এসআইআর’র শুনানি পর্বে নোটিশ দেওয়ার মাপকাঠি কী? কিসের ভিত্তিতে বলা হচ্ছে ‘আনম্যাপড’ বা ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপান্সি’। মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলনে এই প্রশ্ন তুললেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
যে যে যুক্তিতে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে তার প্রতিটির স্বচ্ছ ব্যাখ্যার দাবি কমিশনের কাছে তুলেছেন তিনি। সেলিম জানিয়েছেন সিপিআই(এম) প্রতিটি ব্লকে এসআইআর প্রক্রিয়ায় বেনিয়মের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সভা করবে। সিইও’র সঙ্গে বৈঠক চেয়ে পাঠানো হচ্ছে চিঠি।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৯ জানুয়ারি সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির পক্ষে নোটিস পাঠানো হয়েছিল সিইও দপ্তরে (দেখুন বিশদে)। সেখানে এই ব্যাখ্যাই চাওয়া হয়েছিল। নোটিশ পর্বে বহু গরমিলের ব্যাখ্যা চেয়ে বৈঠকের দিন চাওয়া হয়েছিল সিইও’র কাছে। কিন্তু সরাসরি বৈঠকের সময় দেয়নি কমিশন। তার বদলে একটি পুস্তিকা পাঠিয়েছে যাতে নির্দিষ্ট প্রশ্নের নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা নেই।
সেলিম নির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে বলেন, মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের একাধিক বুথের একেকটিতে ৫০০-র বেশি ভোটদাতাকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। নদীয়ার পলাশীপাড়ায় বিভিন্ন বুথে ৩০০-৪০০জনকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে একেকটি বুথে। তার ব্যাখ্যা কী?
সেলিম বলেছেন, প্রান্তিক অংশ বা বিপন্ন অংশ, মহিলা, পরিযায়ী, মুসলিমদের ‘টার্গেট’ করা হচ্ছে। বিধানসভাগুলির যে লিস্ট বেরিয়েছে যাদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
সেলিম বলেন, আরএসএস-বিজেপি’র দর্শন হলো বিভিন্ন অংশকে ‘টার্গেট’ করে বাদ দেওয়া। কমিশন সেই দর্শন অনুযায়ী কাজ করছে, এমন মনে করার অবকাশ রয়েছে।
সেলিম বলেন, সামান্য কারণে পাঠানো হচ্ছে নোটিশ। নামের বানান ভুল, কার ক’জন সন্তান, এসবকে কারণ করা হচ্ছে। যেমন অমর্ত্য সেনকে পাঠানো হয়েছে নোটিশ। তিনি বলেন, সমাজে নানা বৈচিত্র রয়েছে। যেমন কোনও মুসলিম মহিলার নাম তিনবার বদলাতে পারে। অবিবাহিত অবস্থায় ‘খাতুন’, বিবাহিত হলে ‘বেগম’ বা ‘বিবি’ এবং বিধবা হলে ‘বেওয়া’। এমন ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্টকে সন্দেহের আওতায় ফেলা হচ্ছে। কোনও ক্ষেত্রে ৬ জন বাবার একটি নাম ব্যবহার করলে তা নিয়ে নোটিশ দেওবা হচ্ছে। এগুলির অর্থ কী? প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নরসীমা রাওয়েরও তো বহু সন্তান ছিল। এগুলি বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। কমিশনের কাজ সন্দেহজনক।
সেলিম বলেছেন, ঠিক কোন নীতির ভিত্তিতে নোটিস পাঠানো হচ্ছে তা নির্দিষ্ট করতে হবে। দেখা যাচ্ছে যে তার মধ্যে একটি নির্দিষ্ট ধাঁচ রয়েছে। এর মধ্যে বৃহত্তর চক্রান্ত রয়েছে। কাদের অভিযোগের ভিত্তিতে খসড়া তালিকায় নাম থাকা ব্যক্তিদের নামে পাঠানো হচ্ছে নোটিশ? অভিযোগকারীর নাম জানাচ্ছে না কমিশন। এআই’র ভিত্তিতে হচ্ছে? সেক্ষেত্রে বুথ, বিধানসভা, এলাকা বেছে বেছে ‘টার্গেট’ হচ্ছে কিভাবে?
রোহিঙ্গা, বাংলাদেশী প্রচার কাজে আসেনি। এখন নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে নির্বাচনের ফলাফল কী হবে তার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটা কোনও ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্দেশ্য হতে পারে না।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন এবং সিইও দপ্তরে নির্দিষ্ট তথ্য পাঠানো হচ্ছে। যেখানে নোটিশের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বেশি তার স্বাধীন অডিট করা হোক। কিভাবে নোটিশ জেনারেট করা হচ্ছে ব্যাখ্যা করতে হবে। আমাদের প্রতিনিধি দল সিইও এবং ইসি’র কাছে যাবে।
Md Salim
ভোটের আগেই ফলাফল ঠিক করার চেষ্টা করছে কমিশন, ক্ষোভ সেলিমের
মঙ্গলবার মুজফ্ফর আহ্মদ ভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে মহমমদ সেলিম।
×
Comments :0