এতদিন মানুষের জানা ছিল আইপ্যাক একটি বেসরকারি ভোট কৌশলি সংস্থা। টাকার বিনিময়ে তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে ভোটের ইস্যু, স্লোগান ইত্যাদি সহ ভোটের কৌশল ঠিক করে দেয়। এমনকি তৃণমূলের নানা স্তরে নেতা বাছাই এবং ভোটের প্রার্থীও ঠিক করে দেয়। এলাকায় সমীক্ষা করে তারা নেতা-প্রার্থীদের ভাবমূর্তি, জনপ্রিয়তা ও জেতার সম্ভাবনা যাচাই করে। বিজেপি-তৃণমূল সহ দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলই (বামপন্থী ছাড়া) বিভিন্ন সময়ে আইপ্যাককে ভাড়া করে।তৃণমূলের হয়ে আইপ্যাক ভাড়া খাটছে দীর্ঘদিন ধরেই। তবে একটা ভুল কাটিয়ে দিলেন মমতা ব্যানার্জি নিজেই, আইপ্যাকে ইডির হানা দেবার পরেই।
বেসরকারি ভোট কৌশলি সংস্থা ছাড়াও আইপ্যাকের আর একটি পরিচয়ের কথা সম্প্রতি জানা যায় মমতা ব্যানার্জির কাছ থেকে। নেত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী আইপ্যাক কর্তা প্রতীক জৈন তৃণমূলের ইনচার্জ অর্থাৎ দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং সংস্থাটি তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে। খোলসা করে বললে আইপ্যাক তৃণমূলেরই অঙ্গ। আইপ্যাকের অফিস তৃণমূলেরই অফিস। তাই দলের যাবতীয় গোপন নথিপত্র মজুত থাকে আইপ্যাকের অফিসে। ইডি তল্লাশিতে সেসব নথিপত্র বেহাত হয়ে যেতে পারে তাই মুখ্যমন্ত্রী বিরাট পুলিশ বাহিনী নিয়ে সব তথ্য ইডি’র কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে গেছেন।
কিন্তু সমস্যা অন্যত্র। মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে পুলিশ তৃণমূলের দলীয় ফাইলপত্র তুলে নিয়ে যাওয়ায় ধন্দ তৈরি হয়েছে। তাছাড়া যে ফাইলগুলি পুলিশ নিয়ে যাচ্ছিল তাতে ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকার’ ছাপ দেওয়া ফাইলও ছিল। আবার ইডি’র হাত থেকে কেড়ে নেওয়া ফাইলগুলি যে গাড়িতে করে পাচার হয়েছিল সেটাও সরকারি গাড়ি। আইপ্যাক আর তৃণমূল যদি অভিন্ন হয় তাহলে সেখানে সরকার ঢুকল কি করে? তাহলে তৃণূমল, আইপ্যাক এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকার কি মিলেমিশে এলাকার হয়ে গেছে? প্রশ্নটা আরও প্রাসঙ্গিক বর্ধমানের একটি ঘটনার পর। সেখানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বোর্ড লাগানো একটি গাড়ি ব্যবহার করছে আইপ্যাক কর্মীরা। ধরাপড়ার পর পুলিশ গোটাটা ধামাচাপা দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
আদতে আইপ্যাক যতটা ভোট কৌশলি সংস্থা তার চেয়ে দুর্নীতি ও লুটের টাকা পাচারের বড় সংস্থা। তৃণমূল জমানায় এরাজ্যে কয়লা, গোরু, বালি, পাথর, রেশম পাচার সহ যাবতীয় দুর্নীতির টাকার বেআইনি লেনদেনের সঙ্গে জড়িয়ে আইপ্যাক। অভিষেক ব্যনার্জি নিজে যার তত্ত্বাবধায়ক। কয়লা ও গোরু পাচারের দুই পান্ডা লালা ও এনামুলের রয়েছে হাজারো ভুয়ো ও শিখণ্ডি সংস্থা। এগুলি ব্যবহার করে তারা গড়ে তুলেছে হাওলার মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করা ও বিদেশে পাচারের নেট ওয়ার্ক। এই নেটওয়ার্কের শরিক আইপ্যাকও। তৃণমূল আইপ্যাকের মাধ্যমে দুর্নীতির টাকা ঢেলেছে ত্রিপুরা ও গোয়ার ভোটে। ভোট কৌশলের সাইনবোর্ডের আড়ালে তৃণমূলের লুটের টাকা লেনদেনের কাজ করে আইপ্যাক। তাই সরকার ও পুলিশ আইপ্যাকের ঘনিষ্ঠ। সকলে মিলে দুর্নীতি ও লুটতরাজে নয়া ইকোসিস্টেম তৈরি করেছে। অতয়েব আইপ্যাক তৃণমূলের নয় একথা কে বলবে! মমতা ব্যনার্জি ঘুরিয়ে আইপ্যাককে বাঁচাতে গিয়ে নিজেকেই আর আড়াল করতে পারেননি।
editorial
একই বৃন্তে তিনটি কুসুম
×
Comments :0