কর্তব্যরত অবস্থায় পথ দুর্ঘটনায় এক বিএলও’র মর্মান্তিক মৃত্যু প্রশাসনিক অবহেলার অভিযোগকে নতুন করে সামনে আনল। গত শুক্রবার ময়নাগুড়ি ব্লকের পানবাড়ি এলাকায় এসআইআর সংক্রান্ত কাজ সেরে ফেরার পথে দুর্ঘটনার গুরুতর জখম হন বিএলও সুশীলা রায়(৪৫)। একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার রাতে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় শোকের সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পরিবার ও স্থানীয়রা।
মৃত সুশীলা রায় ময়নাগুড়ির রামসাই চ্যাংমারি এলাকার বিএলও এবং একটি শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষিকা ছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুর দেড়টা নাগাদ পানবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে এসআইআর’র জরুরি নথিপত্র জমা দিয়ে স্কুটিতে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। সেই সময় একটি দ্রুতগামী গাড়ি পিছন থেকে ধাক্কা মেরে পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে জলপাইগুড়ির একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতাল হয়ে তাঁকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, সরকারি কাজে থাকাকালীন দুর্ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও কার্যকর সহায়তা পাওয়া যায়নি। মৃতের জামাতা পীযূষ রায় জানান, আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও মেডিকেল কলেজে আইসিইউ বেডের ব্যবস্থা করা হয়নি। বারবার প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগ করেও শুধুই উদাসীনতা মিলেছে। পরিবার আরও দাবি করেছে, সুশীলা রায় অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও এসআইআর কাজের চাপ ও ডেডলাইনের কারণে বাইরে যেতে বাধ্য হন। অতিরিক্ত কাজের বোঝা ও প্রশাসনের সংবেদনহীনতার বিরুদ্ধেই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে, তবে কর্তব্যরত এক সরকারি কর্মীর মৃত্যুতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে। গত নভেম্বর মাসে এসআইআর ফর্ম সংগ্রহ করে বাড়ি ফেরার সময় কোচবিহারের শীতলকুচিতে পথ দুর্ঘটনায় ললিত অধিকারী নামে এক বিএলও’র মৃত্যু হয়। পশ্চিম মেদিনীপুরে এসআইআর’র কাজ সেরে স্কুলে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় অরবিন্দ মিশ্র নামে এক বিএলও’র। তাঁর বাড়ি নারায়ণগড় থানার সাইকা পাটনা গ্রামে।
BLO DEATH
পথ দুর্ঘটনায় বিএলও’র মৃত্যু ময়নাগুড়িতে
×
Comments :0