তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত বসিরহাট পৌরসভার পৌরপ্রধান ও কাউন্সিলররা লাগামছাড়া আর্থিক দুর্নীতির পাঁকে নিমজ্জিত। দেদার অর্থ ও সম্পত্তি লুটের কারবারিদের শুধু সাসপেন্ড করে আড়াল করা চলবে না। তাদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। লুট হওয়া অর্থ ও সম্পত্তি উদ্ধার করতে হবে। তৃণমূলের হুমকি উড়িয়ে মঙ্গলবার পথে নেমে সোচ্চার হলো বামফ্রন্টের কর্মী সমর্থকরা।
গত ১৯ ডিসেম্বর পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পুর ও নগরায়ন দপ্তরের নির্দেশে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত বসিরহাট পৌরসভা ভেঙে দিয়ে বসিরহাট মহকুমা শাসকের কাছে পৌরসভা পরিচালনার ব্যবস্থা ন্যস্ত হয়। লাগামহীন দুর্নীতি ও বেপরোয়া আর্থিক তছরুপে বেসামাল দেড় শতাধিক প্রাচীন গৌরবের এই পৌরসভা। এদিন টাউনহল মাঠ থেকে মিছিল শুরু হয়। মিছিল থেকে বামফ্রন্টের কর্মী সমর্থকরা আওয়াজ তোলেন যে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত সমস্ত পুর প্রশাসকদের আড়াল করা চলবে না। মিউনিসিপ্যালিটির ট্যাক্স সহ অন্যান্য টাকা নেওয়ার পরেও বাড়ি বাড়ি টাকা আদায় বন্ধ করতে হবে। প্রমোটারদের কবলে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে পৌর জমি জলাঞ্জলি দেওয়া চলবে না। বেআইনিভাবে ভরাট হয়ে যাওয়া সমস্ত পুকুরকে তার আগের চেহারায় ফিরিয়ে দিতে হবে। শহীদ দীনেশ মজুমদার রোড (ইটিন্ডা রোড) ধরে মিছিল এসে পৌঁছায় বসিরহাট বোটঘাটে।
বিক্ষোভ সভায় বক্তব্য রাখেন সিপিআই(এম) নেতা নিরাপদ সর্দার, রাজু আহমেদ, সিপিআই'র নজরুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন বামফ্রন্ট নেতা প্রতাপ নাথ। পৌর প্রধান সহ কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগে এনে নিরাপদ সর্দার বলেন, "গোটা রাজ্য সরকারটাই দুর্নীতিগ্রস্ত। বসিরহাট পৌরসভা তার বাইরে নয়। সাধারণ মানুষের উন্নয়নের টাকা লুট করে পকেটে পুড়েছে পৌরপ্রধান সহ কাউন্সিলররা।পৌরপ্রধান সহ দুর্নীতিগ্রস্ত কাউন্সিলদের গ্রেপ্তার করে লুটের টাকা উদ্ধার করতে লড়াই জারি থাকবে। অনৈতিক এবং লুটপাটের ভোট প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে নির্বাচিত তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত বসিরহাট পৌরসভা। নির্লজ্জ দালবাজি, মস্তানি, প্রশাসনিক অব্যবস্থা, জুলুমবাজি ও দুর্নীতির পাঁকে গলা অবধি ডুবে আছে। নিদারুণভাবে আক্রান্ত নাগরিক পরিষেবা। যা নিয়ে অতীতে সিপিআই(এম)'র পক্ষ থেকে একাধিকবার প্রতিবাদ জানানো সত্ত্বেও নির্বিচারে চালানো হয়েছে লুটপাট।
সভা চলাকালীন ৭ জনের প্রতিনিধিদল ১৫ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি নিয়ে দেখা করেন বসিরহাট মহকুমা শাসক জসলীন কৌরের সঙ্গে।তিনি সহমত পোষণ করেন। দাবিগুলি নিরসনের আশ্বাস দেন এবং স্মারকলিপি গ্রহণ করেন। ডেপুটেশনের নির্যাস তুলে ধরেন উপস্থিত ছিলেন বামফ্রন্টের পক্ষে সিপিআই(এম) নেতা বিশ্বজিৎ বসু। ডেপুটেশনে অংশ নেন,সিপিআই(এম) নেতা কিঙ্করকান্তি রায়,সোনালী দাস,উৎপল দাস,শুভঙ্কর সাহা,সিপিআইর রেখা ঘোষ, রাজু বৈদ্য।স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়েছে যে অসমাপ্ত গৃহ নির্মাণের কাজ অবিলম্বে সম্পন্ন করা এবং উপভোক্তাদের কাছ থেকে নেওয়া চেক, পাশবিক, অগ্রিম টাকা অবিলম্বে ফেরত দিতে হবে, পৌরসভার অভ্যন্তরে জলে ডুবে থাকা ওয়ার্ডগুলির ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান, বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে সরবরাকৃত জলে দুর্গন্ধ এবং তাতে সংক্রমণের সম্ভাবনার নিরসন করা, ধ্বংসের কিনারায় চলে যাওয়া মাতৃসদনটিকে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল হিসাবে গড়ে তুলতে হবে।
Comments :0