চিন্ময় কর: মেদিনীপুর
গত বছর বোরো চাষের ফসল তোলার মুখে প্রাকৃতিক বিপর্যয় হয়েছিল। বহু কৃষক ক্ষতিপূরণ পাননি এখনও। এবছর ধানের শিস বের হওয়ার মুখে ঝোড়ো বাতাস ও শিলা বৃষ্টিতে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ৯টি ব্লকের ৩৭টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ৩০০’র বেশি মৌজায় ৫৭ হাজারের বেশি বিঘার বোরো চাষ লন্ডভন্ড হয়েছে। মাঠ জুড়ে কৃষকের হাহাকার। ধান গাছের গর্দান ভেঙে জলকাদায় লেপটে রয়েছে।
বুধবারও সন্ধ্যার মুখে আবারেও ঝড় বৃষ্টি। ফলে বুধবার সকাল থেকে মাঠে শুয়ে পড়া ধান গাছ বেঁধে দাঁড় করানোর মরিয়া চেষ্টা বৃথা গেলো।
গত তিন চার দিন ঝড় ও বৃষ্টি চলছে। মঙ্গলবারের দাপট ছিলো ভয়ঙ্কর। শিলা বৃষ্টিতে সবজি জমি, ধানের জমি সাদা বরফে ঢেকে যায়। জেলার সুবর্ণরেখা, কেলেঘাই, কাঁসাই, রূপনারায়ণ- চার নদীর তটভূমি ঘাটাল, দাসপুর, ডেবরা, সবং, পিংলা, নারায়নগড়, মোহনপুর, দাঁতন, কেশিয়াড়ীর মতো ব্লকে মৌজার পর মৌজায় সকাল থেকে মানুষ বোরো চাষের জমিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
এর আগে আলু চাষের জমি লন্ডভন্ড হয়েছে কালবৈশাখীর দাপটে। এখন আবার বোরো চাষ। জেলার দাসপুর, সবং, কেশিয়াড়ী ও দাঁতনে ক্ষতি সর্বাধিক। মঙ্গলবারের ঝড়ে গাছ ভেঙেছে কয়েক হাজার। ঘরবাড়ি নষ্ট হয়েছে সর্বত্র। আবাস বঞ্চিত এলাকার কঙ্কালসার চেহারা উঠে এসেছে। ২ হাজারের বেশি ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে। গাছ ভেঙে ঘরের উপর চাপা পড়েছে। বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ায় প্রতিটি ব্লকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়েছে বহু গ্রাম। কোথাও ২৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় পানীয় জলের সরবরাহ বন্ধ। ফলে জলের সংকেট চরম আকার।
মঙ্গলবার বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ায় আঘাত পেয়ে দাসপুরের বড় শিমুলায় এক মহিলার মৃত্যু হয়। এর আগে গাছ ভেঙে ঘর ও চলন্ত ট্যাক্সির উপর পড়ায় নারায়ণগড়ে এক মহিলা এবং মেদিনীপুর সদরে এক পুলিশ কর্মীর মৃত্যু হয়।
Crop Loss Storm
পশ্চিম মেদিনীপুর: ৫৭ হাজার বিঘার বেশি ফসলের ক্ষতি ঝড়ে, হাহাকার কৃষকদের
লুটিয়ে পড়েছে ফসল। ক্ষতি বুঝতে খেতে কৃষক।
×
Comments :0