nipah virus

সংক্রমণের তথ্য নেই রাজ্যের কাছে

রাজ্য

নিপা ভাইরাস সংক্রমণ ইতিমধ্যে জেলায় জেলায়  কতটা ছড়িয়েছে তার তেমন কোনও তথ্যই মিলছে না রাজ্য সরকারের তরফে। জানা গেছে অত্যন্ত সঙ্কটজনক হয়ে পড়েছেন নিপা আক্রান্ত পূর্ব বর্ধমানের বাসিন্দা নার্সিং কর্মী। ডাক্তারি ভাষায় প্রায় কোমা স্টেজে রয়েছেন তিনি, আছেন ভেন্টিলেশনে। অন্যদিকে মেদিনীপুরের বাসিন্দা অপর আক্রান্ত নার্সিং কর্মীকেও একইভাবে গভীর সঙ্কটজনক অবস্থায় ভেন্টিলেশনে রাখতে হয়েছে। এদিকে বারাসাতের যে বেসরকারি হাসপাতালে এই দু’জন ভর্তি রয়েছেন, সেখানকার আরএমও-এর একই উপসর্গ দেখা দিয়েছে বলে খবর। তাঁকেও ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, রক্তের নমুনা পাঠানো হচ্ছে পরীক্ষার জন্য। ওদিকে পূর্ব বর্ধমানের ৪৮ জনকে চিহ্নিত করে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার ন্যাশনাল ইস্টিটিউট অব ভাইরোলজি থেকে নিশ্চিত করে বলে দেওয়া হয়েছে দুই নার্সিং কর্মীরই নিপা পজিটিভ। এই ভাইরাসে আক্রান্ত দুই নার্সের সংস্পর্শে এসেছেন এমন ৬৫ জনকে চিহ্নিত করেছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। তাঁদের আইসোলেশনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এঁদের মধ্যে ২২  জনকে বারাসতের ওই বেসরকারি হাসপাতালে ইনস্টিটিউশনাল আইসোলেশনে রাখা হয়েছে  বলেই জানা গিয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত মারাত্মক নিপা ভাইরাস ইতিমধ্যে রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন জেলায় কতটা ছড়িয়েছে সে সম্পর্কে স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে রাজ্যবাসীকে কিছু জানানো হয়নি।
তবে পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার বারাসতের ওই হাসপাতালে বৈঠক করেছেন রাজ্য এবং কেন্দ্রের স্বাস্থ্য আধিকারিকরা। এদিন বিকেলের পর ওই হাসপাতালেরই আরএমও –র একই উপসর্গ দেখা দেওয়ায় তাঁকেও ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তাঁর রক্তের নমুনা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। 
কোভিড মুক্ত হওয়ার পর গত তিন- চার বছর স্বাভাবিক ছন্দে ফিরেছেন রাজ্যের মানুষ। মাস্ক ব্যবহার থেকে একে অপরের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখা এখন প্রায় নেই বললেই চলে। কিন্তু নিপা ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে দুই নার্স বারাসতের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন হওয়ার পর থেকে একটু নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য এবং কেন্দ্রের স্বাস্থ্য মন্ত্রক। তবে নিপা নিয়ে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। মঙ্গলবার বারাসতের ওই বেসরকারি হাসপতালে গিয়ে দেখা গেল, নিপা নিয়ে নিজেদের তাগিদেই যথেষ্ট সতর্ক রয়েছেন কর্তৃপক্ষ থেকে কর্মীরা। এদিন ওই হাসপতালে আসেন রাজ্য এবং কেন্দ্রের স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা। বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ৬ ঘণ্টা ধরে ম্যারাথন বৈঠক করেন কেন্দ্র ও রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তারা। এদের মধ্যে ছিলেন কল্যাণী এইমসের চিকিৎসক এবং আধিকারিকরাও।
জেলা স্বাস্থ্য  দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত দুই নার্সিং কর্মীকে আলাদা ভাবে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে। তাঁদের অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক। এঁদের গ্লাসগো কোমা স্কেলের সূচক ৫ এর নিচে রয়েছে। মহিলা নার্সিং কর্মীর শারীরিক পরিস্থিতি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। পুনে থেকেও তাঁদের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে বলেই জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে।
এক্ষেত্রে আক্রান্ত দু'জনের সঙ্গে কনট্রাক্ট ট্রেসিং হয়েছে এমন ৬৫ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, আক্রান্ত দু'জনেই বারাসতের হৃদয়পুরে একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। সেখানে পুরুষ নার্সিং কর্মীর সঙ্গে দু’জন এবং মহিলা নার্সের সঙ্গে থাকতেন একজন। এই তিনজন সহ মহিলা নার্সকে বর্ধমান মেডিক্যা ল কলেজ থেকে অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে আসা চালক সহ বারাসত হাসপাতালে যাঁরা চিকিৎসা করিয়েছেন এবং করেছেন, হাসপাতালের সেই কর্মীদের চিহ্নিত করা হয়েছে। 
এছাড়াও আক্রান্ত মহিলা নার্স বর্ধমানের গুসকরায় নার্সিংয়ের পরীক্ষায় বসেছিলেন। আর পুরুষ নার্সিং নার্সিং কর্মী নিউটাউনের টিসিএস সেন্টারে পরীক্ষায় বসেছিলেন। জ্বর নিয়ে তাঁরা পরীক্ষায় বসেছিলেন বলে জানা যাচ্ছে। ফলে সব মিলিয়ে ৬৫ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এঁদের মধ্যে ৩৫ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য কল্যাণী এইমসে পাঠানো হয়েছে। ২২ জনকে বারাসতের ওই হাসপতালোর একটি ঘরে আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা করানো হচ্ছে। তাঁদের কোয়ারেন্টিনে রাখার জন্য বিভিন্ন সামগ্রীও এদিন ওই হাসপতালে আনা হয়েছে।
এদিন ম্যারাথন বৈঠকে  নিপা ভাইরাসের মোকাবিলা করা থেকে চিকিৎসার প্রয়োজনীযয় ব্যবস্থা সহ সংক্রমণ যাতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে না পারে , সেই বিষয়গুলি নিয়ে কেন্দ্র এবং রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা বৈঠক করেছেন। নিপা নিয়ে সাধারণ মানুষকে কিভাবে সচেতন থাকতে হবে, সামান্য কিছু উপসর্গ হলে কি কি করণীয়, তা নিয়েও এদিন বৈঠক করেন আধিকারিকরা। যদিও বৈঠকের শেষে কেন্দ্র বা রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।নিপা ভাইরাস সংক্রান্ত বিষয় রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের ওয়েবসাইটে জানানো হবে বলে আশ্বাস মিলেছে।
এই প্রসঙ্গে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক  সমুদ্র সেনগুপ্ত জানিয়েছেন, আক্রান্ত দু'জনের কনট্রাক্ট ট্রেসিং করা হচ্ছে। সংখ্যাটা বাড়তে পারে। স্বাস্থ্য কর্মীদের সতর্ক করে বলা আছে,  অ্যাকিউট এনকেফ্যালাইটিস সিনড্রোম বা সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোমে কেউ আক্রান্ত হলে তাঁর কনট্রাক্ট ইতিহাস জানতে হবে। একইসঙ্গে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের বিধি মেনে সকল চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীকে ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে।
ওদিকে জানা গেছে, পূর্ব বর্ধমানের বাসিন্দা যে নার্সিং কর্মী  নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন তাঁর সংস্পর্শে যাঁরা এসেছিলেন তাঁদের ৪৮ জনকে চিহ্নিত করে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রতিও নজর দেওয়া হচ্ছে। এই খবর মঙ্গলবার জানিয়েছেন পূর্ব বর্ধমান জেলার সিওএমএইচ ডাঃ জয়রাম হেমব্রম। 
পূর্ব বর্ধমানে যে সব ব্যক্তি নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত মহিলা নার্সের সংস্পর্শে এসেছেন, তাঁদের তালিকা তৈরি করে এই ভাইরাসের কারণে নিভৃতাবাসে পাঠানো হয়েছে শুধু তাই নয়, তাঁদের উপর নজর রাখা হয়েছে। তাঁদের সন্দেহ করা হলেও তাঁদের মধ্যে এখনো কোনও উপসর্গ দেখা যায়নি। সিএমওএইচ জানিয়েছেন, ওই মহিলা নার্স বাড়িতে, ডাক্তারের চেম্বারে, কাটোয়া হাসপাতালে ও বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যাদের সংস্পর্শে এসেছেন তাঁদেরই কোয়ারেন্টিনে পাঠানোর ব্যবস্থা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত যে ৪৮ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে সবাই সুস্থ আছেন এমনটাই জানা গেছে স্বাস্থ্য প্রশাসনের তরফে। যদিও এই ৪৮ জন যে নিপা ভাইরাসে  আক্রান্ত তা এখনো নিশ্চিত নয়।

Comments :0

Login to leave a comment