হাবড়ার নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে খাদ্য দুর্নীতিতে জেলে যাওয়া জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের প্রশংসায় পঞ্চমুখ তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। তার সরকারের আমলে রেশন ব্যবস্থায় যে পরিবর্তন এসেছে, তার কারিগর বালুই বলে তিনি দাবি করেছেন। মমতার কথায়, ‘জেনে রাখুন, আমার গভর্নমেন্টে বালু যত ভাল কাজ করেছে, তা আর কেউ করতে পারেনি।’ এক কথায় দুর্নীতিগ্রস্থ বালুকে আড়াল করলেন মমতা।
হাবড়ার সভা থেকে বামফ্রন্টকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বামফ্রন্ট আমলের ভুয়ো রেশন কার্ড বালু ধরেছিল বলে ওকে মিথ্যা ভাবে ফাঁসানো হয়েছিল।’
উল্লেখ্য খাদ্য দুর্নীতির অন্যতম মাথা বাকিবুরের সাথে প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রীর। ২০১১ থেকে ২০২১— রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী ছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। ২০২১-এ জ্যোতিপ্রিয়কে অন্য দপ্তরে পাঠিয়ে রথীন ঘোষকে খাদ্যমন্ত্রী করেন মমতা ব্যানার্জি। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক মন্ত্রী থাকাকালীন রাজ্যে ‘পিডিএস অডিট’ হয়নি বলেই অভিযোগ ওঠে। ২০১৫-১৬ আর্থিক বছর থেকে রাজ্যের রেশন নিয়ে কোনও হিসাবই হয়নি। খতিয়ে দেখা হয়নি সব লেনদেন, টাকার আদান প্রদান আদৌ নিয়মমাফিক ছিল কিনা। একে বলা হয় ‘পিডিএস অডিট।’
পরপর ৬ বছর রাজ্যে রেশন ব্যবস্থা সংক্রান্ত ওই অডিট না হওয়ার অভিযোগ ওঠে। রেশন দোকানগুলিতে চাল, আটা সহ নানা পণ্য প্রতি সপ্তাহে সরবরাহের দায়িত্ব রাজ্যের খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের। এছাড়া এই দপ্তরের মাধ্যমে ধান, চাল সংগ্রহের কাজও হয়।
জানা গিয়েছে লকডাউন পর্বেই এই দুর্নীতি সামনে আসে। নদীয়া জেলার একাধিক রেশন দোকানে নিম্নমানের চাল, গম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। তা নিয়ে অভিযোগও দায়ের হয় লকডাউন পর্বে। পরে এই তদন্ত যায় ইডি’র হাতে। যদিও সেই তদন্তও থমকে ছিল। নদীয়ার বেশ কিছু রেশন দোকান ও চালকলে হানা দিয়েছিল ইডি। সেখান থেকেই মেলে নতুন তথ্য। তার ভিত্তিতেই বাকিবুর রহমানের ফ্ল্যাটে চলে ম্যারাথন তল্লাশি।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি রেশন দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে, বাকিবুর রহমান তাতে অন্যতম অভিযুক্ত। এই ব্যক্তিকে শিখণ্ডী করেই দুর্নীতির জাল ছড়ানো হয়েছিল। তাতে শাসক তৃণমূলের শীর্ষ মহলের মদত ছিল।
Assembly election 2026
হাবড়ার প্রচারে গিয়ে বালুকে আড়াল করে মমতার নিশানায় বামপন্থীরা
×
Comments :0