Saradha Scam

সারদা মামলায় জামিন মূল অভিযুক্ত সুদীপ্ত সেন

রাজ্য

১৩ বছর পর জেল থেকে জামিন পেতে চলেছেন সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেন। ২০১৩ সালে সালে কেলেঙ্কারির ঘটনা সামনে আসার পর থেকে জেলে ছিলেন তিনি। স্বাধীনতার পরে এরাজ্যের বুকে সর্ববৃহৎ আর্থিক কেলেঙ্কারি। সিবিআই’র প্রাথমিক হিসাব ছিল, কেলেঙ্কারির পরিমাণ কমপক্ষে দশ হাজার কোটি টাকা। 
বুধবার হাই কোর্টের বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ সুদীপ্ত সেনকে রাজ্য পুলিশের হাতে থাকা দুটি মামলায় জামিন দিয়েছে। ফলে সব মামলা থেকেই তিনি জামিন পেলেন। আগেই ৩৮৯টি মামলা থেকে তিনি জামিন পেয়েছিলেন। 
হাইকোর্ট সারদা কর্তার জামিনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত আরোপ করেছে। বৃহস্পতিবার সম্ভবত জেল থেকে ছাড়া পাবেন রাজ্যে চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে প্রধান অভিযুক্ত সুদীপ্ত সেন।
আগেই সিবিআইয়ের ৭৬টি মামলা থেকে জামিন পেয়েছিলেন সুদীপ্ত সেন। 
২০১৩ সালের এপ্রিল মাসেই সামনে এসেছিল সারদা কেলেঙ্কারির ঘটনা। প্রথমে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বাড়ির সামনে এবং তৃণমূল ভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখায় সারদায় সর্বশান্তি হওয়া মানুষজন। তারপর ধীরে ধীরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আমানতকারি এবং এজেন্টরা বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। কলকাতা ছেড়ে পালায় সুদীপ্ত সেন এবং দেবযানী মুখার্জি। সেই সময় মহাকরণে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন এই দুজন ‘উত্তরে আছে’। তারপরই কাশ্মীর থেকে গ্রেপ্তার হয় দুজন। মানুষ যখন সর্বশান্ত তখন মমতা বলেছিলেন, যা গেছে তা যাক।
একাধিক তৃণমূল নেতা মন্ত্রী নাম জড়ায় দুর্নীতিতে। কুনাল ঘোষ, মদন মিত্ররা জেলেও যান। এই দুর্নীতির সিবিআই তদন্তের জন্য সুপ্রিম কোর্টে আইনী লড়াই লড়েন সুজন চক্রবর্তী, আবদুল মান্নানরা। তারপর শীর্ষ আদালতের নির্দেশে তদন্ত চালায় সিবিআই। অন্য সব দুর্নীতির মতো এই ক্ষেত্রেও তাদের গাফিলতির জন্য জেলের বাইরে চলে আসে অভিযুক্তরা। উল্লেখ্য সিবিআই এখনও মামলা গুলোর বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেনি।
২০১৪ সালের ২২ অক্টোবর সিবিআই সারদার চিট ফান্ড সংস্থার বিরুদ্ধে দায়ের মামলার চার্জশিট নয়, সারদার ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস সংস্থার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় চার্জশিট দেয়। তাতে সুদীপ্ত সেনের পাশাপাশি দেবযানী মুখার্জি ও কুণাল ঘোষের নাম ছিল। কুণাল ঘোষ ২০১৬ সালে অন্তর্বতী জামিন ও ২০১৭ সালে এই মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট থেকে জামিনে মুক্ত হন।

Comments :0

Login to leave a comment