KOLKATA HINDU SCHOOL COLLEGE STREET

শিক্ষকের অভাবে বেহাল দশা ঐতিহ্যবাহী হিন্দু স্কুলের

কলকাতা

একেই শিক্ষকের সংখ্যা কম, তারমধ্যেও যারা রয়েছেন তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগ শিক্ষকের বদলির নির্দেশ ও এসে গিয়েছে। এমনি অবস্থা কলকাতায় অবস্থিত ২০০ বছর পুরোনো ঐতিহ্যবাহী সরকার পোষিত হিন্দু স্কুলের। ওই স্কুলের দিবা বিভাগের তিনটি সেক্শনে মোট ৩টি সেকশন মিলে,  ৪৬ জন শিক্ষক থাকার কথা, তার মধ্যে ১৮ টির বেশি পদই শূন্য। ইংরেজি, অর্থনীতি এবং রসায়নের মতো অতিগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি পড়ানোর জন্যও রয়েছেন রয়েছেন মাত্র ১ জন করে শিক্ষক। নেই শরীরশিক্ষা বিষয়ের কোনো শিক্ষক। স্কুলের এক অংক শিক্ষক স্বতঃপ্রনোদিত ভাবেই করতেন সেই কাজ। এমনকি শিক্ষকের ঘাটতি মেটাতে পড়ুয়াদের ২টি করে সেকশন একসাথে নিয়ে চলতো কোন কোন বিষয়ের ক্লাস। ইংরেজি বিষয়ের জন্য একজনই শিক্ষক থাকায় ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সবকটি ক্লাস নিতে হতো তাঁকে। যা ওই শিক্ষকের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পরে। ফলত, গ্রন্থাগারিক ও সামলাতেন সেই দায়িত্ব। অংকের জন্য আগে ৫ জন শিক্ষক থাকলেও সম্প্রতি তাদের একজন অবসর নিয়েছেন, যে ৪ জন রয়েছেন তাদের মধ্যে ২ জন শিক্ষকে অন্যত্র বদলির নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। এই অপ্রতুল শিক্ষক সংখ্যা নিয়ে পড়ুয়াদের ক্লাস করানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তারই ফলস্বরূপ, স্কুলবিমুখ হয়ে পড়ছে পড়ুয়ারা। স্কুলের তরফে সরকারকে একাধিক চিঠি দিয়ে গোটা বিষয়টি জানানো হলেও, সরকারের তরফে মেলেনি কোন সদুত্তর।
এমতাবস্থায়, হিন্দু স্কুলের বর্তমান পড়ুয়াদের অভিভাবকরা একত্রিত হয়ে বুধবার বিকাশভবনে যান। তাদের মধ্যে ২জন অভিভাবক শিক্ষামন্ত্রীর কাছে স্বারকলিপি জমা দিতে যান। শিক্ষামন্ত্রী না থাকায়, শিক্ষামন্ত্রীর আপ্ত সহায়ক এবং একজন আমলা সেই স্বারকলিপি গ্রহণ করেন। যে দুজন অভিবাবক স্বারকলিপি জমা দিতে গেছিলেন তাদের মধ্যে একজন জানান, ‘‘শুধু নিজেদের স্কুলের কথা ভাবলেই হবে, অন্য স্কুলগুলিতো বঞ্চিত হচ্ছে বলে বলেন ওই আমলা। এছাড়া, হচ্ছে- হবে গোছের কথা ছাড়া আর কোন আলোচনায় আসতে চাননি তাঁরা।’’

Comments :0

Login to leave a comment