Drowns

গিলান্ডি নদীতে তলিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর মৃত্যু

জেলা

ভরা বর্ষায় নদীতে স্নান করতে নেমে তলিয়ে মৃত্যু হলো এক কিশোরের। মৃত কিশোরের নাম সোহম বসাক(১৫)। ধূপগুড়ি পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সূর্যসেন কলোনির বাসিন্দা। এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সোহমের অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে সোহম তার চার বন্ধুর সঙ্গে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের রায়পাড়া সংলগ্ন গিলান্ডি নদীতে স্নান করতে যায়। সোহমের পরিবার জানায়, সে সাঁতার জানত না। তা সত্ত্বেও ভরা বর্ষায় নদীর জলস্তর ও প্রবল স্রোত উপেক্ষা করেই বন্ধুদের সাথে সে জলে নামে। স্নান করার সময় আচমকা জলের তোড়ে তলিয়ে যায়। তাকে তলিয়ে যেতে দেখে বন্ধুরা উদ্ধারের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়। এরপর স্থানীয়রা ছুটে আসেন এবং পুলিশ ও সিভিল ডিফেন্সকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়েই ধূপগুড়ি থানার আইসি প্রশান্ত চামলিংয়ের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। শুক্রবার বিকেল থেকে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালানো হলেও অন্ধকার নেমে আসায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়। অবশেষে শনিবার ভোর থেকে ফের তল্লাশি শুরু করেন সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নদীর একটি কোণ থেকে সোহমের দেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য দেহটি জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়েছে।
পরিবারের একমাত্র সন্তান ছিল সোহম। তার বাবার এলাকায় ছোট একটি সোনার দোকান রয়েছে। শুক্রবার দুপুরেও ইতিহাসের গৃহশিক্ষকের কাছে পড়ার পর বন্ধুদের সাথে সে নদীতে গিয়েছিল। কিশোরের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে বাবা-মা সহ স্বজনরা ভেঙে পড়েছেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বন্ধুদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সাঁতার না জানা সত্ত্বেও কেন সোহমকে নদীতে নামতে বাধা দেওয়া হলো না, তা নিয়ে উঠছে অভিযোগের আঙুল। অসাবধানতার জেরেই এই প্রাণহানি বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
ধূপগুড়ি থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন আগেই ডুডুয়া নদীতে স্নান করতে নেমে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। পরপর দুটি ঘটনায় বর্ষায় নদী বা জলাশয়ে নামার ক্ষেত্রে সচেতনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে জনমানসে।

Comments :0

Login to leave a comment