ করা যাবে না। বন্ধ বার্নস কারখানার জমিতে শিল্প কারখানা গড়ে তুলতে হবে।
Raniganj Rail Eviction
একতরফা উচ্ছেদ নয়, বিক্ষোভ আছড়ে পড়ল রানিগঞ্জ স্টেশনে
রানিগঞ্জে বন্ধ বার্নসের শ্রমিক বস্তি উচ্ছেদের প্রতিবাদ। ছবি: মলয়কান্তি মণ্ডল
×
Comments :0